নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ২১জুলাই শহিদ সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে শনিবার কাঁথিতে বড় সভা করল তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। জনমঙ্গল সমবায় সমিতির সভাগৃহে সভায় মহকুমা থেকে কয়েকশো শিক্ষক ও শিক্ষিকা যোগ দেন। সভায় জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক, জেলা তৃণমূল সভাপতি পীযূষকান্তি পণ্ডা, সংগঠনের রাজ্য সভাপতি পলাশ সাধুখাঁ, কাঁথি-৩ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশ বেজ সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
বছর গড়ালেই রাজ্যে বিধানসভা ভোট। তার আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী বার্তা দেন, তা জানতে ২১জুলাই ধর্মতলার সমাবেশের দিকে মুখিয়ে আছেন নেতা-কর্মীরা। সেই সমাবেশে যেতে আগ্রহী শিক্ষক-শিক্ষিকারা যাতে ক্যাজুয়াল লিভ(সিএল) নিয়ে যোগ দেন, সেই আর্জি এদিনের সভায় জানানো হয়।
তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর প্রাইমারি শিক্ষকদের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। তারমধ্যে মাসপয়লা বেতনের পাশাপাশি জেলায় জেলায় প্রধান শিক্ষকদের প্যানেল তৈরি, উৎসশ্রী পোর্টালে মাধ্যমে নিজের এলাকায় নিয়োগ, প্রশিক্ষণহীন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, উচ্চ মাধ্যমিকে ৫০শতাংশ নম্বর না থাকা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরফলে শিক্ষক-শিক্ষিকারা এই সুবিধা পাচ্ছেন। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এককালীন প্রায় দু’হাজার স্কুলে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে। এরফলে প্রশাসনিক জটিলতা কেটেছে।
এদিন প্রায় এক হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা সমাবেশে যোগ দেন বলে সংগঠনের জেলা সভাপতি দীপক মণ্ডল জানান। তিনি বলেন, হলঘরে সবার জায়গা দেওয়া সম্ভব হয়নি। অনেকেই সিঁড়ি থেকে ঘুরে নীচে গিয়ে অপেক্ষা করেন। আমরা সারাবছর শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পাশে থেকে সাংগঠনিক কাজকর্ম পরিচালনা করি। আগামী ২১জুলাই ধর্মতলায় শহিদ সমাবেশে তাঁদের যাওয়ার জন্য আর্জি রাখা হয়েছে। আগামী দিনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হাত শক্ত রাখাই আমাদের লক্ষ্য।
জেলা পরিষদের সভাধিপতি বলেন, শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর। আমাদের রাজ্য সরকার সবসময় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পাশে আছে। ২১জুলাই শহিদ সমাবেশের প্রস্তুতি এই সভায় শিক্ষকশ্রী-শিক্ষিকাদের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দেখে আমরা অভিভূত। তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের জেলা কার্যকরী সভাপতি পার্থসারথি ত্রিপাঠী বলেন, কাঁথি সাংগঠনিক জেলার প্রতিটি চক্র থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকারা এদিনের সভায় যোগ দেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে ধর্মতলায় সমাবেশে যাওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।