সংবাদদাতা, বোলপুর: সম্প্রতি প্রকাশিত ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউশনাল র্যাঙ্কিং ফ্রেমওয়ার্ক বা আইআইআরএফ ’২৬-এর র্যাঙ্কিং তালিকায় আরও তিনধাপ পিছিয়ে গেল বিশ্বভারতী। দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে প্রকাশিত এই তালিকায় ২০নম্বরে রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। গতবছর বিশ্বভারতী এই তালিকায় ১৭নম্বরে ছিল। উল্লেখ্য, এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়। প্রথম সারিতে রয়েছে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া, হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়। র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বভারতীর অবনমনে উদ্বিগ্ন প্রাক্তন ছাত্র ও প্রবীণ আশ্রমিকরা।
গত কয়েক বছরে আইআইআরএফ-এর তালিকায় বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ধারাবাহিকভাবে নীচের দিকে নেমেছে। ২০২৩সালে বিশ্বভারতীর স্থান ছিল অষ্টম। ২০২৪ সালে তা নেমে আসে ১৪-তে। গত বছরের চেয়ে আরও তিন ধাপ নামল এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান। ১৭তম থেকে চলতি বছর তা আরও তিন ধাপ নেমে ২০ নম্বরে পৌঁছেছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক মান ও অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে শিক্ষামহলে। এই র্যাঙ্কিং ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এই র্যাঙ্কিংকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, এটি একটি বেসরকারি সংস্থার প্রকাশিত র্যাঙ্কিং। এবিষয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। গতবারও ছিল না। আমাদের কাছে এনআইআরএফ র্যাঙ্কিংটাই গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে উন্নতি না হলে এই ধরনের র্যাঙ্কিং থেকে বিশেষ লাভ নেই।
উল্লেখ্য, ন্যাক বা ন্যাশনাল অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিলের মূল্যায়ন এবং এনআইআরএফ বা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশনাল র্যাঙ্কিং ফ্রেমওয়ার্ক র্যাঙ্কিংয়েও গত কয়েক বছরে ক্রমাগত বিশ্বভারতীর অবস্থান পিছিয়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই আবহেই প্রকাশিত হয়েছে আইআইআরএফের এই তালিকা। যদিও কোন কোন নির্দিষ্ট সূচকের ভিত্তিতে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে, তা নিয়ে বিশদ তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
প্রবীণ আশ্রমিক সুব্রত সেন মজুমদার এবং অপর্ণা দাস মহাপাত্র বলেন, গত কয়েক বছরে আইআইআরএফ ও এনআইআরএফ র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বভারতীর অবস্থান ক্রমশ নীচের দিকে নেমেছে। যা অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়। তবে আমরা আশাবাদী, বিশ্ববিদ্যালয় তার বর্তমান সমস্যাগুলি কাটিয়ে উঠে আবার শিক্ষার মান, গবেষণা এবং সামগ্রিক পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে উন্নতি করবে। রবীন্দ্রনাথের স্বপ্নের এই প্রতিষ্ঠান আগামী দিনে দেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে নিজের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করবে বলেই আমরা বিশ্বাস করি।
বিশ্বভারতীর প্রাক্তনী সোমনাথ সৌ বলেন, আগের উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর সময়ে বিশ্বভারতীর যে অবনমন শুরু হয়েছিল, তার প্রভাব এখনো রয়ে গিয়েছে। তবে বর্তমান উপাচার্য বেশকিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছেন। আমরা আশাবাদী, তিনি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চললে এবং আরও গঠনমূলক সিদ্ধান্ত নিলে আগামী দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ও র্যাঙ্কিং দুটোই উন্নত হবে।