নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: সদ্য সমাপ্ত কালীগঞ্জ উপনির্বাচনে বিপুল জয় পেয়েছে তৃণমূল। যা প্রমাণ করেছে বিধানসভা ভোটের আগে তাদের জমি শক্তই রয়েছে। এবার উত্তরের এই জয়কে পুঁজি করে নদীয়া দক্ষিণেও সাফল্য পেতে মরিয়া তৃণমূল। আড়াই হাজার বুথের ‘স্বাস্থ্য পরীক্ষা’ করতে চলছে তারা।
নবদ্বীপ থেকে কল্যাণী, বিস্তীর্ণ নদীয়া দক্ষিণে তৃণমূল ধাক্কা খেয়েছে গত বিধানসভা এবং লোকসভা নির্বাচনে। উত্তরে একচেটিয়া সাফল্য এলেও দক্ষিণে দক্ষতা দেখাতে পারেননি ঘাসফুলের প্রার্থীরা। অবশ্য তার অন্যতম কারণ যে দলীয় অন্তর্ঘাত, তা স্বীকার করেন দলেরই একাংশ। কিন্তু এবার পদ্মভূমে ঘাসফুল ফোটাতে মরিয়া তৃণমূল। কেন্দ্রে বিজেপি শাসনকালে গ্যাস থেকে পেট্রলের দাম, আমজনতার উপর যে বিপুল আর্থিক চাপ নেমে এসেছে তার সুবাদে লড়াইয়ের কাজটা অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে বলেই মনে করছে তৃণমূল। যদিও মাঠে গা ঘামিয়েই কাঙ্খিত সাফল্য পেতে চাইছে জেলা নেতৃত্ব। কালীগঞ্জ নির্বাচনে বিপুল জয়কেই পুঁজি করে লড়াইয়ে ঝাঁপাচ্ছে তারা। তাই বিধানসভা বা অঞ্চল ভিত্তিক নয়, জেলা নেতৃত্বের নজর বুথভিত্তিক জনসংযোগ এবং সাংগঠনিক কাজকর্ম। শাসকদল সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই নদীয়া দক্ষিণ অর্থাৎ রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের অন্তর্গত আড়াই হাজার বুথেই একটি করে বৈঠক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে বুথভিত্তিক দল কতটা প্রস্তুত রয়েছে তার স্পষ্ট চিত্র উঠে আসে। আর এই বিশেষ নজরদারির জন্য প্রতিটি বুথের বৈঠকে একজন করে জেলার নেতাকে পাঠানো হচ্ছে। যার কাজ শুধু বুথ ভিত্তিক ওই বৈঠকের নেতৃত্ব দেওয়া এবং আগামীর লক্ষ্য বেঁধে দেওয়াই নয়, সেই বুথ আদৌ কতটা তৈরি তার রিপোর্ট তৈরি করবেন সেই নেতাই। এরপর সরাসরি তা জমা পড়বে জেলা সভাপতি এবং বাকি জেলা নেতৃত্বের কাছে। এছাড়াও প্রকাশ্যে স্বীকার না করলেও অভ্যন্তরীণ খবর, কোন বুথে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে দল অথবা বিধানসভা নির্বাচনের ফলের উপর প্রভাব পড়বে তাও দেখে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই মতো প্রয়োজনে রদবদল হতে পারে সংগঠনের। কারণ রাজ্য নেতৃত্বকে আসন্ন বিধানসভায় রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার থেকে বেশকিছু আসন জিতে দেখাতে হবে। এছাড়াও ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিরা নিজস্ব এলাকায় নিজ নিজ পরিকল্পনা মতো জনসংযোগের কাজ শুরু করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, আমরা বিধানসভা অথবা অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা করছি না। এইবার আমরা বুথ ভিত্তিক দলের শক্তি সামর্থ্য যাচাই করে নিয়ে লড়াইয়ে নামতে চাইছি। মানুষের কাছ থেকে যে বার্তা পাচ্ছি, তাতে দক্ষিণ নদীয়ায় এবার তৃণমূল ব্যাপক সম্ভাবনাময় জায়গায় রয়েছে। বিজেপিকে মানুষ চাইছে না। প্রতিটি বুথে বৈঠক করে সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাই করতে হবে। যেখানে আমাদের জেলার একজন প্রতিনিধি যাবেন এবং আমাকে রিপোর্ট দেবেন।
এদিকে, তৃণমূলকে কটাক্ষ করে নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির মুখপাত্র সোমনাথ কর বলেন, গত বছর রানাঘাটের মানুষ বুঝেছিলেন। এবার গোটা রাজ্যের মানুষ বুঝে আর তৃণমূলকে ভোট দেবে না। কসবা থেকে আর জি কর, এবার আমজনতার শাসকদলকে উত্তর দেওয়ার পালা।