কারাকাস: রাত প্রায় ২টো। শুক্রবার। ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস মাঝঘুমে। আচমকাই আকাশে অনেক নীচ দিয়ে এয়ারক্র্যাফ্ট উড়ে যাওয়ার শব্দ। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে কারাকাসের অন্তত সাতটি জায়গায় পরপর বিস্ফোরণ! বাদ গেল না মিরান্ডা, আরাগুয়াও। আকাশপথে ভেনেজুয়েলায় ঢুকে শুধু অতর্কিতে হামলা নয়, রীতিমতো তাণ্ডব চালাল মার্কিন সেনা। আগুন আর কালো ধোঁয়া দেখে আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় নেমে এসেছিল আম জনতা। আর ঠিক তখনই কারাকাসে প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেস মিরাফ্লোরেসে অপারেশন শুরু মার্কিন ডেল্টা ফোর্সের। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে বন্দি করে তুলে আনা হল সেদেশ থেকে। ঘণ্টাতিনেক পর নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় বুক বাজিয়ে ঘোষণা স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের—‘ভেনেজুয়েলায় বড়োসড়ো হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনা। প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে বন্দি করে দেশের বাইরে উড়িয়ে আনা হয়েছে।’ শনিবার সকালে ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোয় সাংবাদিক সম্মেলনে ট্রাম্পের ঘোষণা, ‘আপাতত আমেরিকাই ভেনেজুয়েলাকে চালাবে।’ এখানেই শেষ নয়। তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকার বড়ো বড়ো তেল সংস্থাগুলি এখানে এসে ভেঙে পড়া পরিকাঠামো মেরামতির জন্য কোটি কোটি ডলার ব্যয় করবে ও দেশের জন্য অর্থ উপার্জন শুরু করবে। আমরা প্রচুর পরিমাণ তেল বিক্রি করব।’
সূত্রের খবর, রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ সস্ত্রীক মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে মার্কিন বাহিনী। ট্রাম্পের অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, নিউ ইয়র্কের সাদার্ন ডিস্ট্রিক্টে মাদুরোর বিরুদ্ধে নারকো-টেররিজম (মাদক-সন্ত্রাস) ষড়যন্ত্র, কোকেন আমদানি, মেশিনগান এবং বিধ্বংসী অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। শনিবার সকালে ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজে নিয়ে আসা হচ্ছে সস্ত্রীক মাদুরোকে। মার্কিন জলসীমায় পৌঁছোলে নিউ ইয়র্কে উড়িয়ে আনা হবে।
এরপর ভেনেজুয়েলার কী হবে? ভেনেজুয়েলা থেকে পালানো বিরোধী নেত্রী নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো ফোন করেছেন গত নির্বাচনে মাদুরোর কাছে পরাজিত এডমুন্ডো গঞ্জালেসকে। জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলাবাসীর উপর অত্যাচার করেছেন মাদুরো। আন্তর্জাতিক স্তরে এর বিচার হবে।
বিশ্বের বৃহত্তম খনিজ তেলের ভাণ্ডার ভেনেজুয়েলা। সেদিকেই বরাবর নজর আমেরিকার। কিন্তু বামপন্থী মাদুরোর চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সখ্যই কাল হল। স্বার্থে আঘাত লাগতেই তাঁর বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও সন্ত্রাসের মদতের অভিযোগ তোলেন ট্রাম্প। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থলপথে হামলার হুমকি দিচ্ছিলেন ট্রাম্প। শুক্রবার তা চরম আকার নিল। যদিও মার্কিন হামলার প্রতিবাদে সরব হয়েছে রাশিয়া সহ ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী দেশগুলি। সীমান্তে সেনা মোতায়েন করে রাষ্ট্রসংঘে জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট। চীন বলেছে, আমেরিকা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। ট্রাম্পের সমালোচনা করে নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, ‘সার্বভৌম রাষ্ট্রের উপর একতরফা হামলা চালানো যুদ্ধের সমান।’ শনিবার রাতে বিদেশ মন্ত্রকের তরফে সেদেশে থাকা ভারতীয়দের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। চালু করা হয়েছে হেল্পলাইনও।