Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কালীগঞ্জে আমিনুল সহ ধৃত দুই মাদক কারবারি, সীমান্তে মাদক সিন্ডিকেটে ফের পলাশীপাড়া যোগ

মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে হেরোইন তৈরির আঁতুরঘর পলাশীপাড়ার ফের যোগ পাওয়া গেল।

কালীগঞ্জে আমিনুল সহ ধৃত দুই মাদক কারবারি, সীমান্তে মাদক সিন্ডিকেটে ফের পলাশীপাড়া যোগ
  • ২৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে হেরোইন তৈরির আঁতুরঘর পলাশীপাড়ার ফের যোগ পাওয়া গেল। তাতে মুর্শিদাবাদের লালগোলার হেরোইনের কারবার ফের মাথাচাড়া দিয়েছে বলেও মনে করছেন গোয়েন্দারা। কারণ, শনিবার রাতে কালীগঞ্জ থানার পুলিশের জালে ধরা পড়েছে নদীয়া-মুর্শিদাবাদ জেলার কুখ্যাত ও প্রভাবশালী মাদক কারবারি আমিনুল ইসলাম। সেইসঙ্গে পুলিশ তার শাগরেদ মনিরুল হককে ধরেছে। তাদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত হয়েছে দু কেজি হেরোইন। সম্প্রতিকালে এই বিপুল পরিমাণ হেরোইন একসঙ্গে বাজেয়াপ্ত হয়নি। ধৃতদের রবিবার কৃষ্ণনগর আদালতে তোলা হলে তাদের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। আজ, সোমবার তাদের ফের আদালতে তোলা হবে বলে জানা গিয়েছে। 

Advertisement

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই মাদক পলাশীপাড়া থানার পলসুন্ডা এলাকায় হাতবদলের কথা ছিল। নদীয়া জেলার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পলাশীপাড়াকে কেন্দ্র করে মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলা ডিএসপি দেবাশিস চট্টরাজ বলেন, আমাদের কাছে খবর আসে, একটি গাড়িতে প্রচুর পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদক পাচার হচ্ছে। সেইমতো আমরা বিভিন্ন জায়গায় নাকাচেকিং শুরু করি। অভিযান চালিয়ে দু’কেজি হেরোইন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। 
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত আমিনুল লালগোলা এলাকার একজন বড় মাদক কারবারি। এর আগে সে মাদক মামলায় ১৩ বছর জেল খেটেছে। সম্প্রতি জেল থেকে ছাড়া পায় আমিনুল।‌ শনিবার সকালেই উত্তর পূর্ব ভারত থেকে হেরোইনের কাঁচামাল নিয়ে এসেছিল লালগোলাতে। রাতেই তা পলাশীপাড়ার পলসুণ্ডা এলাকায় হাতবদলের কথা ছিল। সেইমতো একটি লাল চারচাকা গাড়িতে তারা লালগোলা থেকে পলাশিপাড়া আসছিল। ওই হেরোইন লুকানো ছিল চালকের সিটের নীচে। গাড়ি চালাচ্ছিল আমিনুলের জামাই মনিরুল। তারও বাড়ি লালগোলা এলাকাতেই। আগেই এই মাদক পাচারের খবর পান গোয়েন্দারা। সেইমতো কালীগঞ্জের মীরা ফাঁড়ির পুলিশ এবং স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ অভিযান চালায়। পলাশীপাড়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় চারচাকা গাড়িটি আটকে তল্লাশি চালালে ওই বিপুল পরিমাণ হেরোইন উদ্ধার হয়। 
একসময় নদীয়া-মুর্শিদাবাদ জেলার হেরোইন হাব ছিল লালগোলা। বর্তমানে তার পরিবর্তে ‘মাদক হাব’ হয়ে উঠেছে পলাশীপাড়া থানার নলদহ এলাকা। অনেকে বলেন, এখন এই নলদহ গ্রাম দক্ষিণবঙ্গে  হেরোইন কারবারের এপিসেন্টার। এতদিন পলাশীপাড়ার হেরোইন কারবারিরা সরাসরি মণিপুর সহ উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে কাঁচামাল আনিয়ে, এখানেই হেরোইন তৈরি করে বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করত। সম্প্রতি মাদক মামলায় প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি পলাশিপাড়ার সাবিরকে দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে গোয়েন্দারা। পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান সহ বিভিন্ন দেশের জঙ্গি গ্রুপের সঙ্গেও তার যোগ পেয়েছে গোয়েন্দারা। তবে কালীগঞ্জের এই ঘটনার পর ফের প্রশ্ন উঠছে, লালগোলা কি ফের নিজের পুরোনো রূপে ফিরে আসছে? কারণ লালগোলার হেরোইন ব্যবসা আমিনুলদের হাত ধরেই এক সময় শিখরে পৌঁছেছিল। লালগোলা ও পলাশীপাড়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে কোনও সিন্ডিকেট মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। 
পুলিশের এক আধিকারিকের কথায়, কালীগঞ্জের বাজেয়াপ্ত হেরোইনের সঙ্গে ‘পাওয়ার’ মেশানোর কথা ছিল। তারজন্য পলসুণ্ডাতে আনা হচ্ছিল। পাওয়ার’ মিশিয়ে চার কেজি সস্তার হেরোইন তৈরির পরিকল্পনা ছিল আমিনুলদের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ