Bartaman Logo
২২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শক্তিগড়ে বাস আটকে তৃণমূল কর্মীদের মার, ক্ষোভে মুখে ঋতব্রতপন্থী আশিস

শক্তিগড়ে বিজেপি কর্মীদের হামলায় আহত তৃণমূল কর্মীরা। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ও আক্রান্ত। কলকাতার সভায় যাওয়ার পথে এই ঘটনা ঘটেছে। বিস্তারিত পড়ুন।

শক্তিগড়ে বাস আটকে তৃণমূল কর্মীদের মার, ক্ষোভে মুখে ঋতব্রতপন্থী আশিস
  • ২২ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: কলকাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যাওয়ার পথে বর্ধমানের শুক্তিগড়ে বাস আটকে তৃণমূল কর্মীদের মারধর করল বিজেপি। এমনকি, ঋতব্রতপন্থী বলে পরিচিত রামপুরহাটের প্রাক্তন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিক্ষোভের মুখে পড়েন। বিজেপির হেনস্তার হাত থেকে রেহাই পাননি কংগ্রেস কর্মীরাও। তাঁদেরও বাস আটকানো হয়। অভিযোগ, এদিন সকাল থেকেই বিজেপি নেতা এবং কর্মীরা শক্তিগড়ে দাড়িয়ে কোন বাসে তৃণমূল কর্মীরা যাচ্ছেন, তা তাঁরা লক্ষ্য করতে থাকেন। সন্দেহ হলেই বাস আটকে তাঁরা হেনস্তা করে। বর্ধমান স্টেশনেও বিজেপি কর্মীরা নজরদারি চালায়। তা সত্ত্বেও পূর্ব বর্ধমান থেকে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা পতাকা ছাড়াই কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। অনেকেই ভোরের ট্রেন ধরে কলকাতায় পৌঁছে যান।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে শক্তিগড়ে বিজেপি কর্মীরা প্রথমে বাঁকুড়া থেকে আসা একটি বাস আটকায়। তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে তাঁরা বচসায় জড়িয়ে পড়েন। পরে বিজেপি নেতারা ফোন করে আরও লোকজন ডেকে মারধর শুরু করে। এই ঘটনায় পাঁচজন জখম হয়েছেন। এরপর জামুড়িয়া থেকে আসা আরও একটি বাস আটকানো হয়। এদিন গাড়িতে চড়ে কলকাতা যাচ্ছিলেন ঋতব্রত পন্থী নেতা রামপুরহাটের প্রাক্তন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। চা খেয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠার সময় তাঁকে ঘিরে কয়েকজন বিজেপি নেতা প্রশ্ন করতে থাকেন। তাঁরা বলেন, ‘আপনারা যাঁদের শহিদ করেছেন, তাঁদের কী হবে? কোন মুখে শহিদ দিবসে যাচ্ছেন?’ তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন মেমারি, মন্তেশ্বর, বর্ধমান, কালনা সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে তৃণমূলকর্মীরা কলকাতায় গিয়েছিলেন। বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের আটকানোর চেষ্টা হয়। সাতগেছিয়াতে কংগ্রেসের একটি বাস আটকানো হয়েছিল। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, এদিনের উচ্ছ্বাস, উদ্দীপনা প্রমাণ করে দিয়েছে, মানুষ ‘দিদি’র সঙ্গেই রয়েছে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে তৃণমূল কর্মী এবং সমর্থকরা কলকাতায় গিয়েছিলেন। বিজেপি সব জায়গাতেই আটকানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সফল হয়নি। 
বিজেপির যুব মোর্চার বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পিন্টু সাম বলেন, আমরা কোথাও তৃণমূলের লোকজনকে আটকাইনি। তবে, সাধারণ মানুষ তৃণমূলের উপর ক্ষুব্ধ। ওরা ক্ষমতায় থাকাকালীন মানুষের উপর অত্যাচার করেছিল। দুর্নীতি, লুটপাট করেছে। সেই কারণে কোথাও কোথাও সাধারণ মানুষ ওদের দেখে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানেও অনেকেই ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের ডাকে লোকজন কলকাতায় যাননি। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে লুটেপুটে খাওয়া কয়েকজন নেতা এদিন কলকাতায় যাননি। ‘সেফ জোনে’ থাকাই তাঁদের উদ্দেশ্য। 
বিজেপি অশান্তি পাকাতে পারে, এই আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। সেই কারণেই তৃণমূল কর্মীরা ভোর থেকেই বিক্ষিপ্তভাবে কলকাতায় যেতে থাকেন। কেউ কেউ আবার রাতেই পৌঁছে গিয়েছিলেন। এবার জেলা থেকে বাস যায়নি। ট্রেন এবং বাসে চড়ে কর্মসূচিতে যোগ দিতে যান।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ