সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ব্যবসায়ীকে জুতোপেটার পর এবার রাস্তায় পাথরবোঝাই গাড়ি আটকে তোলাবাজির অভিযোগ উঠল তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি লালু শেখের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, টাকা না দেওয়ায় রবিবার গভীর রাত থেকে জোর করে তিনটি গাড়ি আটকে রেখেছেন ওই অঞ্চল সভাপতি ও তাঁর দলবল। এমনকি গাড়িগুলি আটকে বিএলএলআরওকে কল করেন। গাড়িতে উঠে পাথরের চালান বের করার জন্য নিজের লোকজনকে নির্দেশও দেওয়ার ভিড়িও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। যদিও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’। এদিন দুপুরে ওই অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন গাড়ির মালিকরা। বিডিও এবং ভূমি সংস্কার দপ্তরেও অভিযোগ জানানো হয়েছে।
গত ৩ নভেম্বর রাতে পাওনা টাকা চাওয়ায় মুরারইয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় এক ব্যবসায়ীকে জুতোপেটা করার অভিযোগ ওঠে ওই অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে। তাঁর স্ত্রী মুরারই পঞ্চায়েতের প্রধান। পরেরদিন থানায় লালুর নামে লিখিত অভিযোগ করেন ওই ব্যবসায়ী। ঘটনায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও রিপোর্ট পাঠান দলের জেলা চেয়ারম্যান আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর ২০দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ। তাতেই আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন ওই তৃণমূল নেতা।
রবিবার ঝাড়খণ্ডের শহরগাঁ থেকে পাথর বোঝাই করে বিহার যাচ্ছিল তিনটি গাড়ি। অভিযোগ, মুরারইয়ের নতুন বাজারের কাছে তিনটি গাড়ি আটকে রয়্যালটির চালান দেখতে চান লালু ও তার দলবল। তারা প্রশাসনের কেউ না হওয়ায় কাগজ দেখাতে চাননি চালকরা। তারপরই রাস্তার ধারে তিনটি গাড়ি আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। রাজগ্রামের বাসিন্দা গাড়ির মালিক জেলা পরিষদের সদস্য প্রদীপ ভকতের ছেলে প্রণয়কুমার ভকত বলেন, এর আগের দিনও একই ঘটনা ঘটেছিল। চালক চালান না দেখানোয় ওরা জোর করে গাড়িতে উঠে কাগজ দেখে তবেই গাড়ি ছাড়ে। উনি কাগজ দেখার কে? তাঁর অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে সমাজবিরোধী হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তিরা ডিসিআরের নামে টাকা আদায় করে আসছে। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও চালকরা তাদের তোলা দিতে অস্বীকার করায় জোর করে গাড়ি আটকে দিচ্ছে। প্রদীপবাবু বলেন, তিনটি গাড়ির বৈধ রয়্যালটি দেওয়া হয়েছে। তারপরও লালুর নেতৃত্বে কিছু ছেলে টাকা আদায় করছিল।
যদিও অভিযুক্ত লালু শেখ বলেন, একটি রয়্যালটির চালানে তিন-চারবার গাড়ি চালানো হচ্ছে। তারপর ৭০০সিএফটি চালান কেটে হাজার সিএফটি পাথর লোড করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ৩০০সিএফটির রয়্যালটি কাটতে হবে। আপনি কি চালান দেখতে পারেন? উত্তরে লালু বলেন, ডিসিআর গেটে একজনের হয়ে ম্যানেজারি করি। আসলে দলের অন্য গোষ্ঠীর লোকজন আমাকে অঞ্চল সভাপতির পদ থেকে সরাতে অভিযোগ তুলছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি বিডিও দেখছেন। বিডিও বীরেন্দর অধিকারী বলেন, বাইরের কেউ সরকারি চালান দেখতে পারেন না। চালান যাতে তাঁদেরই কর্মী পরীক্ষা করেন সেব্যাপারে বিএলএলআরওকে বলা হয়েছে।
মুরারই-১ বিএলএলআরও জয়ন্ত ভড় বলেন, ওখানে আমাদের দপ্তরের কেউ ছিল না। একটা সমস্যা হয়েছে। অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগকারী ও অভিযুক্তদের ডেকেছি। সমস্যা ব্যাপারে শুনে সমাধান করা হবে। তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি লালু শেখ। -নিজস্ব চিত্র