সংবাদদাতা, ধূপগুড়ি: রবিবার ভোরে মেখলিগঞ্জ থেকে দলগাঁওয়ের জঙ্গলে ফেরার পথে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারাল দু’টি দাঁতাল হাতি। মালগাড়ির ধাক্কায় প্রথমে একটি হাতি মারা যায়। সেই হাতিটির পাশেই মারাত্মক জখম অবস্থায় পড়েছিল আর একটি হাতি। রেল লাইন থেকে ২০০ মিটার দূরে হাতির দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় সাতসকালে ধূপগুড়ির ভোটপাড়ার নামাপাড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। জখম হাতিকে উদ্ধার করে বনদপ্তর মোরাঘাট রেঞ্জে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা শুরু করলেও বিকেলে সেটি মারা যায়। ঘটনাটি দুঃখজনক। তবে অতীতে কখনও সংশ্লিষ্ট এলকায় হাতির গতিবিধির রেকর্ড ছিল না বলে রেল জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার বীরপাড়ার দলগাঁও চা বাগান থেকে বেরিয়ে পাঁচটি হাতির একটি দল প্রথমে সরুগাঁও বাগানে ঢুকে পড়ে। শুক্রবার সেখান থেকে মেখলিগঞ্জের উছলপুকুরিতে যায়। শনিবার রাতে মেখলিগঞ্জ থেকে একের পর এক বসতি এলাকা পেরিয়ে রাতে ধূপগুড়ির গাদংয়ে চলে আসে। খবর পেয়ে ক’দিন ধরেই হাতির গতিবিধির উপর নজর রাখছিলেন বনকর্মীরা। এদিন ভোরের দিকে জলঢাকা নদী পেরিয়ে শালবাড়ির দিকে আসে হাতির দলটি। সেখান থেকে খলাইগ্রাম রেল স্টেশন সংলগ্ন লাইনে উঠে পড়ে। নাওয়াপাড়া ৭৩/৭ নম্বর পিলারের কাছে পণ্যবাহী ট্রেনের ধাক্কায় দু’টি হাতি মারাত্মকভাবে জখম হয়। বাকি হাতি তিনটি যদিও ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।
৪টে নাগাদ ঘটনাটি ঘটলেও ভোরের আলো ফোটার পর বিষয়টি সকলের নজরে আসে। খবর ছড়ালেই হাজার হাজার মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। বনদপ্তর, রেল, পুলিশ আধিকারিকরা চলে আসেন। সংকীর্ণ রাস্তার কারণে আহত হাতিটিকে উদ্ধার করতে কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যায়। ক্রেন এনে জখম হাতিকে তুলে মোরাঘাটে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হল না। স্থানীয়দের অভিযোগ, বনদপ্তর দেরিতে পৌঁছয়। তাই চিকিৎসা শুরু হয় অনেকটাই দেরিতে। ধূপগুড়ির স্কুল শিক্ষক তথা পরিবেশ কর্মী প্রদীপ্ত রায় বলেন, যদি জখম হাতিটির সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করা যেতে তাহলে হয়ত বাঁচানো সম্ভব হত।
জলপাইগুড়ি বনবিভাগের ডিএফও বিকাশ ভি বলেন, যেহেতু হাতির করিডরের বাইরে ঘটনাটি ঘটেছে, ফলে ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আগাম রেলকে কিছু জানানোর ছিল না। তাছাড়া ওই এলাকা দিয়ে যে হাতির দল রেল লাইন পার করবে সেটাও জানা যায়নি। প্রাপ্ত বয়স্ক দু’টি হাতির মৃত্যু হয়েছে।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানিয়েছেন, আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের অধীনে শালবাড়ি ও খলাইগ্রামের মাঝে ঘটনাটি ঘটে। এলাকাটি বনাঞ্চল থেকে অনকেটাই দূরে। আতীতে সেখানে হাতি আসার কোনও রেকর্ড নেই। হাতির করিডরও নয় জায়গাটি। তাছাড়া বনদপ্তর থেকে হাতি চলাচলের ব্যাপারেও রেলকে জানানো হয়নি। ভোর ৪টে ৫ মিনিট নাগাদ লাইনে তিনটি হাতি উঠে পড়ে। দু’টি হাতি ইঞ্জিনের ধাক্কায় জখম হয়। ঘটনাটি দুঃখজনক। আমরা বনদপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছি।