


অগ্নিভ ভৌমিক, বেথুয়াডহরি: ‘বেটা মানুষ যা দেয় না, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী তাই দিচ্ছেন..’ নাকাশিপাড়া বিধানসভার পাটিকাবাড়ির বকুলতলা মোড়ের ছোট্ট মিষ্টি দোকানে খদ্দেরদের ভিড় সামলাতে সামলাতে বলছিলেন মালতি সরকার। ভোটের হাওয়া কী বুঝছেন? জিজ্ঞাসা করতেই সটান উত্তর, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাসে মাসে টাকা দিচ্ছেন। কারো কাছে হাত পাততে হয় না। তাই অন্য কাউকে ভোট দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তাঁর গ্রামে পদ্মফুল ফুটলেও এবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের কাছে গেরুয়া শিবির কলকে পাবে না বলে মনে করছেন তিনি। এই নাকাশিপাড়া বিধানসভায় কয়েক বছর আগের সাম্প্রদায়িক অশান্তির ক্ষত এখনো সকলের মনে আছে। নির্বাচনের মুখে ফের সেই বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে সাধারণ মানুষের কাছে। ওই ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, এমনটাই চাইছেন বেথুয়াডহরি সহ নাকাশিপাড়াবাসী।
বেথুয়াডহরি বিডিও অফিস সংলগ্ন চায়ের দোকানে কথা হচ্ছিল উৎপল বিশ্বাসের সঙ্গে। তাঁর কথায়, ‘নাকাশিপাড়া সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জায়গা। কিন্তু সেখানেই হিংসার বীজ পোঁতা হয়েছে। যে দল এই বীজ উপড়ে ফেলতে পারবে ভোট তাদের দেব। সেই কথা শুনে চায়ের দোকানের মালিক বললেন, সেটা একমাত্র তৃণমূলই পারবে দাদা। আমাদের গ্রামে ৪০০ জন ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। অথচ তাঁদের চৌদ্দ পুরুষ ওই গ্রামেই ছিল। খালপাড়া মোড়ের কাছে এক ছোট্ট রেস্টুরেন্টে বসে মধ্যাহ্নভোজ সারছিলেন বছর তিরিশের কয়েকজন যুবক। তাঁদের টেবিলে প্লেটে সাজানো বিরিয়ানি আর মাংস। চৈত্র মাস হলেও, ভোট মরশুমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নির্বাচন। এলাকায় উন্নয়ন হয়েছে? প্রশ্ন তুলতেই এক যুবক বললেন, দাদা আগে আমাদের মাটির রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হত। এখন পাকা রাস্তা হয়েছে। উন্নয়নের কাজ এখনো বাকি আছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়ের উপর আমাদের ভরসা আছে। পাশে দাঁড়িয়ে এই আলোচনা শুনতে শুনতে বছর চল্লিশের কৌশিক হালদার বলে উঠলেন, ‘তৃণমূলের সরকারের থেকে নাকাশিপাড়ায় ঘাসফুলের বয়স বেশি। ভরা বাম জমানায় আমরা তৃণমূলকে ভোট দিয়ে জিতিয়েছি। কিন্তু এখন সেই তৃণমূলকে চেনা যায় না। কাজের অভাবে কত ছেলে বাইরে চলে যাচ্ছে। এবার পরিবর্তন দরকার।’
এবার নাকাশিপাড়ায় তৃণমূল চাইছে ডবল হ্যাটট্রিক করে গড় অক্ষুন্ন রাখতে। তাই বাজি ধরেছে পাঁচবারের বিধায়ক বর্ষীয়ান কল্লোল খাঁ’র উপর। অন্যদিকে তৃণমূলকে সরাতে মরিয়া বিজেপি। এবার এখানে লড়াই দ্বিমুখী। খসড়া, চূড়ান্ত ও সাপ্লিমেন্টারি তালিকা মিলিয়ে ৩০ হাজারের বেশি নাম বাদ যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যার সিংহভাগই সংখ্যালঘু ভোট।
নাকাশিপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রটি কল্লোলবাবু হাতের তালুর মতো চেনেন। প্রচারে উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরছেন তিনি। কল্লোলবাবু বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নাকাশিপাড়ার ছবিটাই বদলে গিয়েছে। নাম বাদ দিয়ে পার পাবে না বিজেপি। এটা মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। তাই বিপন্ন হবে বিজেপির অস্তিত্ব।
যদিও বিজেপি প্রার্থী শান্তনু দে’র দাবি, পাঁচবারের বিধায়ক হলেও বৃহৎ স্বার্থে উনি নাকাশিপাড়ার জন্য কিছুই করেননি। দীর্ঘদিনের পুরসভার দাবি আজও পূরণ হয়নি।
গত বিধানসভা নির্বাচনে কল্লোল খাঁ এই কেন্দ্রে ২৩ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। পঞ্চায়েত নির্বাচনে নাকাশিপাড়ার ৬টি পঞ্চায়েত বিরোধীদের দখলে যায়। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে ব্যবধান কমলেও এগিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। একুশের মার্জিনকে ছাপিয়ে যাওয়ার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েছে তৃণমূলের কর্মীরা।