নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: অন্য দলের অনেক নেতা ও কর্মী তৃণমূলের ঘরে আসার জন্য দরজায় কড়া নাড়ছে। কিন্তু, সহজে দরজা খুলবে না শাসক দল। ঘরে ঢোকানোর আগে অন্য দল থেকে আসা নেতা, কর্মীদের বায়োডাটা যাচাই করবে। দলের স্থানীয় কর্মীদের মতামতও গুরুত্ব পাবে। তাঁদের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া গেলে তবেই দরজা খোলা হবে। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বর্ধমান-১ ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি পরমেশ্বর কোনারের একটি সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি নিজের সিদ্ধান্তেই পাঁচ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করার কথা ঘোষণা করেন। জেলা বা রাজ্য নেতৃত্ব তা ভালোভাবে নেয়নি। ওই ব্লক সভাপতিকে শোকজ করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলার অন্যান্য নেতাদেরও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অন্য দলের কাউকে নিজেদের ইচ্ছেমতো নেওয়া যাবে না।
বর্ধমানের সংস্কৃতি লোকমঞ্চে তৃণমূলের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, কাউকে দলে নিতে হলে ব্লক সভাপতিদের তরফে জেলা নেতৃত্বকে জানাতে হবে। জেলা সেটা রাজ্যে জানাবে। সেখান থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া গেলে তবেই কাউকে দলে নেওয়া হবে। তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, বুথস্তরে অন্য দলের কোনও নেতাকে সংগঠনে নিতে হলে সেটাও জেলাকে জানাতে হবে। দলে শৃঙ্খলা ফেরাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগে বিজেপি বা সিপিএমের অনেকেই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেছেন। তা স্থানীয় কর্মী এবং সমর্থকরা ভালোভাবে নেননি। তাছাড়া এখন তৃণমূলের সংগঠন যথেষ্ট শক্তিশালী। সমস্ত বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল জয়ী হয়েছে। দু’টি লোকসভা কেন্দ্রও শাসক দলের দখলে। এই অবস্থায় অন্য দলের কাউকে প্রয়োজন হবে না বলেই নেতৃত্ব মনে করছে। দলের এক নেতা বলেন, ব্লক সভাপতিদেরও ক্ষমতা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বর্ধমান-১ ব্লকের সভাপতিকে শোকজ করে সেই বার্তা দেওয়া হয়েছে। ব্লক সভাপতি শোকজের জবাব দিয়েছেন। তিনি পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেছেন। জেলা নেতৃত্ব তাঁর শোকজের জবাব খতিয়ে দেখছে।
দলীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ব্লক সভাপতির বহিষ্কারের তালিকায় ছিলেন বৈকুণ্ঠপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান জয়দেব বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে দলের অন্য গোষ্ঠীর টানাপোড়েন দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। জয়দেবাবু প্রায় এক বছর ধরে পঞ্চায়েতে আসছেন না। তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দলের কর্মসূচিতে তাঁকে সক্রিয়ভাবে দেখা যায় না। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। সেই কারণেই পঞ্চায়েতে যাই না। তবে দলের সৈনিক হয়ে কাজ করছি। সিপিএম জমানায় বৈকুণ্ঠপুর এলাকায় হাতেগোনা কয়েকজন দল করতেন। তার মধ্যে আমি ছিলাম।
দলের আরএক নেতা বলেন, শহর লাগোয়া এই পঞ্চায়েত এলাকায় জমির দাম অগ্নিমূল্য। খাসজমি দখল বা অবৈধ নির্মাণ নিয়ে এই এলাকার কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে। ব্লক সভাপতির বহিষ্কারের তালিকায় অবশ্য সেই নেতারা ছিলেন না।