Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মকর সংক্রান্তিতে ঝাড়গ্রাম জেলাজুড়ে পালিত হচ্ছে টুসুপরব

জঙ্গলমহলের প্রাণের উৎসব মকর পরব। মকর সংক্রান্তির আগের দিন টুসু পরব পালিত হয়।  ঝাড়গ্রামজুড়ে উৎসবের আমেজ।

মকর সংক্রান্তিতে ঝাড়গ্রাম জেলাজুড়ে পালিত হচ্ছে টুসুপরব
  • ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: জঙ্গলমহলের প্রাণের উৎসব মকর পরব। মকর সংক্রান্তির আগের দিন টুসু পরব পালিত হয়।  ঝাড়গ্রামজুড়ে উৎসবের আমেজ। বাড়িতে বাড়িতে পিঠেপুলি, মাংস পিঠে তৈরি হচ্ছে। জঙ্গলমহলের লোক উৎসবে শামিল হতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে।

Advertisement

মকর পরব উপলক্ষ্যে ফল, মাটির হাঁড়ি, কড়াই, টুসু প্রতিমা কেনা হয়। জেলার হাটে বাজারে সকাল থেকে কেনাকাটার জন্য ভিড় ছিল। মঙ্গলবার পৌষসংক্রান্তির আগের রাত। ফলমূল, পিঠে, খই, মুড়কি দিয়ে টুসুমণির পুজো করা হয়। বাড়ির মহিলারা সারারাত ’জাগরণ গান’ করেন। লৌকিক বিশ্বাস, গান শুনিয়ে লক্ষ্মী স্বরূপা টুসুমণি জাগ্ৰত রাখতে পারলে পরিবারের মঙ্গল হয়। ঘরে সমৃদ্ধি আসে। বাড়ি বাড়ি জমি থেকে ওঠা নতুন ধানের চাল দিয়ে পিঠেপুলি তৈরি করা হয়। এদিন আদিবাসী ও অন্যান্য জনজাতি সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে মাংসের পুর দিয়ে সুস্বাদু পিঠে তৈরি করা হয়। 
আজ, বুধবার মকর সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে সুবর্ণরেখা, কংসাবতী, ডুলুং ও ছোট জলাশয়ে মকরস্নান করা হবে। ঝাড়গ্রাম পুরসভার উদ্যোগে শহরের রবীন্দ্র পার্ক থেকে জেলাশাসকের অফিসের সংযোগকারী রাস্তায় গ্রাম বাংলার পটচিত্র আঁকা হচ্ছে। বুধবার পশ্চিমবঙ্গ কুর্মি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কালচারাল বোর্ড ও জেলা পরিষদের উদ্যোগ  টুসু পরব ও টুসু কার্নিভালের আয়োজন করা হয়েছে। ঝাড়গ্রামের অধিকাংশ হোটেল, লজ, রিসর্ট ও হোম স্টে ভর্তি। পর্যটন সংস্থাগুলির তরফে গ্ৰামীণ এলাকায় পর্যটকদের নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বেলপাহাড়ীর একটি হোম স্টের কর্ণধার বলেন, মকর পরব উপলক্ষ্যে আমরা নানা ধরনের পিঠেপুলি , মাংসের পিঠে তৈরি করছি। পর্যটকদের এবার গ্ৰামীণ মেলাগুলিতে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। লালগড়ের টুসুপ্রতিমা বিক্রেতা সমীর দাস বলেন, হাটে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় টুসুপ্রতিমা বিক্রি করেছি। সব টুসুপ্রতিমা বিক্রি হয়ে গিয়েছে। স্থানীয় মানুষের সাথে বাইরে থেকে আসা পর্যটকরাও টুসু কিনেছেন।
জঙ্গলমহলের আদিবাসী নেগাচাড়ি কুর্মি সমাজের মহামোড়ল অনুপ মাহাত বলেন, টুসুমণি আমাদের কাছে প্রকৃতির দেবী। তাঁকে কন্যা রূপেও দেখা হয়। তবে আমরা মূর্তি পুজো করি না। মকর সংক্রান্তির দিন টুসু ভাসান দেওয়া হয়। টুসু অর্থাৎ ধানকে জলাশয়ে বিসর্জন করার অর্থ হল শশুরবাড়িতে পাঠানো। ধান চাষে জলের প্রয়োজন। ফসল উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য আমরা এই উৎসব পালন করি। মকর পরব জঙ্গলমলের বাসিন্দাদের কাছে সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। 
ভুলাভেদা এলাকার বাসিন্দা শঙ্কর মুর্মু বলেন, পৌষ মাসজুড়ে বাড়িতে নতুন চাল দিয়ে পিঠে, মাংস পিঠে তৈরি করা চলছে। এদিন সকালে হাট থেকে টুসুমণির প্রতিমা কিনে এনেছি। এলাকাজুড়ে উৎসবের মহল। মাঘ মাসের প্রথম দিন নববর্ষ পালন করা হবে। এলাকার উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঝাড়গ্রাম হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শিবাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, শীতের মরশুমে এবার বহু পর্যটক জেলায় বেড়াতে এসেছেন। জঙ্গলমহলে লৌকিক উৎসব ঘিরে দিন দিন পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ