


সংবাদদাতা, খড়্গপুর: প্রায় দেড় মাসের যুদ্ধ আপাতত শেষ। উৎকণ্ঠাকে সঙ্গী করে ৪ মে পর্যন্ত অপেক্ষার পালা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভোটপর্ব মিটেছে। গভীর রাতে গিয়ে স্ট্রং রুম সিল করেন প্রার্থীরা। শুক্রবার তাই একটু বেলা করেই ঘুম ভেঙেছে প্রার্থীদের। তারপর কেউ নিয়েছেন বিশ্রাম, কেউ পার্টি অফিসে পৌঁছেই ফোন করেছেন ইলেকশন এজেন্ট এবং বুথ কর্মীদের। শুক্রবার দুপুরে খড়্গপুর শহরের কৌশল্যাতে অবস্থিত জেলা বিজেপির কার্যালয় ছিল একেবারে শুনশান। বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষের সাউথ সাইডের বাংলোর সামনেও কাউকে দেখা যায়নি। দিলীপবাবু নিজেও দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রচারের জন্য এদিন সকালেই বেরিয়ে যান। খড়্গপুর শহরের গোলবাজারের কাছে তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকারের কার্যালয়। এদিন দুপুরের পর সেখানে যান প্রদীপ। তবে, তৃণমূল কর্মীরা অবশ্য সকাল থেকেই কম্পিউটারের সামনে বসে পড়েছিলেন। সেই সঙ্গেই ফোন ঘোরাচ্ছিলেন বিভিন্ন ওয়ার্ডে। পরে প্রদীপ পৌঁছে হিসেব মিলিয়ে দেখেন। বলেন, রেল শহর খড়্গপুরে মিশ্র সংস্কৃতির মানুষের বসবাস। এখানে লড়াই বরাবরই কঠিন। তবে, খুব ভালো ভোট হয়েছে এবার। মানুষ তাঁদের ঘরের ছেলের পক্ষেই রায় দিয়েছেন বলে আমি আশাবাদী।
অন্যদিকে, বাংলো ছাড়ার দিলীপ ঘোষ বলেন, খড়্গপুরের মানুষকে ধন্যবাদ। খড়্গপুরের ইতিহাসে এই প্রথম ৮৮ শতাংশের বেশি ভোট পড়ল। নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান তিনি। সেইসঙ্গেই বলেন, যেভাবে ভোট হয়েছে, বাংলায় পরিবর্তন নিশ্চিত। সেটা ওরাও বুঝে গিয়েছে। সবংয়ের তৃণমূল প্রার্থী মানসরঞ্জন ভুঁইয়া এদিন সকালে তেমাথানির দলীয় কার্যালয় থেকে বুথ কর্মী ও এজেন্টদের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন। দুপুরের পরে স্ট্রং রুম নিয়েও কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এদিন সকাল এগোরাটা নাগাদ মাদপুরের দলীয় কার্যালয়ে যান পিংলার তৃণমূল প্রার্থী অজিত মাইতি। কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বুথের রিপোর্ট খতিয়ে দেখেন। পরে নিজের ইলেকশন এজেন্টের সঙ্গেও কথা হয় তাঁর। অজিতবাবু বলেন, অভূতপূর্ব ভোট হয়েছে এবার। এসআইআরের বিরুদ্ধে ইভিএমেই তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভোটাররা। আপাতত সেই ইভিএম আমাদের রক্ষা করতে হবে। যাঁরা কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার করতে পারে, তারা ইভিএমেও কারচুপি করতে পারে। স্ট্রং রুম পাহারায় থাকবেন আমাদের কর্মীরা। তাঁদের সতর্ক থাকতে বলেছি। মেদিনীপুর ও ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের দুই সভাপতি সুজয় হাজরা ও অজিত মাইতি বলেন, পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৫টি আসনের মধ্যে ১৩ থেকে ১৪টিতে আমাদের জয় নিশ্চিত। ১৫টাও হতে পারে। পাল্টা মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি সমিত মণ্ডল বলেন, অভাবনীয় ফলাফল হবে বিজেপির। খড়্গপুর সদরে আমরা তিরিশ হাজারের বেশি ভোটে জিতব। গ্রামীণেও জিতব। মেদিনীপুর, দাঁতন, নারায়ণগড়, কেশিয়াড়িতেও বিজেপিই জিততে চলেছে। ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি তন্ময় দাস বলেন, ঘাটাল, ডেবরা, পিংলাতে আমাদের জয় নিশ্চিত। এমনকী কেশপুর, দাসপুর, সবংয়েও আমরাই জয়ী হব।