Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নারায়ণগড়ে স্ত্রীর প্রেমিককে কুপিয়ে খুনে গ্রেপ্তার দু’জন, মৃতের স্ত্রীর আঁচলেই রক্তমাখা হাঁসুয়া মুছল খুনি

পরকীয়ার সম্পর্কের জেরে হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ডে শোরগোল পড়েছে নারায়ণগড়ে। বাড়িতে চড়াও হয়ে হাঁসুয়া দিয়ে স্ত্রীর প্রেমিককে খুন করা হয়।

নারায়ণগড়ে স্ত্রীর প্রেমিককে কুপিয়ে খুনে গ্রেপ্তার দু’জন, মৃতের স্ত্রীর আঁচলেই রক্তমাখা হাঁসুয়া মুছল খুনি
  • ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বেলদা: পরকীয়ার সম্পর্কের জেরে হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ডে শোরগোল পড়েছে নারায়ণগড়ে। বাড়িতে চড়াও হয়ে হাঁসুয়া দিয়ে স্ত্রীর প্রেমিককে খুন করা হয়। তারপর সেই রক্তমাখা অস্ত্র মৃতের স্ত্রীর শাড়ির আঁচলেই মুছে দর্পের সঙ্গে বেরিয়ে যায় খুনি। শুক্রবার রাতে এঘটনায় মূল অভিযুক্ত অভয় হেমরম ও তার ছেলে স্বদেশ হেমরমকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।  শনিবার ধৃতদের খড়্গপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১০দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম কার্তিক শাসমল(৪৭)। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ছেলে মুম্বইয়ে কাজ করেন। অভিযোগ, কয়েকমাস আগে অভয়ের স্ত্রীর সঙ্গে কার্তিক বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক জড়িয়ে পড়েছিল। অভয়কে কাজের সূত্রে প্রায়ই এলাকার বাইরে থাকতে হত। সেই সুযোগেই কার্তিক অভয়ের স্ত্রীর সঙ্গে মেলামেশা করতেন। এনিয়ে মনে মনে চরম আক্রোশ পুষে রেখেছিল অভয়। শুক্রবার রাতে গ্রামের সবাই যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন ছেলে স্বদেশকে নিয়ে অভয় হানা দেয় কার্তিকের বাড়িতে। স্বদেশ বাড়ির দরজা ভেঙে দিলে অভয় ভিতরে ঢোকে। সেসময় কার্তিকবাবু মশারি খাটিয়ে অঘোরে ঘুমোচ্ছিলেন। তাঁর উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে প঩ড়ে অভয়। কার্তিকবাবুকে কোপানোর পর তাঁর স্ত্রী মঞ্জু শাসমলের আঁচলে রক্ত মাখা হাঁসুয়া মুছে নির্বিকার চিত্তে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় অভয়।
মঞ্জুদেবী বলেন, হঠাৎ বিকট শব্দে দরজা ভেঙে যায়। এরপরই অভয় ঘরে ঢোকে। কান্নায় ভেঙে প঩ড়ে মঞ্জুদেবী বলেন, ‘আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ও মশারি ছিঁড়ে হাঁসুয়া দিয়ে আমার স্বামীর গায়ে এলোপাথাড়ি কোপ বসাতে থাকে। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে আমার গলায় পা দিয়ে চেপে ধরে রাখে। স্বামীকে খুনের পর আমার শাড়ির আঁচলে রক্তমাখা হাঁসুয়া মুছে বেরিয়ে গেল। ছেলেটা বাইরে থাকে। মেয়েটার বিয়ে হয়ে গিয়েছে। এখন আমি কীভাবে বাঁচব? আমি বিচার চাই।’
ঘটনার পর মঞ্জুদেবীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। তাঁরা থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে কার্তিকবাবুকে রক্তাক্ত অবস্থায় মকরামপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভয় নিজের ছেলেকে স্ত্রীর পরকীয়ার কথা জানিয়ে কার্তিকবাবুকে খুনের ছক কষেছিল। রাতেই গ্রাম থেকে দু’জনকে পাকড়াও করা হয়েছে। রক্তমাখা কাপড় বাজেয়াপ্ত করা হলেও খুনে ব্যবহৃত হাঁসুয়াটি এখনও উদ্ধার হয়নি। সেটি উদ্ধার করতে ধৃতদের হেপাজতে নিয়ে জেরা চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ