নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ডান্স হাঙ্গামা অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে থেকে জানা যাচ্ছে, রাত ৩টা নাগাদ তারে পা জড়িয়ে স্ট্যান্ড লাইট পড়ে যায়। তখনই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে। তারপরই মেন সুইচ অফ করে দেওয়া হয়। তাতে গোটা অনুষ্ঠানস্থল অন্ধকার হয়ে যায়। এই ভিডিও সামনে আসার পরেও খুনের অভিযোগে অনড় বিজেপি। খেজুরি থানার পশ্চিম ভাঙনমারি গ্রামে ডান্স হাঙ্গামা চলাকালীন দু’জনকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে আজ, সোমবার খেজুরি বন্ধের ডাক দিয়েছে বিজেপি। দীঘাগামী ১১৬বি জাতীয় সড়ককে এই বন্ধের আওতা থেকে বাইরে রাখা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, মৃত্যুর আসল কারণ প্রকাশ্যে আসার পরও কেন হাওয়া গরম করতে বিজেপির এই সংকীর্ণ রাজনীতি?
শনিবার রাতের ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে পুলিসের ভূমিকা নিয়েও। কারণ, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও মেলায় জুয়ার আসর বসিয়ে সেই টাকায় ডান্স হাঙ্গামার মতো অশ্লীল নাচগান হচ্ছে। অভিযোগ, পুলিসের কাছে খবর থাকলেও তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে না। রাত জেগে সেই ডান্স হাঙ্গামার আসরে ভিড় করছেন ছাত্র-যুব, প্রৌঢ় এবং বৃদ্ধরাও। পশ্চিম ভাঙনমারিতে ডান্স হাঙ্গামা মঞ্চের কাছেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ২৩ বছরের সুজিত দাস এবং ৬৫ বছরের সুধীরচন্দ্র পাইকের মৃত্যু হয়েছে। ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ কীভাবে অশ্লীল নাচ দেখতে অত রাতে ওই আসরে ছিলেন, সেই প্রশ্নও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে।
বিজেপির পক্ষ থেকে গাড়িতে মাইক বেঁধে খেজুরি বন্ধের সমর্থনে প্রচার চালানো হয়। খেজুরির বিধায়ক বিজেপির শান্তনু প্রামাণিক বলেন, দু’জনকে খুনের প্রতিবাদে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খেজুরি বন্ধ হবে। আমরা চাই বন্ধে স্কুল কলেজ, দোকানপাট, হাটবাজার এবং অফিস বন্ধ থাকুক। আমরা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাই। কাঁথি সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি পীযূষকান্তি পণ্ডা বলেন, খেজুরিতে দু’জনের মৃত্যু দুঃখজনক। একটি অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার সময়ের একটি ভিডিও ফুটেজে সেটা প্রকাশ্যে এসেছে। তারপরও বিজেপি মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করছে। খেজুরিতে বন্ধের কোনও প্রভাব পড়বে না। জনজীবন স্বাভাবিকই থাকবে। সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হিমাংশু দাস বলেন, ইলেক্ট্রিক শকে মৃতদের নিয়ে নোংরা রাজনীতি করছে বিজেপি। তারা খেজুরিতে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। আমরা চাই, পুলিস ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করুক।