Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরবতাই অস্ত্র, রানাঘাট দক্ষিণে মতুয়াদের মনজয়ে ময়দানে তৃণমূল

তাহেরপুরের ভার্চুয়াল সভায় মতুয়াদের নাগরিকত্ব ইস্যুতে কার্যত চুপ ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারপরই বিজেপিকে নিয়ে চাপা অসন্তোষ শুরু হয়েছে মতুয়া মহলে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নীরবতাই অস্ত্র, রানাঘাট দক্ষিণে মতুয়াদের মনজয়ে ময়দানে তৃণমূল
  • ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৭:০১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: তাহেরপুরের ভার্চুয়াল সভায় মতুয়াদের নাগরিকত্ব ইস্যুতে কার্যত চুপ ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারপরই বিজেপিকে নিয়ে চাপা অসন্তোষ শুরু হয়েছে মতুয়া মহলে। এমতাবস্থায় এসআইআর আবহে নদীয়া দক্ষিণের সেই মতুয়াদের মন জয়ে উন্নয়নের পাঁচালি নিয়ে ঝাঁপাবে তৃণমূল। 

Advertisement

তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২ জানুয়ারি থেকে নদীয়া দক্ষিণে শুরু হচ্ছে তৃণমূলের রাজনৈতিক কর্মসূচি ‘উন্নয়নের পাঁচালি’। মূলত সরকারে থেকে তারা কী কী জনকল্যাণমূলক কাজ করেছে, সেগুলি জনমানসে তুলে ধরাই লক্ষ্য। ছাব্বিশের মেগা নির্বাচনের আগে এটাই যে তৃণমূলের অন্যতম অস্ত্র। আর নদীয়া দক্ষিণে তৃণমূলেরঅ্যাডভান্টেজ মতুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়েতাহেরপুরে প্রধানমন্ত্রীর নীরব অবস্থান। এতদিন বিজেপি নেতারা রীতিমতো ঢাকঢোল পিটিয়ে বলে বেড়িয়েছেন, মোদিজি এলেই সব মুমকিন। মতুয়াদের নাগরিকত্ব নিয়ে কোনওসমস্যা থাকবে না। অথচ, মোদিজি এলেন, কিন্তু তাঁদের নিয়ে একটি শব্দও খরচ করলেন না। ফলে হতাশ দু’পক্ষই। প্রথম পক্ষ মতুয়া সমাজ। দ্বিতীয় পক্ষ অবশ্যই বিজেপির নেতা-কর্মীরা। তাঁরা এখন মতুয়াদের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছেন বলে সূত্রের খবর। 
ভোটের আগে এই সুযোগকে হাতছাড়া করতে চাইছে না তৃণমূল। মতুয়াগড়ে নাগাড়ে উন্নয়নের সাফল্য তুলতে মরিয়া তারা। তাই উন্নয়নের পাঁচালি কর্মসূচিকে অস্ত্র করে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপাচ্ছে সাংগঠনিক জেলার ৯টি বিধানসভার নেতা-কর্মীরা। জানা গিয়েছে, কৃষ্ণগঞ্জ থেকে কল্যাণী, হরিণঘাটা থেকে শান্তিপুর—৯টি বিশেষ দল তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি বিধানসভায় তৃণমূল সরকারের উন্নয়ন নিয়েপ্রচার করবে দলগুলি। প্রতিটি দলে থাকবেন ২৫ থেকে ৩০ জন সদস্য। একেবারে বামদের মতো মাঠে ময়দানে ‘জাঠা’ গোছের কর্মসূচি। মানুষকে বোঝানো হবে, ধর্মীয় তাস নয়, মতুয়াদের সার্বিক উন্নয়নই রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য। বিষয়টি নিয়ে রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের সভাপতি দেবাশীষ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘মতুয়াদের পাশে তৃণমূল ছিল, আছে ও থাকবে। আমরা ধর্মের লোভ দেখিয়ে নয়, উন্নয়নের মাধ্যমে মতুয়াদের মন জয় করতে চাই। আমাদের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নদীয়া দক্ষিণের মানুষের জনমত একত্রিত করবে। তাছাড়া মতুয়াদের দিশা দেখাতে জানুয়ারির শুরুতেই রানাঘাটে আসছেন আমাদের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আমরা জ্বলন্ত ইস্যু এড়িয়ে যাই না। তাই মানুষ আমাদের পাশে থাকে।’
যদিও বিষয়টি নিয়ে নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির মুখপাত্র সোমনাথ কর বলেন, ‘মতুয়ারা তৃণমূলের পাশে নেই। তাই আগের বিধানসভায় এখানে তৃণমূলকে তারা শূন্য করে দিয়েছিল। এবার রাজ্যের মানুষ তাদের পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির পাঁচালি শুনিয়ে বিদায় করে দেবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ