


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: গত ৩১ ডিসেম্বর বর্ষবরণের রাতে এলাকার দুষ্কৃতীদের অসামাজিক কাজের প্রতিবাদ করেছিলেন টিটাগড় পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের তরুণ টিএমসিপি কর্মী আকাশ চৌধুরী। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিস গ্রেপ্তার করেছিল পবন রাজভড়কে। কিছুদিন আগে সে জেল থেকে থেকে ছাড়া পেয়ে আকাশকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। দোলের দুপুরে রং খেলার নামে টিটাগড়ের নন্দ বসু রোডের জয়শ্রী ফার্টিলাইজার সংলগ্ন এলাকায় একের পর এক ছুরির কোপে মৃত্যু হল আকাশ চৌধুরীর (২২)। তাঁকে খুনের অভিযোগে পবন ও তার বাবা রাজকুমার রাজভড়কে গ্রেপ্তার করেছে খড়দহ থানার পুলিস। ধৃত দু’জনকে শনিবার বারাকপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক ১০ দিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন।
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত আকাশ মহাদেবানন্দ কলেজের থার্ড ইয়ারের ছাত্র। তাঁর সঙ্গে পবন রাজভরের পুরনো বিবাদ। দোলের দিন সকালেও আকাশ ও পবনের মধ্যে গণ্ডগোল হয়েছিল। যদিও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে তখন বিবাদ মিটেও যায়। দুপুরের দিকে জয়শ্রী ফার্টিলাইজার সংলগ্ন এলাকায় চলছিল দোল খেলা। সেখানেই রং খেলার জন্য ডেকে আনা হয় আকাশকে। সেখানে বিবাদ বাঁধে দু’জনের। সেই সময়ই পবন আচমকা ধারালো ছুরি দিয়ে আকাশকে এলোপাতাড়ি কোপায় বলে অভিযোগ। রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন আকাশ। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় খড়দহের বলরাম সেবা মন্দির হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্মীদের এই পর্বে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় বেলঘড়িয়ার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে। কিন্তু তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় আর জি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় ওই তৃণমূল ছাত্র পরিষদ কর্মীর।
নিহত আকাশ স্থানীয় কাউন্সিলার বিকাশ সিংয়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। টিটাগড় পুরসভার চেয়ারম্যান তৃণমূল নেতা কমলেশ সাউ জানিয়েছেন, ‘পবন একজন দুষ্কৃতী। কদিন আগেই সে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে। আকাশ ও পবন দু’জনেই একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা। আগে থেকেই তাদের মধ্যে কোন বিবাদ চলছিল বলেই এলাকাবাসীর থেকে জেনেছি।’ সূত্রের খবর, বাইকে পবনের সঙ্গে আরও দু’জনকে দেখা গিয়েছিল। সেই দুজনকেও সন্দেহের তালিকায় রেখে খোঁজ শুরু করেছে পুলিস। পবন ও তার বাবা বিজেপি নেতা অর্জুন সিংয়ের ঘনিষ্ঠ বলে স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে। অবশ্য সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অর্জুন সিং। খুনের ঘটনার জেরে থমথমে এলাকায় শনিবারও পুলিস পিকেট রয়েছে। পুলিস কমিশনার অজয় ঠাকুর বলেন, পুরানো শত্রুতা থেকেই এই ঘটনা। দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজ চলছে।