নিজস্ব প্রতিনিধি, পাঞ্চেত (ঝাড়খণ্ড): পার্শ্ববর্তী রাজ্যের ঝাড়খণ্ডে গিয়ে ডিভিসির বিরুদ্ধে সুর সপ্তমে তুললেন তৃণমূলের নেতামন্ত্রীরা। শুক্রবার ঝাড়খণ্ডের পাঞ্চেতে ডিভিসির অফিস ঘেরাও করে তুমুল বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা। শাসকদলের পশ্চিম বর্ধমান ও পুরুলিয়ার কর্মী সমর্থকরা এদিনের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে হাজির হয়েছিলেন। উপস্থিত হয়েছিলেন ঝাড়খণ্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ। মাইথনে আগের দিনের জমায়েতে থেকেও ব্যাপক ভিড় দেখা গিয়েছিল। রাজ্যের শাসক দলের কর্মী সমর্থকদের উৎসাহ দেখে ডিভিসিকে তীব্র আক্রমণ করেন রাজ্যের শ্রম ও আইন মন্ত্রী মলয় ঘটক।
তিনি বলেন, দামোদরকে বাংলার দুঃখ বলা হতো। এখন ডিভিসির বাঁধ বাংলাবাসীর ত্রাস। প্রতিবছর ৪-৫ বার এই বাঁধগুলি থেকে পরিকল্পনা করে অতিরিক্ত জল ছেড়ে বাংলার বিস্তীর্ণ অংশের চাষের জমি ভাসিয়ে দেওয়া হয়। ডিভিসি পরিকল্পনা করেই চাষের জমি নষ্ট করছে। লক্ষ লক্ষ চাষি সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। আমরা এই জিনিস আর বরদাস্ত করব না। এদিন ডিভিসি অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করলাম। তাদের অবস্থান বদল না হলে ধারাবাহিকভাবে ধর্না দিয়ে অফিস ঘেরাও করে রেখে দেওয়া হবে। রাজ্যের আইনমন্ত্রী আরও বলেন, স্পষ্ট ভাষায় ডিভিসিকে জানিয়ে দিয়েছি রাজ্যকে না জানিয়ে ডিভিসি অতিরিক্ত জল ছাড়লে সমস্ত ক্ষতিপূরণ ডিভিসিকেই দিতে হবে। জমিতে যে ফসল নষ্ট হবে, তার ক্ষতিপূরণ তাদেরই দিতে হবে। এদিনের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন জামুড়িয়ার বিধায়ক হরেরাম সিংহ। পশ্চিম বর্ধমানের তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা চেয়ারম্যান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা যদি একদিন অফিস ঘেরাও করতে পারি, তাহলে দিনের পর দিনও তা করতে পারি। আমাদের সে কাজে বাধ্য করাবেন না। রাজ্যকে না জানিয়ে কোনওভাবেই জল ছাড়া চলবে না। তাহলে এর থেকেও বৃহৎ আন্দোলন হবে। আসানসোল পুরসভার ডেপুটি মেয়র ওয়াসিমুল হক পুরসভার একাধিক বরো চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলাররা উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত হয়েছিলেন পুরুলিয়া জেলার নিতুরিয়ার ব্লক সভাপতি অমরচন্দ্র মাজি, সাঁতুড়ির ব্লক সভাপতি রামপ্রসাদ চক্রবর্তী, রঘুনাথপুর বিধানসভা এলাকার পরাজিত তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হাজারি বাউরি প্রমূখ। অমরচন্দ্র মাজি স্থানীয় একটি সমস্যাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ডিভিসি পাঞ্চেত জলাধারে সোলার প্রজেক্ট করতে চাইছে। সম্পূর্ণ জলাধারের ওপরই সোলার প্যানেল বসানো হবে। কয়েক দশক ধরে এই জলাধারে মাছ ধরে জীবিকা অর্জন করছেন কয়েক হাজার মৎস্যজীবী। বাঁধজুড়ে সোলার প্যানেল বসানো হলে তাদের কী হবে। তাদের বিকল্প ব্যবস্থা করেই ডিভিসিকে এই প্রজেক্টে হাত দিতে হবে। না হলে স্থানীয়দের নিয়ে আন্দোলন হবে। ধর্না বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব ডিভিসি আধিকারিকদের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন। পাশাপাশি তারা হুঁশিয়ারি দেন, দাবি পূরণ না হলে ডিভিসির কলকাতা অফিস ঘেরাও করা হবে। তৃণমূলের আন্দোলনের চাপেই হোক বা জলাধারে জলস্তর নেমে যাওয়ার ফলে শুক্রবার ডিভিসি জল ছাড়া অনেকটাই কমিয়েছে। এদিন তাদের মাইথন জলাধার থেকে চার হাজার কিউসেক হারে ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে ৮ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে।
মন্ত্রী মলয় ঘটকের নেতৃত্বে পাঞ্চেত ডিভিসির কার্যালয়ের বিক্ষোভ ও গণ ডেপুটেশন।-নিজস্ব চিত্র