Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গভীর রাতে গাড়ি করে এসে দু’টি এটিএম লুট

দ্বিতীয় ঘটনাটি দেউলিহাটের। দু’টি ঘটনাটিই একই দুষ্কৃতী গ্যাংয়ের কাজ বলে অনুমান করা হচ্ছে

গভীর রাতে গাড়ি করে এসে দু’টি এটিএম লুট
  • ১৫ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: মঙ্গলবার গভীর রাতে দুঃসাহসিক অপারেশন! রামনগর থানা এলাকায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের জোড়া এটিএম কেটে ৪০ লক্ষ টাকা লুট করে চম্পট দিল দুষ্কৃতীরা। প্রথম ঘটনাটি ঘটে বালিসাই বাজারে। দ্বিতীয় ঘটনাটি দেউলিহাটের। দু’টি ঘটনাটিই একই দুষ্কৃতী গ্যাংয়ের কাজ বলে অনুমান করা হচ্ছে। বুধবার ভোরে জানাজানি হয়। বিকেলে ব্যাঙ্কের তরফে রামনগর থানায় এফআইআর করা হয়। তাতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবারই দু’টি এটিএম মিলিয়ে  ৪০ লক্ষ টাকা ভরা হয়েছিল। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লুটের ঘটনা ঘটেছে। দু’টি মেশিন থেকেই সমূহ টাকা খোয়া গিয়েছে। রামনগর থানার ওসি বুদ্ধদেব মাল বলেন, ‘দু’টি এটিএম থেকে টাকা লুটের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। দুষ্কৃতীদের খোঁজে জোর তল্লাশি শুরু চলছে। পার্শ্ববর্তী থানাগুলিকে অ্যালার্ট করা হয়েছে।’ 

Advertisement

তদন্তে মেনেই পুলিস দু’টি এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে। তাতে দেখা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত তখন ২টা ১০মিনিট। বালিসাই বাজার এলাকা শুনশান। একটি ঝকঝকে স্করপিও থেকে নামে তিনজন। সবারই সাদা পোশাক পরা। নেমেই তারা সোজা ঢুকে পড়ে এটিএম কাউন্টারে। সেখানে বসানো সিসি ক্যামেরায় রং ছিটিয়ে দেয়। তারপর অপারেশন শুরু। মাত্র ন’মিনিটের মধ্যেই মেশিন কেটে সব টাকা লুট করে নেয় দুষ্কৃতীরা। কাটতে গিয়ে মেশিনে আগুনও ধরে যায়। ব্যাগে টাকা ভরে তড়িঘড়ি কাউন্টার ছাড়ে তারা। গাড়িতে উঠেই চম্পট দেয়।
দুষ্কৃতীদের পরের গন্তব্য দেউলিহাট। বালিসাই থেকে দেউলিহাটের দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার। জাতীয় সড়ক দিয়ে গাড়ি ছুটিয়ে সেখানে পৌঁছয় ওই তিন দুষ্কৃতী। সেখানেও একই কায়দায় অপর একটি এটিএমে অপারেশন চালায়। কাউন্টারের পাশেই গাড়িটি রেখেছিল তারা। পুরো টাকা বের করে দুষ্কৃতীরা ফের গাড়িতে উঠে পালিয়ে যায়। দু’টি এলাকারই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নিখুঁতভাবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। দেউলিহাটে অপারেশন চালানোর পর দুষ্কৃতীরা ঠিক কোন দিকে গিয়েছে, সেটাই জানার চেষ্টা করছেন তাঁরা। 
রামনগর-২ ব্লকের সদর বালিসাই। এখানকার বাজার এলাকাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অসংখ্য দোকানদার থেকে সাধারণ মানুষ ওই এটিএম থেকে টাকা তুলতেন। লুট হওয়ার খবর পেয়ে লোকজন ভিড় করেন। বাজারে মাছের আড়তে কাজ করেন প্রদীপ বেরা। তিনি বলছিলেন, ‘ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ বাজারে এসে জানতে পারি, এটিএম মেশিন কেটে টাকা লুট হয়ে গিয়েছে। এই বাজারে নাইট গার্ড থাকে। ঘটনার সময় তিনি কোথায় ছিলেন জানি না।’ সেই সঙ্গে প্রদীপের অভিযোগ, ‘রাতে পুলিস টহল দেওয়ার সময় মদ্যপদের ধরতে বেশি সক্রিয় থাকে। তাদের থেকে মোটা অঙ্কের জরিমানা আদায় করা হয়। কিন্তু, চুরি, ডাকাতি ঠেকাতে ব্যর্থ।’ এটিএম কাউন্টার লাগোয়া মুদির দোকান সত্যব্রত জানার। তাঁর কথায়, ‘এটিএম কাউন্টারে কোনও নিরাপত্তারক্ষী  থাকতেন না। তবে, বালিসাই বাজারে নৈশপ্রহরী রয়েছেন। তিনি সম্ভবত বাজারের অন্য কোনও দিকে থাকার সুযোগ নিয়ে এটিএম লুট করেছে দুষ্কৃতীরা। মাত্র ন’মিনিটে অপারেশন। নৈশপ্রহরী সম্ভবত টের পাননি। এখান থেকে প্রচুর মানুষজন টাকা তুলতেন। এখন ব্যাঙ্কে গিয়ে লেনদেন করতে হবে।’ 
এর আগেও রামনগর বাজারে অন্য একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এটিএম থেকে চুরির ঘটনা ঘটেছিল। তমলুক শহরে নিমতৌড়িতে একটি এটিএম কাউন্টার থেকে এক লক্ষ টাকা চুরির ঘটনায় তদন্তে নেমে পুলিস উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থেকে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে। সেই যুবক রানমগর বাজারের এটিএম চুরিতেও জড়িত ছিল বলে অভিযোগ। সেজন্য রামনগর থানার পুলিস তাকে হেফাজতে নিয়েছিল। তবে, মঙ্গলবার রাতে জোড়া এটিএম চুরির পাণ্ডারা বেশ পেশাদার বলেই পুলিসের ধারণা। পাশাপাশি, পূর্বের ঘটনাগুলির সঙ্গে মিলিয়ে দুষ্কৃতীদের দ্রুত চিহ্নিত করতে তৎপর পুলিস।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ