Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে পাঁচদিন হামলা নয়, সুর নরম ট্রাম্পের, কোনো আলোচনাই হয়নি, দাবি তেহরানের

হুমকি দিয়েছিলেন নিজে। আবার সুর নরমও করলেন তিনিই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিলেন, ইরানের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগামী পাঁচ দিন হামলা করবে না আমেরিকা।

ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে পাঁচদিন হামলা নয়, সুর নরম ট্রাম্পের, কোনো আলোচনাই হয়নি, দাবি তেহরানের
  • ২৪ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: হুমকি দিয়েছিলেন নিজে। আবার সুর নরমও করলেন তিনিই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিলেন, ইরানের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগামী পাঁচ দিন হামলা করবে না আমেরিকা। শুধু তাই নয়, আরব দুনিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্পের দাবি, ‘খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা শুরু হয়েছে।’ আর এই আলোচনার কারণেই হামলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও ট্রাম্পের এই দাবি উড়িয়ে ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধে ইতি টানা নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। ইরানের সংবাদমাধ্যম ট্রাম্পের দাবিকে উপহাস করতে ছাড়েনি। পরে ইজরায়েলের সংবাদ মাধ্যম আসরে নেমে দাবি করে, ট্রাম্পের দুই দূতের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে ইরান পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফের। কিন্তু ইরানের এই প্রভাবশালী নেতাও এক্স হ্যান্ডলে সেই দাবির সত্যতা খারিজ করে দেন। তাঁর পালটা দাবি, তেলের  দাম ও বাজারকে প্রভাবিত করতেই এসব কারসাজি। আমেরিকার ও ইজরায়েল যে ধাক্কা খেয়েছে, তা থেকে নজর ঘোরাতে ‘ভুয়ো খবর’ ছড়ানো হচ্ছে।

Advertisement

সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, যুদ্ধ পরিস্থিতির সমাধানের লক্ষ্যে গত দু’দিন ধরে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে ভালো এবং ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে। এই আলোচনা আগামী সপ্তাহ ধরে চলতে পারে। আর সেই কারণে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরকে আগামী পাঁচ দিন ইরানের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা না চালানোর নির্দেশ দিয়েছি।’ দুই দেশের মধ্যে চলতে থাকা আলোচনা যাতে সফল হয়, সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলেও জানান ডন। যদিও সেই দাবি খারিজ করে দিয়েছে তেহরান। এদিন ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, জ্বালানির দাম কমানোর জন্যই ট্রাম্প এই ধরনের মন্তব্য করেছেন। তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে কোনো কথা হয়নি। এখানেই শেষ নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলকে সতর্ক করে ইরানের ডিফেন্স কাউন্সিল জানিয়েছে, যদি ইরানের উপকূল বা দ্বীপপুঞ্জে হামলা হয়, তাহলে পালটা জবাব হিসাবে পারস্য উপসাগরজুড়ে সামুদ্রিক মাইন পাতা হবে। পাশাপাশি, গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক প্রবেশপথগুলি অবরুদ্ধ করে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে। বন্ধ করে দেওয়া হবে যোগাযোগ ব্যবস্থাও।
হরমুজ প্রণালী আংশিক ‘অবরুদ্ধ’ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। সেই অবরোধ তোলার জন্য ইরানকে ৪৮ ঘণ্টা সময়সীমা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। বলেছিলেন, হরমুজ খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলি ধ্বংস করে দেওয়া হবে। পালটা ইরান জানায়, তাদের দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, কুয়েতজুড়ে থাকা বিদ্যুৎ পরিকাঠামো ও জল পরিশোধন কেন্দ্রে নিশানা করা হবে। পারস্য উপসাগরে মাইন পোঁতার হুঁশিয়ারিও দেয় ইরান। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ