নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: পুলিস কর্মীর ঘেরাটোপে রয়েছেন এক যুবক। তাঁর গায়ে আকাশি রঙের টি-শার্ট। যুবককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কয়েকজন। চলছে তর্কাতর্কি, বচসা। কার্যত তাঁকে হেনস্তা করা হচ্ছে। ওই পুলিস কর্মী তাঁদের শান্ত করার চেষ্টা করছেন। তাতেও থামানো যাচ্ছে না কাউকেই। তাঁদের কাউকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণা করবে আর নেতা হয়ে ঘুরে বেড়াবে।’ কেউ আবার বলছেন, ‘নেতার ব্যাটা মানে কি টাকা লুট করবে?’
এরকমই বেশ কয়েকটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আকাশি টি-শার্ট পরিহিত যে যুবককে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তাঁর নাম ইবন হেমব্রম। পুরুলিয়া জেলা পরিষদের মেন্টর তথা ওই এলাকার ‘দাপুটে’ তৃণমূল নেতা অঘোর হেমব্রমের ছোট ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে ওই যুবকদের অভিযোগ, চাকরি দেওয়ার নাম করে ইবন প্রতারণা করেছে।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি সপ্তাহ খানেক আগে বলরামপুরের বাঁশগড় এলাকায় ঘটে। তৃণমূল নেতার ছেলেকে ওই এলাকায় ডেকে নিয়ে আসেন তাঁরই পরিচিত কয়েকজন। তারপরেই তাঁকে ঘিরে ধরে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয়, যুবককে উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে বলরামপুর থানার পুলিসকে পৌঁছতে হয়। সেই ঘটনার ভিডিও করেন কেউ কেউ। তা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
ভিডিওতে একজনকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘নেতার বেটা হয়ে চুরি করবে আবার বাপের ১০ লাখ, ৫ লাখ টাকা ওড়াবে। বাপের রাজ্যে মস্তি করবে।’ কেউ আবার বলছেন, ‘এই ঘটনা পুরো বলরামপুরবাসীর জানা উচিত। রুলিং পার্টি বলে পুলিস প্রশাসন পুরো সাপোর্ট করছে।’ একজন আবার বলছেন, ‘নেতার বেটা মানে কি টাকা লুট করবে?’ অন্যজনকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘আমি টাকা ফেরত চেয়েছিলাম। আমাকে ধমকি দিয়েছিল। বলেছিল তোরা যা পারবি করে নে।’ কেউ বলছেন, ‘তোর মেন্টর বাবা নিজে আমাকে বলেছিল টাকা দিয়ে দেবে। দেয়নি। আজ কাল করে ঘুরিয়েই যাচ্ছে।’ ভিডিওর শেষে এক যুবককে চিত্কার করে বলতে শোনা যাচ্ছে, ৩৫ লক্ষ টাকা স্টুডেন্টদের কাছ থেকে লুট করে নিয়ে গিয়েছে। এখন পুলিস নিয়ে যেতে এসেছে? গোটা বাঁশগড় প্রতিবাদ করতে বের হবে। অঘোর হেমব্রমকে টাকা দিতে বল। তারপর তোকে নিয়ে যাবে।’
দীর্ঘক্ষণ এভাবে বচসা চলতে থাকে। পরবর্তীকালে ওই যুবকদের বুঝিয়ে সুজিয়ে পুলিস উদ্ধার করে অঘোরবাবুর ছেলেকে নিয়ে যায়। থানায় অভিযোগ জানাবে বলে বলরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে উদ্দেশ্য করে গত ১৬ মার্চ একটি চিঠিও লেখেন প্রতারিত যুবকরা। যদিও ‘অজ্ঞাত’ কারণে সেই চিঠি থানায় জমা পড়েনি। তবে সেই চিঠিও ভাইরাল হয়েছে। সেই চিঠির সূত্রে জানা যায়, প্রতারিত যুবকদের বাড়ি বলরামপুরেই। সেচদপ্তরে চাকরি দেওয়ার নাম করে চারজন যুবকের কাছ থেকে প্রায় ৮ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা অভিযুক্ত হাতিয়েছিলেন।
এনিয়ে ইবনকে কল করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ ছিল। তাঁর বাবা জেলা পরিষদের মেন্টর অঘোরবাবু বলেন, ‘আমার ছেলেকে হেনস্তা করা হয়েছে। ওই সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা। আমাকে কালিমালিপ্ত করতে বিজেপি এইসব চক্রান্ত করছে।’ পাল্টা বিজেপির জেলা সহ সভাপতি গৌতম রায় বলেন, ‘ওই যুবকের বিরুদ্ধে এরকম বহু অভিযোগই রয়েছে। প্রভাবশালীর ছেলে বলে প্রতারিতদের ভয় দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখা হচ্ছে। এটাই তৃণমূলের কালচার।’