সংবাদদাতা, কান্দি: খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বুধবার সকালে রাস্তায় মৃতদেহ রেখে বিক্ষোভ দেখালেন পরিবার সহ গ্রামের বাসিন্দারা। প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে রাস্তা অবরোধ করার ফলে চরম দুর্ভোগের শিকার হলেন যাত্রীরা। ঘটনাটি বহরমপুর সুলতানপুর ১১ নম্বর রাজ্য সড়কের বড়ঞা থানার মহিষগ্রাম মোড়ের। পরে সেখানে কান্দি এসডিপিও শাশ্রেক আম্বারদার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করলে বিক্ষোভ তুলে নেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বড়ঞা থানার বেলগ্রামের এক যুবকের বিয়ে ঠিক হয়েছিল মহিষগ্রামে। কিন্তু পরবর্তীতে সেই বিয়ে ভেঙে গিয়েছিল। তবে পাত্রপক্ষের লোকজন বিয়ে ভাঙার জন্য মহিষগ্রামের যুবক রাজেশ মিঞাকে সন্দেহ করেছিল।
এরপর গত ৯ জুন বেলগ্রামের পাত্রপক্ষের লোকজন লাঠিসোটা, লোহার রড নিয়ে রাজেশের বাড়িতে হামলা চালায়। বেধড়ক মারধর করা হয় কয়েকজনকে। মারধরের ফলে মারাত্মকভাবে জখম হন মহিষগ্রামের তারা মিঞা ও তাঁর কাকা প্রৌঢ় আমান মিঞা। মারধরের পর দু’জনকেই প্রথমে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পরে কলকাতায় রেফার করা হলে রাস্তাতেই মারা যান তারা মিঞা (৩৬)। এরপর মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে বেলগ্রামের পাত্রপক্ষের নয়জনের নামে খুনের অভিযোগ করা হয়।
এদিকে মারধরের ঘটনায় মারাত্মকভাবে জখম হয়েছিলেন মৃতের কাকা প্রৌঢ় আমান মিঞা (৫৮)। তিনি কিছুদিন কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর সম্প্রতি তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানেই মঙ্গলবার তিনি মারা যান।
এরপর এদিন ভোরে আমান মিঞার দেহ বাড়িতে ফিরতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের লোকজন। সকাল আটটা নাগাদ গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে ওই রাস্তা অবরোধ করেন। রাস্তায় দেহ ফেলে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বাসিন্দারা। পরে সেখানে বড়ঞা থানার পুলিস পৌঁছলে পুলিসের সঙ্গে বচসা শুরু হয়ে যায়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। পরে সেখানে বিশাল পুলিস সহ কান্দি এসডিপিও পৌঁছন। তিনি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ন্যায্য বিচার পাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এসডিপিও জানান, খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি করা হচ্ছে।
বিক্ষোভকারী সুমন মিঞা, রহমান কাজি প্রমুখ জানান, পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও বাকি অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাছাড়াও মহিষগ্রামের লোকজনকে বেলগ্রামে দেখলে পরে হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা চান পুলিস দ্রুত ব্যবস্থা নিক। যে কারণেই এদিন রাস্তা অবরোধ করা হয়েছিল। এদিকে সাত সকালে অবরোধের ফলে যাত্রীরা চরম সমস্যায় পড়েন। রাস্তার দু’দিকে যানবাহনের লম্বা লাইন পড়ে যায়। অনেকে বিকল্প রাস্তা হিসেবে বেলগ্রাম মোড় থেকে গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার করে বড়ঞা হয়ে করালীতলায় ফরাক্কা হলদিয়া বাদশাহী সড়কে উঠেন। প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে অবরোধ চলে। বহরমপুর সুলতানপুর রাজ্য সড়কে প্রৌঢ়ের দেহ রেখে বিক্ষোভ বাসিন্দাদের। -নিজস্ব চিত্র