সংবাদদাতা, ধূপগুড়ি: দুই দল ছাত্রীর মধ্যে প্রকাশ্যে মারপিট। বাধা না দিয়ে মারপিটে উৎসাহ জোগাল বাকি পড়ুয়া সহ প্রত্যক্ষদর্শীরা! যা দেখে চলে হাততালি। ঘটনাটির রিলস বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হতেই নিন্দায় সরব শিক্ষামহল।
সংবাদদাতা, ধূপগুড়ি: দুই দল ছাত্রীর মধ্যে প্রকাশ্যে মারপিট। বাধা না দিয়ে মারপিটে উৎসাহ জোগাল বাকি পড়ুয়া সহ প্রত্যক্ষদর্শীরা! যা দেখে চলে হাততালি। ঘটনাটির রিলস বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হতেই নিন্দায় সরব শিক্ষামহল।
শনিবার ধূপগুড়ির ডাউকিমারি বাজার সংলগ্ন এলাকায় জড়ো হয় দুই দল ছাত্রী। কোনও একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে তারা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। এরপর রাস্তার মাঝেই প্রকাশ্যে প্রথমে চুলোচুলি, পরবর্তীতে তারা মারপিটে জড়িয়ে পড়ে। যা দেখে রাস্তায় দাঁড়িয়ে যায় যানবাহন। মিনিট দশেক ধরে চলা এই মারপিট থামাতে কেউই এগিয়ে আসেননি। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মারপিট দেখেন পথচারী সহ পড়ুয়ারা। বাকি ছাত্রীরা হাততালি এবং মারপিটে উৎসাহ দেয়। অনেকেই আবার মোবাইলে ভিডিও করতে থাকেন।
ধূপগুড়ির ডাউকিমারি স্কুলের ইউনিফর্ম পরা ছাত্রীদের এই মারপিটের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে (সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’)। মারপিটে স্তম্ভিত অভিভাবকরা। প্রশ্ন উঠছে, এই স্কুল সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে কী বার্তা গেল।
মেয়েদের নজর কাড়তে গত মাসে ক্লাসরুমের ভিতরে শব্দবাজি ফাটিয়েছিল পড়ুয়ারা। ধূপগুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের ওই ঘটনায় জড়িত দ্বাদশ শ্রেণির পাঁচ পড়ুয়াকে পরবর্তীতে স্কুল থেকে সাসপেন্ড করেছে কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি স্কুলের ছাদে গাঁজা খেতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে ধূপগুড়ির খট্টিমারি স্কুলের একাদশ শ্রেণির দুই পড়ুয়া। এক অভিভাবক সুব্রত রায় বলেন, দুই দল ছাত্রী মারপিট করছে। খেলা দেখার মতো রাস্তায় দাঁড়িয়ে বাকিরা হাততালি দিয়ে মজা নিচ্ছে। আমরা অবক্ষয়ের পথে যাচ্ছি, এটাই তার প্রমাণ।
পরপর ধূপগুড়ির পড়ুয়াদের মধ্যে এমন কাণ্ড দেখে হতাশ শিক্ষানুরাগীরা। তাঁরা নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়কেই দায়ী করেছেন। ধূপগুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক গুণময় বন্দ্যোপাধ্যায় হতাশার সুরে বলেন, এটা সামাজিক অবক্ষয়। সকলকে রুখে দাঁড়াতে হবে। নাহলে এর শেষ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তার ঠিক নেই। সহপাঠীদের সঙ্গে এমন আচরণ করার তো কথা নয়। স্কুলে স্কুলে কাউন্সেলিং দরকার।
ডাউকিমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক রামকৃষ্ণ রায় বলেন, এই ঘটনাটা আমাদের স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে অনেকটা দূরে হয়েছে। পড়ুয়ারা কেন এমন করল, তা নিয়ে আলোচনায় বসব।