হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
নীলনদের দেশে কায়রো শহরের নিজস্ব একটা প্রাচীন গন্ধ আছে। আর তার সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশ কয়েক ধরনের গন্ধ নাকে এসে লাগে। বিশেষত আপনি যদি শহরের পুরনো অংশের রাজপথ বা অলিগলি দিয়ে হাঁটেন তবে আশপাশ থেকে সে গন্ধ আপনার নাকে এসে লাগবেই। প্রতিটি শহরের রাস্তারই একটা আলাদা গন্ধ থাকে। সে রাস্তা আমাদের দেশই হোক বা বিদেশে। ভোরবেলা কায়রো শহরের রাস্তা ধরে হাঁটলে নাকে এসে লাগে রুটির গন্ধ। না, পাউরুটি নয়, ঠিক আমাদের দেশের মতোই হাতরুটির। বেলা খানিকটা বাড়লে অর্থাৎ বেলা ন’টা-দশ’টা নাগাদ নাকে এসে লাগতে থাকে তামাকের সুগন্ধ। মিশরীয় পুরুষরা, বিশেষত বৃদ্ধদের দেখে মনে হয়েছে তাঁরা তামাক সেবন করতে বিশেষ পছন্দ করেন। আবার একই রাস্তায় সন্ধ্যায় আপনি হাঁটলে পাবেন আতর বা পারফিউমের সুবাস। বহু পারফিউমের দোকানও আছে কায়রো শহরের নানা জায়গাতে। প্যারিসের মতো কায়রো থেকেও অনেক পর্যটক পারফিউম কিনে নিয়ে যান নিজের দেশে। মিশরের এ প্রজন্মের যুবক-যুবতীরা বেশ কেতাদুরস্ত। অত্যন্ত ঝকঝকে আধুনিক পোশাক পরে তারা সারাদিন কাজ সেরে, স্নান সেরে বেশ সেজেগুজে রাস্তায় আড্ডা দিতে বের হয়। মেয়েদের কারও পরনে লং কোট, মাথায় বাহারি স্কার্ফ, ছেলেদের কারও পরনে স্যুট। প্রত্যেক মরু শহরের মতনই কায়রো শহরে দিনে যেমন গরম তেমনই সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে বালি শীতল হয়ে ঠান্ডা নামতে শুরু করে। ঠান্ডা বাতাসও বইতে থাকে।
রুটি আর বাতাসের মিশ্রিত ঘ্রাণ নিতে নিতে আমি এগছিলাম এমন এক জায়গার উদ্দেশে যেখানে গেলে এ শহরের সবথেকে পুরনো গন্ধ পাওয়া যায়। বলা যেতে পারে যে জায়গাতে গেলে পাওয়া যায় পাঁচ হাজার বছরের প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার গন্ধ। ফ্যারাও খুফু, তুতেন খামেন, রানি নেফারতিতি থেকে শুরু করে রানি হাতশেপসুত, মিশর সম্রাজ্ঞী ক্লিওপেট্রার আমলের গল্প। হ্যাঁ, আমার গন্তব্য মিশরের বিখ্যাত পুরাতাত্ত্বিক সংগ্রহশালা বা ‘ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম’। চলতি কথায় অনেকে যাকে বলেন ‘কায়রো মিউজিয়াম’। বলে রাখা ভালো যে কায়রো শহরে আরও দু’টি মিউজিয়াম বা সংগ্রহশালা আছে। তবে আল তাহারি স্কোয়ারে অবস্থিত এই সংগ্রহশালাটাই সর্ববৃহৎ। আমার হোটেল থেকে আল তাহারি স্কোয়ারের দূরত্ব মাত্র দু’কিলোমিটার। হাঁটতে আমার ভালো লাগে নতুন জায়গাতে গেলে। চারপাশের জনজীবনকে ভালো করে খেয়াল করা যায়। চারপাশ দেখতে দেখতে আলো ঝলমল দিনে পৌঁছে গেলাম ইজিপশিয়ান মিউজিয়ামের সামনে। বিশাল জায়গা নিয়ে অবস্থান করছে ইজিপশিয়ান মিউজিয়ামের দ্বিতল ভবনটি। গাত্রবর্ণ লাল। মাথায় উড়ছে ইজিপ্টের জাতীয় পতাকা। সংগ্রহশালার সামনের অংশটি ফোয়ারা আর বাগিচা দিয়ে সুন্দরভাবে সাজানো। সবেমাত্র সকাল দশটা বাজে। খানিক আগেই মিউজিয়াম খুলেছে। টিকিট কেটে মিউজিয়াম চত্বরে প্রবেশ করলাম। এই মিউজিয়াম দেখতে আসার আগে আমি বই আর ইন্টারনেট ঘেঁটে বেশ কিছু তথ্য সংগ্রহ করে নিয়েছিলাম। এই যেমন এই ভবনটিকে প্রায় একশো কুড়ি বছর আগে মিউজিয়ামের রূপদান করা হয়। এক লক্ষ কুড়ি হাজার গ্রন্থ, বস্তু, মমি ইত্যাদি সংরক্ষিত আছে এখানে। যা বিভিন্ন সময় সংগ্রহ করে আনা হয়েছে গিজা, লুক্সার, আবু সিম্বল, ভ্যালি অব কিংস, ভ্যালি অব কুইনস ইত্যাদি নানা প্রত্ন অঞ্চল থেকে। আর এই মিউজিয়ামের আকর্ষণের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হল ‘তুতেন খামেনের গ্যালারি’।
বিশাল আর্চের মতো দরজা দিয়ে আমি মিউজিয়ামের ভিতর পা রাখলাম। এ মিউজিয়ামের ভিতর ছবি তুলতে পয়সা দিতে হয় না। একমাত্র তুতেন খামেন গ্যালারির ছবি তোলা নিষেধ। প্রথম যে উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় বস্তুটি চোখে পড়ে তা হল কাচে ঢাকা রোসেটা স্টোনের একটি প্রতিলিপি। নেপোলিয়নের সেনাদল যখন মিশর অভিযান করে তখন তাঁর এক সেনাপতি এই পাথরের ফলকটি উদ্ধার করেন। মূল ফলকটি অবশ্য রাখা আছে লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে। একশো ছিয়ানব্বই খ্রিস্ট পূর্বাব্দে টলেমির রাজত্বে লেখা তিনটি একই বক্তব্য তিনটি লিপিতে লেখা হয়েছিল এই পাথর ফলকে। লিপি তিনটি হল মিশরীয়দের প্রাচীন হায়ারোগ্লিফিক, ডেমোটিক ও প্রাচীন গ্রিক লিপি। প্রাচীন গ্রিক লিপি যেহেতু ইতিহাস গবেষকদের জানা ছিল তাই তারা ওই গ্রিক লিপির ওপর নির্ভর করে মিশরের চিত্রলিপি বা হায়ারোগ্লিফিক লিপির পাঠোদ্ধার করতে সক্ষম হন। মানুষের সামনে উন্মোচিত হয় প্রাচীন মিশরের ইতিহাস।
ঘুরতে শুরু করলাম মিউজিয়ামের একতলাতে। ছাদ অন্তত কুড়ি পঁচিশ ফুট উঁচু। বিশাল আকৃতির বিভিন্ন মূর্তি সে জন্য এ মিউজিয়ামে স্থান পেয়েছে। তার মধ্যে বেশ কিছু মূর্তির ছবি বইয়ের পাতায় দেখেছি। যেমন সিংহাসনে পাশাপাশি বসে থাকা ফ্যারাও আমেনহোটেপ আর তাঁর স্ত্রী রানি টিয়ের বিশালাকার মূর্তি। একইভাবে চোখে পড়ল গিজার পিরামিডের নির্মাতা ফ্যারাও খুফুর গ্রানাইট পাথরের মূর্তি। তিন হাজার খ্রিস্ট পূর্বাব্দ থেকে আলেকজান্ডারের মিশর অভিযানের সময়কাল পর্যন্ত তিরিশটির বেশি বংশ মিশর শাসন করেছিল। সেই সব সময়কালের বহু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সুন্দরভাবে সাজানো আছে চারপাশে। মূর্তি, বিভিন্ন সৌধ থেকে সংগ্রহ করা অংশ, প্রাচীন মিশরীয়দের ব্যবহার্য জিনিস আর পাথর বা কাঠ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ধরনের শবাধার বা সারকোফ্যাগাস। রয়েছে মমির গায়ে যে ধাতব বা কাঠ নির্মিত খোলস পরানো হতো সেগুলিও। আর প্রত্যেকটা বস্তু বা স্মারকের সামনে সুন্দরভাবে লেখা আছে তা কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, তা কোন সময়কালের ইত্যাদি তথ্য। সত্যি এ মিউজিয়াম দেখতে গাইডের তেমন প্রয়োজন হয় না। এই বিশাল মিউজিয়ামের সবকিছু খুঁটিয়ে দেখতে হলে তিনদিন সময় লেগে যায়। দেখলাম রানি হাতশেপসুতের আবক্ষ মূর্তি। তিনিই ছিলেন মিশরের একমাত্র মহিলা শাসক। পুরুষের মতো বেশ ধরে, নকল দাড়ি লাগিয়ে একটানা বাইশ বছর মিশরকে শাসন করেছিলেন। মিশরের প্রাচীন শহর লাক্সরের কাছে তিনি একটি বিখ্যাত ‘শব মন্দির’ নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে মমি তৈরির কাজ করা হতো। সেই রহস্যময় বিশাল মন্দির আজও আছে। মিউজিয়ামে আরও একটা ভিড়ের মধ্যে গিয়ে দেখলাম সেখানে কাচের আধারে রাখা আছে ধাতু আর রং-বেরঙের পাথর বসানো একটা পান পাত্র। রানি ক্লিওপেট্রার মদিরা পাত্র। শুনলাম একজন গাইড ট্যুরিস্টদের বলছেন, ওই পান পাত্রেই নাকি মদিরার সঙ্গে বিষ মিশিয়ে পান করে আত্মহত্যা করেছিলেন ক্লিওপেট্রা। যে স্থাপত্যের অংশবিশেষ এই মিউজিয়ামে সংগ্রহ করা আছে তার অন্যতম হল ‘ফলস ডোর’ বা পাথরের তৈরি নকল দরজা। সাধারণত শবাধার যেখানে রাখা হতো তার আশপাশে এইসব নিরেট পাথরের তৈরি নকল দরজা বসানো থাকত। প্রাচীন মিশরীয়রা বিশ্বাস করতেন, এই পাথরের দরজাগুলোর ভিতর দিয়ে মানুষ চলাচল না করতে পারলেও বিদেহী আত্মারা এই পাথরের দরজা ভেদ করে চলাচল করতে পারবে। আবার এই দরজাগুলি সম্পর্কে আরও একটি মতামত শোনা যায়। শবের কফিনে বা শব গৃহে ফ্যারাওদের, তাঁদের রানিদের ব্যবহার করা অনেক সোনা, দুর্মূল্য জিনিস রাখা থাকত। সেগুলো যাতে কেউ সহজে চুরি করতে না পারে সে জন্য কবর চোরদের বিভ্রান্ত করতে ওই নকল দরজা বসানো থাকত। বহু প্রাচীন প্যাপিরাসও রাখা আছে মিউজিয়ামের একতলার প্যাপিরাস গ্যালারিতে। তার মধ্যে কোথাও লেখা আছে হায়ারোক্লিফিক লিপি। কোনও প্যাপিরাসের গায়ে আঁকা আছে প্রাচীন মিশরীয়দের জীবনযাত্রার খণ্ড খণ্ড চিত্র। শুধু ফ্যারাওদের মূর্তি নয়, নানা ধরনের প্রাচীন মিশরীয় দেব-দেবীর মূর্তিও রাখা আছে মিউজিয়ামে। যেমন সৃষ্টির দেবতা আমনের মূর্তি, পাতাল দেবতা অসিরিসের মূর্তি, আকাশ দেবতা হোরাসের মূর্তি, শিয়ালমুখী দেবতা আনুবিসের মূর্তি। আনুবিস ছিলেন শবাধারের বা শব কক্ষের রক্ষক।
মিউজিয়ামের একতলা দেখতে দেখতে কীভাবে যেন ঘণ্টাখানেক সময় কেটে গেল। ইতিমধ্যে মিউজিয়ামে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। শুনেছি তুতেন খামেন গ্যালারিতে প্রবেশ করার জন্য নাকি অনেক সময় বড় লাইন পড়ে।
প্রশস্ত সিঁড়ি বেয়ে উঠে এলাম দোতলায়। ডিসপ্লে বোর্ডে দেখলাম দোতলায় প্রধানত দুটো গ্যালারি। একটি হল তুতেন খামেন গ্যালারি। আর একটি গ্যালারিতে রাখা আছে বিভিন্ন মমি। আমি প্রথমে এগলাম তুতেন খামেন গ্যালারির দিকে। এই গ্যালারির আবার দুটো অংশ। একটি বাইরের দিকে হল ঘরের মতো জায়গা। আর একটি অংশ হল মাঝারি আকৃতির ঘর। বাইরের অংশে ছবি তোলা যায়, কিন্তু গ্যালারির প্রধান জায়গা অর্থাৎ ওই কক্ষের ভিতর ছবি তোলা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। বালকরাজা তুতেন খামেন সম্পর্কে যতটুকু জানা যায় তা আছে গ্যালারির প্রবেশ পথের গায়ে। তুতেন খামেন ছিলেন তেরোশো খ্রিস্টপূর্বাব্দ নাগাদ অষ্টাদশ রাজবংশের ফ্যারাও। মাত্র দশ বছর বয়সে তিনি মিশরের সিংহাসনে বসেন। আট বছর পর, আঠারো বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। আখেনাতেন-এর পুত্র ফ্যারাও তুতেন খামেনের মৃত্যু রহস্য আজও স্পষ্টভাবে উন্মোচিত হয়নি। এ ব্যাপারে নানা ইতিহাসবিদ নানা মত প্রকাশ করেছেন। যাইহোক ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ হাওয়ার্ড কার্টার খড়ের ভ্যালি অব দ্য কিংস-এ তুতেন খামেনের সমাধি কক্ষের সন্ধান পান। অতুলনীয় ঐশ্বর্য ছিল সেই কক্ষে। তুতেন খামেনের কফিন কার্টার কবরের বাইরে বের করে আনছেন সেই আলোকচিত্র রাখা আছে গ্যালারির বাইরের অংশে। রয়েছে তুতেন খামেনের কবর থেকে পাওয়া আরও কিছু দুর্মূল্য জিনিস। যেমন কাচের আধারে রক্ষিত বালকরাজার সোনার সিংহাসন, গ্রানাইট পাথর ও সোনা দিয়ে তৈরি একটি আনুবিসের মূর্তি।
গ্যালারির বাইরের অংশ দেখে, কিছু ছবি তুলে গিয়ে দাঁড়ালাম গ্যালারির প্রধান অংশ অর্থাৎ ঘরের মতো জায়গার সামনে। প্রথমেই যেটা চোখে পড়ল তা হল তুতেন খামেনের বিখ্যাত সেই সোনা ও বহুমূল্য পাথর দিয়ে তৈরি মুখোশ! প্রাচীন মিশরীয় শিল্পকলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। বইয়ের পাতায় এ মুখোশের ছবি দেখেননি এমন কম মানুষই আছেন। মৃদু আলো জ্বলছে ঘরে। আলো-আঁধারি পরিবেশ। শুধু কাচের বাক্সগুলোর মধ্যে রাখা প্রত্নবস্তুগুলোর ওপর স্পট লাইটের আলো ফেলা আছে। মুখোশটার দিকে তাকালে বেশ রোমাঞ্চ অনুভব হয়। যেন প্রাচীন ইতিহাসের বুক থেকে উঠে এসে সে তাকিয়ে আছে আপনার দিকেই। এছাড়াও রয়েছে দু’টি সোনার তৈরি অপূর্ব কারুকাজ করা কফিন। তার একটির ওজন একশো কুড়ি কেজি। তুতেন খামেনের মমি এমন পরপর তিনটি কফিন দিয়ে মোড়া ছিল। এ ঘরের সব জিনিসই তুতেন খামেনের সমাধিকক্ষ বা তার মমির শরীর থেকে উদ্ধার করা। রয়েছে তাঁর অলঙ্কার, হাতে পায়ের আঙুলে পরার সোনার খাপ, তাঁর পায়ের চটি জুতো, পোশাক, রাজদণ্ড বা ছড়ি, রয়েছে তাঁর অস্ত্র। তবে তুতেন খামেনের মমি কিন্তু এ গ্যালারিতে নেই। তা আজও রক্ষিত আছে ভ্যালি অব কিংস-এ তাঁর সমাধি মন্দিরে।
মিশর শব্দটা শুনলেই দ্বিতীয় যে শব্দটা মনে আসে তা হল ‘মমি’। তুতেন খামেন গ্যালারি দেখে একরাশ বিস্ময় বুকে নিয়ে এগলাম মমি গ্যালারির দিকে। বড় বড় কাচের বাক্সে রাখা আছে সার সার মমি। কোনওটি রাখা আছে কফিনের মধ্যে আবার কোনওটি রাখা আছে কাপড় জড়ানো অবস্থায়। এদের কোনও কোনওটির বয়স চার-পাঁচ হাজার বছর! কীভাবে মমিফিকেশন করা হতো, অর্থাৎ কীভাবে মমি প্রস্তুত করা হতো তা সুন্দরভাবে ছবির মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে এই গ্যালারিতে। দেহ থেকে পচনশীল অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বের করে আনার পর তা যে সব পাত্রের মধ্যে রাখা হতো সে সবও রাখা আছে এখানে।
মমির গ্যালারি দেখা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমার ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম দেখা শেষ হল। নীচে নেমে বেরিয়ে পড়লাম বাইরে। সামনের বাগিচা অতিক্রম করে এসে দাঁড়ালাম রাস্তায়। আধুনিক কায়রো শহরের ব্যস্ততম রাস্তা আল তাহারি স্কোয়ার। নানা দিক থেকে গাড়ি ছুটে চলেছে। মনে হল এতক্ষণ যেন আমি টাইম মেশিনে চড়ে চলে গিয়েছিলাম সুদূর অতীতে। হাঁটতে শুরু করলাম হোটেলে ফেরার জন্য। রুটির গন্ধ, তামাকের গন্ধ, পারফিউমের গন্ধ, এসব কিছুকে ছাপিয়ে এখনও আমার নাকে জেগে আছে তুতেন খামেনের গন্ধ, নীলনদের পাড়ে প্রাচীন মিশরের গন্ধ।