সংবাদদাতা, বোলপুর: নকল সোনার কয়েনের কারবারকে ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল লাভপুরের হাতিয়া গ্রাম। শুক্রবার রাতে গ্রাম দখলকে কেন্দ্র করে নকল সোনার কয়েন কারবারির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দফায় দফায় ব্যাপক বোমাবাজি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বোমা শেষ হলে নতুন করে বোমা বাঁধতে গিয়ে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। তাদের মধ্যে ১০ বছরের একটি নাবালকও রয়েছে, যার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। মৃতদের নাম শেখ সাবের আলি (২৩) ও শেখ পিয়ার আলি ওরফে আলমগির (১৮)। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। রাত থেকে এই বোমাবাজির ঘটনা চললেও দেরি করে ওই গ্রামে পুলিস ঢুকেছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। তবে পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেজন্য গোটা এলাকায় টহল জারি রেখেছে পুলিস। নকল সোনার কয়েনের কারবারের জন্য কুখ্যাত লাভপুরের হাতিয়া গ্রাম। দীর্ঘদিন ধরেই দুষ্কৃতীরা বুক ফুলিয়ে ওই গ্রামে নকল সোনার কয়েনের কারবার চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ। তাদের কাছে বহু মানুষ প্রতারিতও হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নকল সোনার কয়েনের কারবারি শেখ মহিউদ্দিন ও তার অনুগামীদের সঙ্গে শেখ আবু কালাম ওরফে বাদলের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর মধ্যে এই কারবারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলছিল। মাস চারেক আগে বাদল গোষ্ঠীর চাপে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হয় মহিউদ্দিন ও তার দলবল। শুক্রবার রাতে তারা ফের গ্রামে ঢোকার চেষ্টা করতেই বাদল গোষ্ঠী বাধা দেয়। ফলে, শুরু হয় সংঘর্ষ ও বোমাবাজি। অভিযোগ, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ গ্রামের এক পুকুরপাড়ে বাদল গোষ্ঠীর কয়েকজন বোমা বাঁধছিল, সেই সময় বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই সাবের ও আলমগিরের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহতদের সিউড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে অসমর্থিত সূত্রের খবর মৃতের সংখ্যা পাঁচজন। তাদের মধ্যে বেশ কিছু দেহ লোপাট করা হয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। বোমা বাঁধার অভিযোগ অস্বীকার করেছে মৃতদের পরিবার। তাদের দাবি, ছেলেরা মাঠে বসেছিল, তখন মহিউদ্দিন গোষ্ঠী হঠাৎ বোমা ছুড়লে তারা মারা যায়।



