নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: বিজেপি শাসিত রাজ্যে বার বার বাঙালিদের হেনস্তার বিরুদ্ধে ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে সোচ্চার হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তার বিরুদ্ধে ব্লক থেকে বুথস্তর পর্যন্ত আন্দোলন গড়ে তুলতে মরিয়া তৃণমূল। রানাঘাট সাংগঠনিক জেলাজুড়ে আগামী এক সপ্তাহ লাগাতার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বিজেপি অবশ্য শাসকদলের এই বাংলাপ্রেমকে ‹বাংলাদেশি প্রেম› বলে কটাক্ষ করেছে। কখনও গুজরাত, তো কখনও মহারাষ্ট্র, একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলাভাষীদের হেনস্তার খবর আসছে প্রতিনিয়ত। রাজ্যের শাসকদলের স্পষ্ট অভিযোগ, বার বার বাংলাকে টার্গেট করছে বিজেপি। ভোটে বারবার বাংলায় মুখ থুবড়ে পড়ছে তারা। কল্কে না পেয়ে শেষমেশ কখনও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের টাকা আটকে দিচ্ছে, তো কখনও বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের আক্রমণ করে সেই ‹প্রতিশোধ› নিতে তৎপর হয়ে উঠছে তারা।
এরই প্রতিবাদে রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল ময়দানে নামছে। আগামী একমাসব্যাপী সমস্ত ব্লক এবং বুথ কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে লাগাতার মিছিল করতে হবে। নিয়মিত জনবহুল এলাকাগুলিকে চিহ্নিত করে পথসভার আয়োজন করতে হবে। সেই পথসভা থেকে সাধারণ মানুষকে জানাতে হবে, কীভাবে বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালিরা অত্যাচারিত হচ্ছেন। নবদ্বীপ থেকে কল্যাণী, প্রায় আড়াই হাজারেরও বেশি বুথকে টার্গেট করেছে তৃণমূল। শুধু তাই নয়, সাধারণ মানুষের কাছে তাদের দাবির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে এলাকাভিত্তিক সংস্কৃতি ব্যক্তিত্বদেরও মঞ্চে রাখার চেষ্টা চলছে। লেখক, কবি, লোকগান শিল্পী থেকে অন্যান্য সংস্কৃতিক জগতের পরিচিত মুখদের নিয়ে তারা বিজেপির বাঙালি বিদ্বেষী কর্মকাণ্ডের মুখোশ খুলতে তৎপর। রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, আমাদের দলনেত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়ে দিয়েছেন, কোনও বাঙালির উপর বিজেপি শাসিত রাজ্যে অত্যাচার তিনি মেনে নেবেন না। সেখানে কী নিকৃষ্ট কাজ চলছে তা আমরা সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে চাইছি। আগামী একমাস পাল্টে পাল্টে বিভিন্ন এলাকায় মিছিল এবং পথসভা হবে। গুণীজনদের সামনে রেখেই আমরা আমাদের দাবি তুলে ধরব সাধারণ মানুষের কাছে। তৃণমূলের এই উদ্যোগকে যথারীতি কটাক্ষ করেছে বিজেপি। তাদের তরফে নদীয়া দক্ষিণ সংগঠনিক জেলা বিজেপির মুখপাত্র সোমনাথ কর বলেন, তৃণমূল সাধারণ মানুষের কাছে বাঙালি আর বাংলাদেশি বিষয়টিকে গুলিয়ে দিতে চাইছে। প্রচুর বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, যারা এতদিন তৃণমূলের ভোট ব্যাংক ছিল, তারাই ধরা পড়ছে। অথচ সেইটিকে সামনে রেখে তারা মানুষকে ভুল বোঝাতে চাইছে। এসআইআর হলে দেখা যাবে, এই রাজ্য থেকে কোটির কাছাকাছি নাম বাদ যাবে। যারা এতদিন ধরে তৃণমূলের ভোট ব্যাংক। যেহেতু ভোট ব্যাংকে টান পড়েছে, তাই বাঙালি ভাবাবেগকে হাতিয়ার করতে চাইছে।