সংবাদদাতা, ঘাটাল: দাসপুর থানার খুকুড়দহ ব্রিজের পাশে কজওয়ে তৈরির কাজের ‘গতি ও স্বচ্ছতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে ঘাটাল-মেচোগ্রাম রাস্তা অবরোধ করলেন ট্রাক মালিকরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পশ্চিম মেদিনীপুর ডিস্ট্রিক্ট ট্রাক অপারেটর্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা বেশ কিছুক্ষণ ওই রাস্তা অবরোধ করেন। ফলে ওই ব্যস্ততম রাস্তার দু’দিকে গাড়ির লম্বা লাইন পড়ে যায়। বহু মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হয়। ওই অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা জানান, ব্রিজের পাশে কজওয়ে তৈরির নামে প্রহসন ও টাকা লুটের খেলা বন্ধ করে দ্রুত যানবাহন চলাচল করার দাবিতেই তাঁদের এদিনের অবরোধের সিদ্ধান্ত। পরে দাসপুর থানার পুলিস গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নির্মল ঘোষ বলেন, অবরোধের কথা শুনেছি। আমরা দ্রুততার সঙ্গে ওই কজওয়েটি তৈরির কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।
দীর্ঘদিন ধরেই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে ঘাটাল-মেচোগ্রাম রাস্তার উপর ওই খুকুড়দহ ব্রিজটি। ওই ব্রিজের উপর দিয়ে ১৬ মেট্রিক টনের বেশি ভারী গাড়ি যাতে যাতায়াত না করে, সেজন্য গত বছর ৩০ ডিসেম্বর পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদেরি বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। ব্রিজ পেরনোর সময় গাড়িগুলির গতিও প্রতি ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটারের বেশি থাকা চলবে না বলে জেলাশাসক ওই নির্দেশেই জানিয়েছিলেন।
বর্তমানে ভারী যান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রয়েছে। ১৬ টনের বেশি ভারী যান চলাচলের জন্য ব্রিজের পাশেই ওল্ড কাঁসাই নদীর উপর তিন কোটি ২৫ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি কজওয়ে তৈরি কাজ শুরু হয়েছে। ৫০ মিটার দীর্ঘ এবং পাঁচ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট ওই কজওয়ের একদিক থেকে অন্যদিকে জল যাতায়াতের জন্য দু’টি স্তরে মোট ৩১টি দু’মিটারের বেশি ব্যাস যুক্ত হিউম পাইপ থাকার কথা রয়েছে। তারমধ্যে নীচের স্তরে ১৪টি এবং উপরের স্তরে ১৭টি হিউমপাইপ রাখার কথা আছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রায় তিন-চার মাস আগে থেকে ওই কজওয়েটি তৈরির কাজ শুরু হলেও কাজের গতি অতি মন্থর। নদীর আড়াআড়ি ওই কজওয়ে তৈরির জন্য যতবার মাটি ফেলা হচ্ছে, ততবারই নদীর জোয়ারে তা ভেঙে যাচ্ছে। ট্রাক মালিকদের ওই সংগঠনের সম্পাদক প্রদীপ মণ্ডল বলেন, এটা একটা প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রশাসনের ইচ্ছে নেই ওই কজওয়েটি তৈরি করার। কেননা বর্ষার মুখে ওই কজওয়ে তৈরির কাজ শুরু করাটা ঠিক নয়। শীতের মরশুমে শুরু করলে এতদিনে কাজ শেষ হয়ে যেত। প্রদীপবাবুর অভিযোগ, আমাদের কাছে খবর রয়েছে, কিছু ট্রাক মালিকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ১৬ মেট্রিক টনের বেশি ভারী লরিকে ওই ব্রিজ দিয়ে পার করে দেওয়া হচ্ছে। সেজন্য কজওয়ে তাড়াতাড়ি তৈরি হোক, সেটা প্রশাসনের একাংশ চাইছে না।এদিনের অবরোধে ট্রাক মালিকরা বলেন, কজওয়েটি তৈরি না হওয়ায় আমরা ১৬ টনের বেশি ভারী মালবাহী গাড়ি এই রাস্তা দিয়ে নিয়ে যেতে পারছি না। অনেক ঘুরপথে নিয়ে যাওয়ার ফলে ভাড়াও বেশি পড়ছে। সেজন্যই দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি নিয়ে আমরা এদিন অবরোধ কর্মসূচি নিয়েছি।-নিজস্ব চিত্র