নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দুই সরকারি ডাক্তারকে চাকরি থেকে চিরতরে বরখাস্ত করা হল। তাঁদের বিরুদ্ধে ভুয়ো সার্টিফিকেট দেখিয়ে রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিল থেকে রেজিস্ট্রেশন নম্বর নিয়ে ডাক্তারি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই দুজন ডাক্তার রাজপুর সোনারপুর পুরসভার দুটি পৃথক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা করছিলেন।
দুই ভুয়ো চিকিৎসকের নাম ইউনুস হাসান ও উত্তম মাইতি। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক দুজনের নামে বরখাস্ত চিঠি ইস্যু করেছেন। বছর খানেক আগে কাজে যোগ দিয়েছিলেন দু’জনেই। যদিও তাঁদের ফোন বন্ধ থাকায় প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। জেলায় এই প্রথম এমন নজির তৈরি হল। সূত্রের খবর, পাথরপ্রতিমার ওই দুই যুবক বিহারের কলেজ থেকে পাশ করেছিলেন বলে দাবি করেন। ওই রাজ্যের মেডিকেল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট নিয়ে রাজ্য মেডিকেল কাউন্সিলে জমা দিয়েছিলেন। তার বিনিময়ে মিলেছিল এখনকার রেজিস্ট্রেশন নম্বর। কয়েক সপ্তাহ আগে রাজ্যে ভুয়ো ডাক্তারদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। তখনই এই দুজনের নাম সামনে আসে। এরপর এই নিয়ে নিশ্চিত হতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে বিহার মেডিকেল কাউন্সিলের কাছে দুজনের নাম পাঠিয়ে সত্যতা যাচাই করতে চিঠি দেওয়া হয়। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, এরকম কোনো পড়ুয়া ছিল না। ফলে যে নথি এখানে জমা দিয়েছিলেন তাঁরা সেটা পুরোপুরি ভুয়ো বলে প্রমাণিত হয়। এরপর দুজনকে তাঁদের সব কাগজপত্র নিয়ে সিএমওএইচ অফিসে হাজির হতেও বলা হয়েছিল। কিন্তু কেউই আসেননি। শেষমেশ সব কিছু বিচার করে দুজনের চাকরি বাতিল করতে জেলাশাসকের কাছে অনুমতি চাওয়া হয়। সেখান থেকে সবুজ সংকেত আসতেই এদিন টার্মিনেশনের চিঠি ইস্যু করে স্বাস্থ্য বিভাগ।