সংবাদদাতা, তুফানগঞ্জ: দুর্গাপুরের গণধর্ষণের ঘটনা, রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের সন্ত্রাস সহ একাধিক ইস্যুতে সোমবার তুফানগঞ্জ থানা ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের কর্মসূচি বানচাল করতে সকাল থেকেই তুফানগঞ্জ শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মহকুমা কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা। অভিযোগ, সেখান থেকেই বিজেপির তুফানগঞ্জ বিধানসভার কো-কনভেনর নিখিলচন্দ্র গাবুয়ার উপর চড়াও হয় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। রাস্তায় ফেলে তাঁকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ ওঠে। গুরুতর জখম অবস্থায় দলীয় কর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
পাশাপাশি তুফানগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক মালতী রাভা রায়কে ঘিরে বিক্ষোভ, গো ব্যাক স্লোগানও দেওয়া হয়। ঘটনার প্রতিবাদে পথে নামেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। এতে দু’পক্ষ একে ওপরের মুখোমুখি হতেই পাথর বৃষ্টি শুরু হয়। স্লোগান পাল্টা স্লোগানে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। ঘটনাস্থলে তুফানগঞ্জ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।
যদিও তৃণমূল তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিধায়ক মালতী রাভা রায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গে যে গণতন্ত্র বিপন্ন তৃণমূল তা প্রমাণ করছে। বিধায়ক তাঁর নিজের বিধানসভা এলাকায় আসবেন না, এটা কোন গণতন্ত্রে রয়েছে? দলীয় কর্মীকে মারধর করেছে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা। আমাদের কর্মসূচি বানচাল করতেই তৃণমূল ইচ্ছাকৃতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
অন্যদিকে, তৃণমূলের তুফানগঞ্জ শহর সভাপতি গৌতম সরকার বলেন, তুফানগঞ্জ শান্তপ্রিয় জায়গা। বিধায়ক এসে এখানে উত্তেজনা ছড়াতে চাইছেন। এলাকার জন্য কোনও উন্নয়নমূলক কাজ তিনি করেনি। অথচ ভোট এলেই উত্তেজনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করেন। এদিনের ঘটনা সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে উত্তেজনা। - নিজস্ব চিত্র।