Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

হার স্বীকার ট্রাম্পের? ইরানে সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা আমেরিকার

ইরান থেকে অবশেষে পাততাড়ি গোটাতে বাধ্য হল ‘সুপার পাওয়ার’ আমেরিকা? হোয়াইট হাউস থেকে জোড়া ঘোষণায় সেই ইঙ্গিতই মিলছে।

হার স্বীকার ট্রাম্পের? ইরানে সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা আমেরিকার
  • ৭ মে, ২০২৬ ১৪:০৫
Prefer us on Google

ওয়াশিংটন: ইরান থেকে অবশেষে পাততাড়ি গোটাতে বাধ্য হল ‘সুপার পাওয়ার’ আমেরিকা? হোয়াইট হাউস থেকে জোড়া ঘোষণায় সেই ইঙ্গিতই মিলছে। প্রথম ঘোষণাটি আসে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর তরফে। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিবৃতি সামনে আসে। রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করা হয়েছিল। এই সামরিক অভিযানের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। এজন্য অভিযানে যবনিকা টানা হচ্ছে। পরে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, জাহাজগুলিকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার করাতে শুরু হওয়া ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত করা হচ্ছে। পাকিস্তান সহ অন্যান্য সহযোগী দেশগুলির অনুরোধে ও ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতির কারণে এই সিদ্ধান্ত বলে দাবি তাঁর। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, আমেরিকার সঙ্গে তেহরানের চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর এখন শুরু সময়ের অপেক্ষা। ট্রাম্পের এই ঘোষণায় স্বাভাবিকভাবেই জয় দেখছে ইরান। কারণ তেহরানে পালাবদল করে নিজের পছন্দের শাসক বসানোর হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। কিন্তু ট্রাম্পই এখন প্রত্যক্ষ সামরিক অভিযান বন্ধের কথা বলছেন। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি অবশেষে ইরান যুদ্ধে পরাজয় স্বীকার করলেন তিনি? 

Advertisement

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধে ও তেহরানে পালাবদলের লক্ষ্যে ইজরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে আক্রমণ শুরু করেছিল আমেরিকা। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যু হলেও নতুন নেতা নির্বাচিত হয়েছেন তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনেই। ফলে তেহরানের বর্তমান শাসনে বদল আনার লক্ষ্য এখনও অধরা ওয়াশিংটনের। উলটে ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে লেজেগোবরে হয়েই ট্রাম্পকে সংঘর্ষ বিরতি ঘোষণা করতে হয়েছিল বলেই মত কূটনৈতিক মহলের। তারই মধ্যে এবার একটি প্রস্তাবিত চুক্তিপত্রকে হাতিয়ার করে ইরান থেকে সামরিক অভিযানের পাততাড়ি গোটানোর পথ খুঁজছে আমেরিকা। এক মার্কিন ওয়েবসাইটের রিপোর্টে মাত্র এক পাতার সম্ভাব্য সেই চুক্তিপত্র নিয়ে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য তথ্য সামনে আনা হয়েছে। তাদের দাবি, ওই চুক্তিপত্রেই ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা সহ বিভিন্ন বিষয়ে বিবাদ নিষ্পত্তির দিশা রয়েছে।
আমেরিকার আশা, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের প্রতিক্রিয়া সামনে আসবে। তবে রিপোর্টে একথাও স্পষ্ট করা হয়েছে, চুক্তিপত্র নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে এখনও কোনো সহমত তৈরি হয়নি। একইসঙ্গে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে চুক্তি স্বাক্ষরের এতটা উজ্জ্বল সম্ভাবনা আগে তৈরি হয়নি। চুক্তিপত্রে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত রাখবে। তার বদলে ইরানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে আমেরিকা। ইরানের যে বিশাল আর্থিক তহবিল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, ওয়াশিংটন তা মুক্ত করবে। হরমুজ প্রণালী বরাবর দু’পক্ষই নিজেদের জারি করা বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে নেবে। অর্থাৎ, ট্রাম্প যে ঢোঁক গিলেছেন এই রিপোর্টেও সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট।

সম্পর্কিত সংবাদ