Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

৪ দিনে দু’বার বৃদ্ধি, আরও দামি জ্বালানি

ভোট মিটতেই গত শুক্রবার একধাক্কায় বেড়েছিল লিটারে ৩ টাকা। চারদিনের মাথায় মঙ্গলবার ফের বাড়ল পেট্রল-ডিজেলের দাম। রাজধানী দিল্লিতে পেট্রলের দাম বাড়ল প্রতি লিটারে ৮৭ পয়সা।

৪ দিনে দু’বার বৃদ্ধি, আরও দামি জ্বালানি
  • ২০ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভোট মিটতেই গত শুক্রবার একধাক্কায় বেড়েছিল লিটারে ৩ টাকা। চারদিনের মাথায় মঙ্গলবার ফের বাড়ল পেট্রল-ডিজেলের দাম। রাজধানী দিল্লিতে পেট্রলের দাম বাড়ল প্রতি লিটারে ৮৭ পয়সা। কলকাতায় ৯৬ পয়সা। একইভাবে বাড়ল ডিজেলও। দিল্লিতে প্রতি লিটারে ৯১ পয়সা। কলকাতায় ৯৪ পয়সা। আগামী দিনে আরও বাড়বে বলেই পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে। ক্রেতার গা সইয়ে কয়েকদিন পরপর ৮০ পয়সা থেকে এক টাকা করে এই পর্বে আট টাকা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে বলেই খবর। ভারত পেট্রেলিয়াম, ইন্ডিয়ান অয়েল এবং হিন্দুস্তান পেট্রলিয়ামের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানির দাবি, পশ্চিম-এশিয়ায় উদ্ভূত যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে তাদের দিনে গড়ে ৭৫০ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। ফলে দাম না বাড়িয়ে উপায় নেই। কিন্তু এতে যে আগামী দিনে আরো মূল্যবৃদ্ধির আঘাত সাধারণ মানুষের উপর আছড়ে পড়বে, তার দায় কে নেবে? সরব বিরোধীরা। 

Advertisement

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে টার্গেট করে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের তোপ, ‘জ্বালানি ব্যবহারে জনতাকে সংযত হওয়ার উপদেশ দিয়ে নিজে চলে গিয়েছেন বিদেশ। ভারত সমস্যার মুখে, আর তা সামাল দিতে ব্যর্থ স্বঘোষিত বিশ্বগুরু।’ কংগ্রেসের দাবি, জ্বালানিতে আত্মনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু যে ওএনজিসি তৈরি করেছিলেন, মোদি সরকার তার গুরুত্ব কমাচ্ছে। তেল উৎপাদনের গতি হারাচ্ছে। কংগ্রেস মুখপাত্র শক্তিসিং গোহিল এদিন বলেন, ‘মুম্বই হাই, নীলম এবং হীরা ফিল্ড থেকে দেশের ৫৯ শতাংশ তেল-গ্যাস আসে। কিন্তু এই কূপগুলি থেকে তেল-গ্যাস বের করতে যে ওয়াটার ইনজেকশন দরকার, তা ২০-৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে উৎপাদন মার খাচ্ছে। বিদেশ নির্ভরতা বাড়ছে। তাও রাশিয়ার থেকে অপেক্ষাকৃত সস্তায় তেল না কিনে কেন ভেনিজুয়েলা থেকে কেনা হচ্ছে?’ 
জ্বালানি খরচ বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সিংহভাগ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয় গাড়ির সংখ্যা কমিয়েছেন, নয় তো অটো, ই-রিকশ, সাইকেল চড়ে চিত্র সাংবাদিক ডেকে ছবি তুলিয়ে প্রচার করছেন। কেন্দ্রীয় পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গাদকারির দাওয়াই, ‘আমি তো হাইড্রোজেন চালিত গাড়ি চড়ি। নয় তো ইথানল। তাই আমার পরামর্শ, অন্যরাও পেট্রল গাড়ি ছেড়ে অন্য জ্বালানি ব্যবহার করুক। তাহলে দূষণ কমবে। জ্বালানিও বাঁচবে।’ কিন্তু প্রশ্ন হল, আম জনতার কি হাইড্রোজেন বা ইথানলে চলা দামি গাড়ি কেনার ক্ষমতা আছে? রাজ্যের ডবল ইঞ্জিন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের অবশ্য বক্তব্য, ‘মনমোহন সিংয়ের আমলে কত বেড়েছে, আর মোদিজির আমলে কত, তুলনা করে দেখুন। এক দেড় বছর ধরে তেলের দাম দুনিয়াতে বেড়েছে। অনেক সামাল দিয়েও পরিস্থিতির জেরে দাম বেড়েছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ