Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চাকরি বাতিল দুই শিক্ষাকর্মী, দুই শিক্ষকের ঘণ্টা বাজাতে হচ্ছে বাকি শিক্ষকদেরই

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্কুলগুলিতে ত্রাহি ত্রাহি রব। শিক্ষক নেই, শিক্ষাকর্মী নেই। একেকজনের ঘাড়ে গাদা গাদা কাজের বোঝা।

চাকরি বাতিল দুই শিক্ষাকর্মী, দুই শিক্ষকের ঘণ্টা বাজাতে হচ্ছে বাকি শিক্ষকদেরই
  • ১১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্কুলগুলিতে ত্রাহি ত্রাহি রব। শিক্ষক নেই, শিক্ষাকর্মী নেই। একেকজনের ঘাড়ে গাদা গাদা কাজের বোঝা। মল্লারপুরের কালিকাপুর কেসি হাইস্কুলে দেখা গেল শিক্ষক কম থাকায় দু’টি করে পরীক্ষার হল গার্ড দিচ্ছেন একজনই শিক্ষক।

Advertisement

এই হাইস্কুলে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিনশো পড়ুয়া। এতদিন অবধি সাতজন শিক্ষক, শিক্ষিকা নিয়ে চলছিল স্কুলটি। শিক্ষক অপ্রতুল হওয়ায় নিয়মবিরুদ্ধভাবে দুজন শিক্ষাকর্মীকেও ক্লাস নিতে হয়েছে। এবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে এই স্কুলের দুজন শিক্ষক ও দুই শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হওয়ায় শিক্ষকের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে পাঁচ। বাংলা ও প্রকৃতি বিজ্ঞানের শিক্ষক সংখ্যা শূন্য। তার উপরে এক শিক্ষক চেন্নাইয়ে গিয়েছেন চিকিৎসা করাতে। অর্থাৎ কার্যত শিক্ষক সংখ্যা এখন চার। দিশেহারা অবস্থা কর্তৃপক্ষের।  স্কুল খোলা থেকে বন্ধ, ঘণ্টা বাজানো সবই করতে হচ্ছে ওই চার শিক্ষককে। এদিকে স্কুলে চলেছে ইউনিট পরীক্ষা। যার ফলে দু’টি করে পরীক্ষার হলে একজন করে শিক্ষক গার্ড দিচ্ছেন। স্কুলের শিক্ষক বিকাশচন্দ্র মণ্ডল বলেন, এমনিতেই স্কুলে পডুয়ার তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা কম ছিল। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি আরও করুণ। স্কুল খোলা থেকে ঘণ্টা বাজানো সবই আমাদের চার শিক্ষককে করতে হচ্ছে। স্কুল সাফাই করার মতোও কেউ নেই। স্থানীয় একজনকে রাখা হয়েছিল। তিনিও আসছেন না। প্রধান শিক্ষক নবকুমার ঘোষ বলেন, ওই দুই শিক্ষাকর্মী স্কুলের স্বার্থে ক্লাস নিতেন। তাঁদের মধ্যে একজন এডুকেশনে এমএ এবং বিএড। আর পিওন ছিলেন বি কম পাশ। প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব সামলে আমিও ক্লাস নিতাম। এখন প্রধান শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীদের কাজ সামলে ক্লাসও নিতে হবে। কিন্তু বাংলা এবং প্রকৃতি বিজ্ঞানের শিক্ষক কোথা থেকে পাব? আগে পর্যাপ্ত শিক্ষক না হলেও কোনরকমে চলছিল। কিন্তু এই চারজনের চাকরি চলে যাওয়ায় শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে ক্লাস শুরু হবে। তখন স্কুল চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। পড়ুয়াদের উপর প্রভাব পড়বে। যে চারজন আছেন তাঁদের কেউ শরীরিক অসুস্থতা বা অন্য কারণে ছুটি নিলে কী যে হবে তা ভেবে পাচ্ছি না। জেলা শিক্ষাদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, আমরা নিজের থেকে কিছুই করতে পারব না। শিক্ষাদপ্তরের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ