সংবাদদাতা, বনগাঁ: এসআইআরে ‘ভুয়ো’ বাবা-মা দেখানোর অভিযোগ উঠছে বনগাঁয়। বাগদার হেলেঞ্চা ও বনগাঁ থানার নয়া গোপালগঞ্জ এলাকায়। নিজের বাবা মৃত। প্রতিবেশী বৃদ্ধকে বাবা সাজিয়ে, তাঁর ভোটার কার্ড নম্বর দিয়ে ইনিউমারেশন ফর্ম ভরেছেন হেলেঞ্চায় মন্ডবঘাটার ১২৭ নম্বর পার্টের তিন ভাই—রঞ্জন, হিরণ্ময় ও প্রশান্ত বিশ্বাস। অভিযোগ, ফর্ম জমার সময় তাঁরা শিঙি গ্রামের ১৩৮ নম্বর পার্টের হরষিত বিশ্বাসকে তাঁদের ‘বাবা’ দেখিয়েছেন। হরষিত বলেন, ওরা আমার ছেলেই নয়। অথচ আমাকে ‘বাবা’ এবং আমার স্ত্রীকে ‘মা’ দেখিয়েছে ফর্মে। এর বিহিত চেয়েছি কমিশনের কাছে। যদিও তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রঞ্জন। তিনি বলেন, আমরা সঠিকভাবেই ফর্ম জমা দিয়েছি। অভিযোগ উঠেছিল একটা। তবে ‘আলোচনার’ পর মিটে গিয়েছে। এই আলোচনায় কারা ছিলেন? জানাননি রঞ্জন।
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বাগদা পশ্চিম ব্লক সভাপতি কিংকর ঘোষ বলেন, রঞ্জন বিশ্বাস এবং তাঁর পরিবার এলাকায় বিজেপিকে নেতৃত্ব দেয়। তাঁদের এই মিথ্যাচার কমিশন খতিয়ে দেখুক। অন্যদিকে, বনগাঁ জেলা বিজেপি সভাপতি বিকাশ ঘোষেরও দাবি, অভিযোগ কমিশন খতিয়ে দেখুক। অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বাগদার বিডিও অখিল মণ্ডল।
অন্য একটি ক্ষেত্রে, এক প্রতিবেশী মহিলাকে ‘মা’ সাজিয়ে এসআইআর উতরোনোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বনগাঁর নয়া গোপালগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ওই মহিলার নিজের ছেলে মারা গিয়েছে। বিষয়টি বনগাঁর এসডিওর গোচরে এসেছেন ওই মহিলা। বনগাঁ পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ভুলি বিশ্বাসের দুই ছেলেমেয়ে—অনুপ এবং মৌমিতা। তাঁর স্বামীর নাম অমল বিশ্বাস। প্রতিবেশী অনুপ বিশ্বাস এবং চম্পা বিশ্বাসের বাবার নামও অমল বিশ্বাস। অভিযোগ, ভুলি বিশ্বাসকে মা সাজিয়ে কয়েকবছর আগে ভোটার হন অনুপ এবং চম্পা।
যদিও অভিযুক্ত ‘নকল ছেলে’ অনুপ ভোটার তালিকা সংশোধন করে ‘নকল’ মায়ের নাম বাদ দিয়ে পরে তাঁর ‘আসল’ বাবার নামটি তাঁর ভোটার কার্ডে ঢুকিয়েছেন। তাঁর দাবি, আমি কোনও অসৎ উপায়ে ভোটার হইনি। বোনের ক্ষেত্রে ভুলবশত মায়ের নামের জায়গায় প্রতিবেশী মহিলার নাম রয়েছে। ওটা ঠিক করে নেব।
ভুলি বলেন, আমার ছেলে মারা গিয়েছে। আমি ‘নকল’ ছেলে চাই না। প্রতিবেশী অনুপ আমাকে মা সাজিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছিল। সে পরে সংশোধনও করে নিয়েছে।
অন্যদিকে, অনুপের ‘আসল’ মা উমা বিশ্বাস বলেন, মেয়ের মা হিসেবে প্রতিবেশী ভুলির নাম রয়েছে। এটা ভুল করে হয়ে থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, এসআইআর আবহে ‘বাংলাদেশ থেকে আসা’ উদ্বাস্তুদের মধ্যে চাপা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। খসড়া ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম থাকবে কি না, এই প্রশ্ন অনেকের মধ্যে। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, বাগদায় প্রায় উদ্বাস্তু ভোটার ১৫-২০ শতাংশ। বিভিন্ন সময়ে চোরাপথে এসে কোনও ‘আত্মীয়ের’ মাধ্যমে এদেশের ভোটার হয়েছে অনেকে। সেইসময় তাঁদের সম্মতি নিয়েই তারা ভোটার তালিকায় নাম তুলেছিল। কিন্তু, সেইসব আত্মীয়দের অনেকেই হয় মারা গিয়েছেন, নয়তো এখন ঝামেলার ভয়ে সম্পর্ক অস্বীকার করছেন। ফলে সমস্যায় পড়েছে বহু উদ্বাস্তু মানুষ।
সূত্রের দাবি, এসআইআর পর্ব উতরোতে এখন অনেকে নতুন করে ‘আত্মীয়’ খুঁজছে। কিছু ক্ষেত্রে মোটা টাকার ডিলও হচ্ছে বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে বাগদা পশ্চিম ব্লক তৃণমূল সভাপতি নিউটন বালা বলেন, অনেকেই এসআইআর ফর্ম ভরার আগে নানা সমস্যার কথা বলেছেন। এঁরা একাধিক নির্বাচনে ভোটও দিয়েছেন। তাঁদেরকে একটাই কথা বলেছি, আপনার ভোটে সরকার তৈরি হয়েছে। ফলে আপনি ‘বৈধ’ ভোটার। ঘাবড়াবেন না।