Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

বিস্ফোরক ট্রাম্প, ফের দ্বিগুণ শুল্কের হুঁশিয়ারি, ‘মোদি কথা দিয়েছেন রাশিয়া থেকে তেল কিনবেন না’

দীপাবলির সকালে আমেরিকা থেকে ফের ভেসে এল ‘বন্ধু’র হুমকি! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও চড়া করলেন সুর।

বিস্ফোরক ট্রাম্প, ফের দ্বিগুণ শুল্কের হুঁশিয়ারি, ‘মোদি কথা দিয়েছেন রাশিয়া থেকে তেল কিনবেন না’
  • ২১ অক্টোবর, ২০২৫ ১৬:১০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দীপাবলির সকালে আমেরিকা থেকে ফের ভেসে এল ‘বন্ধু’র হুমকি! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও চড়া করলেন সুর। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, ভারত সম্পর্কে আমেরিকার মনোভাব কি একইরকম আছে? জবাবে ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে সফররত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাকে নরেন্দ্র মোদি নিজেই আশ্বাস দিয়েছেন যে, ভারত আর রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করবে না।’ কিন্তু ভারত তো জানিয়েছে যে, তারা নাগরিকদের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেবে! রাশিয়া থেকে তেল ক্রয় বন্ধ অথবা হ্রাসও করেনি নয়াদিল্লি। তাহলে? এই প্রশ্নের উত্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যদি ভারত এরকম করে, তাহলে ভারতের উপর শুল্ক বহাল থাকবে। আরও চড়া শুল্ক আরোপ করা হবে। ভারত সেটা চাইবে বলে মনে হয় না। ভারতের জন্য সেটা খুব ইতিবাচকও হবে না।’ অর্থাৎ, ট্রাম্পের প্রচ্ছন্ন হুমকি যে, এরকম করা হলে তিনি নতুন করে ‘দ্বিগুণ’ শুল্ক চাপাবেন ‘বন্ধু’ মোদির দেশের উপর। 

Advertisement

ট্রাম্প এবং মোদির মধ্যে এরকম কোনও কথোপকথনের বিষয়টি আগেও অস্বীকার করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। সাফ জানিয়েছে, রাশিয়া থেকে তেল ক্রয় সংক্রান্ত কোনও আলোচনা হয়নি দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে। সেই প্রসঙ্গ তুলেই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে প্রশ্ন করা হয় যে, ‘ভারত তো অস্বীকার করছে। আপনি কী বলবেন?’ ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আবার একই কথা বলছি। আমাকে প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সুতরাং এখন সেকথা মান্য করা না হলে আমাদের পক্ষে পুনরায় অনেক বেশি শুল্ক বলবৎ করা ছাড়া উপায় নেই।’ শুধু তা-ই নয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট রবিবার এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আবারও ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ থামানোর দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘সাতটি বিমান গুলি করে নামানো হয়েছিল। পরমাণু যুদ্ধও হতে পারত। আমি বলি, তোমরা (ভারত-পাকিস্তান) যুদ্ধ না থামালে ২০০ শতাংশ শুল্ক চাপাব।’ এই হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধ থামিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন। এমনকী এও জানিয়েছেন, লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন রক্ষার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ভারত অবশ্য বারবার সংঘর্ষবিরতির জন্য মার্কিন হস্তক্ষেপের বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছে। তারপরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজের অবস্থানে অনড় থাকায় অস্বস্তি বেড়েছে মোদি সরকারের। তার উপর নতুন করে শুল্ক-হুমকিতে সিঁদুরে মেঘ দেখছে ভারতীয় বাণিজ্য মহল।
দফায় দফায় ট্রাম্পের নতুন হুমকি ও হুঁশিয়ারির জেরে ক্রমশ সন্দেহ এবং আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, তাহলে কি  আমেরিকা এবং ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হওয়ার প্রকৃত জট এটাই? অর্থাৎ ওই চুক্তি তখনই স্বাক্ষর করা হবে, যখন ভারত রাশিয়া থেকে ধীরে ধীরে তেল ক্রয় করা বন্ধ করে দেবে? এরকম কোনও শর্ত কি আমেরিকা চাপাতে চাইছে? আর সেই কারণেই ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্ক কমছেও না এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তিও সম্পাদিত হচ্ছে না। গত দেড় মাস ধরে ভারত সরকারেরর বিভিন্ন মন্ত্রী দফায় দফায় বলেছেন যে, আর মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই চুক্তি হয়ে যাবে। এমনকী এই সপ্তাহেই ভারত থেকে শিল্প-বাণিজ্য মন্ত্রকের প্রতিনিধিদের যাওয়া কথা আমেরিকা। কিন্তু দু’দেশই একবারও জানায়নি যে, ঠিক কোন পর্যায়ে এবং কেন এই চুক্তি আটকে রয়েছে। ফলে সন্দেহ প্রবল যে, এমন কিছু একটা জটিলতা দেখা দিয়েছে, যার সমাধানসূত্র পাওয়া যাচ্ছে না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ