নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বাম আমলের রক্তাক্ত অতীত এখনও মুছে যায়নি। শোষণ ও অত্যাচারের নীরব সাক্ষী ঝাড়গ্রাম জেলার মানুষ। তৃণমূলের ৩০০-র উপর নেতা কর্মী খুন হয়েছিলেন। নেতাই, দুবড়ার মতো গণহত্যার ঘটনা ঘটেছিল। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা সেই কথা ভুলে যাননি। শহিদ স্মরণ সমাবেশ তৃণমূলকে সঙ্ঘবদ্ধ হওয়ার কথা মনে করায়। ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব এবারও একুশে জুলাইকে সামনে রেখে জোরদার প্রস্তুতি শুরু করেছে। জেলাজুড়ে প্রচার, প্রস্তুতি সভা চলছে।
ঝাড়গ্রাম আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা। জেলার বেশিরভাগ মানুষ অরণ্য ও পাহাড়ী স্থানে বসবাস করেন। দারিদ্র, ক্ষুধা ছিল এইসব এলাকার মানুষের নিত্যসঙ্গী। বছরে একবার চাষ বাদ দিলে জঙ্গলের শালপাতা, শুকনো কাঠ, পিঁপড়ের ডিম সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করতে হতো। নদী ঘেরা বেশিরভাগ গ্ৰাম ছিল বিচ্ছিন্ন। জমির ফসল বাইরে বিক্রি করার সুযোগ ছিল না। জেলার ব্যবসা ও বাণিজ্য কেন্দ্র ছিল হাতে গোনা। পর্যটনকেন্দ্রিক অর্থনীতি গড়ে ওঠেনি। গ্ৰামীণ কুটির শিল্প বাজার ও পরিকাঠামোর অভাবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। তার সঙ্গে স্থানীয় বাম নেতাদের অত্যাচার ও দাপটে স্থানীয় মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছিল। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে জেলার নারী ও পুরুষ জোটবদ্ধ হতে শুরু করেন। জঙ্গলঘেরা অরণ্যে প্রতিবাদের আগুন জ্বলতে শুরু করে। জেলার বাম নেতৃত্ব ও তাদের সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর লোকজন তাতেই প্রমাদ গুনতে শুরু করেন। সাধারণ মানুষের উপর শুরু হয় অত্যাচার। একের পর এক নিরস্ত্র মানুষের প্রাণ যেতে শুরু করে। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নাম করে জঙ্গলমহলে মাওবাদীরা ঢুকে পড়ে। উন্নয়নকে পিছনে ফেলে দুই গোষ্ঠীর ক্ষমতা দখলের লড়াই শুরু হয়। যার আবর্তে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের দল পড়ে যান।
২১ জুলাই এলেই অতীত দিনের কথা ফিরে আসে। একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ ঘিরে তাঁরা নতুন করে সংকল্পবদ্ধ হন। হিংসা ও খুনোখুনির রাজনীতির বিরুদ্ধে উন্নয়নকে হাতিয়ার করে লড়াইয়ের শপথ নেন। জামবনী ব্লকের এক প্রবীণ তৃণমূল নেতা বলেন, দুবড়া গণহত্যার যন্ত্রণা এখনও আমরা ভুলতে যায়নি। এলাকার মানুষ অত্যাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিল। তার জন্য অনেককে প্রাণ হারাতে হয়েছিল।
গোপীবল্লভপুর-১ ব্লকের তৃণমূল নেতা হেমন্ত ঘোষ বলেন, উন্নয়নমূলক কাজই আমাদের হাতিয়ার। ব্লকজুড়ে একুশে জুলাই নিয়ে প্রচার ও সভা করা হচ্ছে। দলের তরুণ কর্মীদের জানানো হচ্ছে, শান্তি ফিরে এসেছে। উন্নয়নমূলক কাজ জেলার প্রান্তিক এলাকার মানুষ ভালোভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূলের সভাপতি দুলাল মুর্মু বলেন, একুশে জুলাই শহিদ স্মরণের দিন, তর্পণের দিন। বাম আমলে ঝাড়গ্রামে বহু নিরীহ মানুষ খুন হয়েছিলেন। দলের যেসব নেতা কর্মী মানুষকে নিয়ে প্রতিবাদে নেমেছিলেন তাঁদের অনেকে প্রাণ দিয়েছেন। আমরা তাঁদের ভুলে যাইনি। একুশের সমাবেশে প্রবীণ থেকে তরুণ সকলস্তরের নেতা-কর্মী শহিদ স্মরণ সমাবেশ শামিল হবেন।-নিজস্ব চিত্র