নয়াদিল্লি ও তেহরান: কোনো পড়শি দেশ নয়। টার্গেট শুধু ইজরায়েল ও আমেরিকা। এই বার্তা ইতিমধ্যেই বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছে ইরান। আর এবার সেই হুংকারের মাত্রা আরও চড়িয়ে তাকে হোয়াইট হাউসের অলিন্দে নিয়ে ফেলল তেহরান। সরাসরি জানিয়ে দিল, তাদের প্রধান টার্গেট একজনই—ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুর মূল্য তাঁকেই চোকাতে হবে। আর তাদের হুঁশিয়ারি, এখনও ৬ মাস যুদ্ধের রসদ রয়েছে।
খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর থেকেই বদলার আগুনে ফুঁসছে ইরান। বেছে বেছে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও তেল ট্যাঙ্কারকে নিশানা করেছে তারা। যুদ্ধের আঁচে দুবাই, দোহা, বেইরুট... সর্বত্র শুধু ধ্বংসস্তূপ, হাহাকার। ধস নেমেছে জ্বালানি অর্থনীতিতে। এ যুদ্ধ থামার লক্ষণ নেই। আর এই আবহেই এবার নতুন ফ্রন্টে পা রাখল ইরান। বুঝিয়ে দিল, আর ছায়াযুদ্ধ নয়। লক্ষ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই। দিন কয়েক ধরেই বিভিন্ন মহল থেকে এ নিয়ে গরম গরম বিবৃতি এসেছে। কিন্তু এবার হুমকি সরাসরি প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে। ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘ট্রাম্পকে ছাড়ব না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আমাদের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করেছেন। হাজারের বেশি মানুষ শহিদ হয়েছেন। এটা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এই রক্তের বদলা আমরা নেবই। ট্রাম্পকে এর মূল্য চোকাতে হবেই। আর উনি তা চোকাবেন।’ যদিও এই হুমকিকে বিশেষ পাত্তা দিচ্ছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট। স্বভাবসিদ্ধ ঢঙে জানিয়েছেন, ‘আমি জানি না উনি কে, কী বলছেন। এসবকে গুরুত্বই দিই না।’ উলটে এদিন ফের ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প।
তবে শুধু ট্রাম্পকে হুমকি দিয়েই থামেননি খামেনেই-ঘনিষ্ঠ লারিজানি। কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরিন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, জর্ডনের মতো মার্কিন ঘাঁটি থাকা পড়শি দেশগুলিকেও সতর্ক করেছেন। নিরাপত্তা প্রধানের বক্তব্য, ‘এরপরও বলব, আমেরিকাকে আপনাদের দেশের মাটি ব্যবহার করতে দেবেন না। অন্যথায় আমাদের কাছে আর কোনো বিকল্প নেই।’ অর্থাৎ, প্রতিবেশী দেশ প্রাইমারি টার্গেট না হলেও ছাড় তারা পাবে না। এদিনও কুয়েত, কাতার, সৌদিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। লড়াই মূলত আমেরিকা-ইজরায়েলের সঙ্গে হতে পারে, কিন্তু ট্রাম্পের সঙ্গ দিলে কেউ বাঁচবে না। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের প্রাক্তন কমান্ডার লারিজানির দাবি, ‘ইসলামিক রিপাবলিককে ভেঙে টুকরো টুকরো করার পরিকল্পনা নিয়েছে ওরা। ইরানের পরিস্থিতি ভেনেজুয়েলার মতো করতে চাইছেন ট্রাম্প।’
এর মধ্যে অবশ্য ইরানের উপরও হামলা অব্যাহত রয়েছে। এই প্রথম তেল মজুত রাখার ডিপো ও শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল। এর জেরে আগুনের কুণ্ডলির পাশাপাশি ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় তেহরানের আকাশ। প্রাণ হারিয়েছেন ৪ জন। যুদ্ধের নবম দিনে এমন ক্ষেপণাস্ত্র হানার জেরে অ্যাসিড বৃষ্টির আশঙ্কা করছে ইরানের মানবাধিকার সংস্থা রেড ক্রিসেন্ট।