Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মল্লারপুরে তৃণমূল নেতা খুনের ঘটনা অভিযোগের তির বিজেপি ও সিপিএমের দিকে, গ্রামের আটজনের নামে অভিযোগ দায়ের, গ্রেপ্তার ১

মল্লারপুরের বিশিয়া গ্রামে তৃণমূল নেতা বাইতুল্লা শেখ খুনের ঘটনায় বিজেপি ও সিপিএমের দিকে আঙুল তুলল পরিবার

মল্লারপুরে তৃণমূল নেতা খুনের ঘটনা অভিযোগের তির বিজেপি ও সিপিএমের দিকে, গ্রামের আটজনের নামে অভিযোগ দায়ের, গ্রেপ্তার ১
  • ২১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মল্লারপুরের বিশিয়া গ্রামে তৃণমূল নেতা বাইতুল্লা শেখ খুনের ঘটনায় বিজেপি ও সিপিএমের দিকে আঙুল তুলল পরিবার। তবে, দু’টি রাজনৈতিক দলই রবিবার পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেছে, বাইতুল্লাকে খুন হয়েছেন তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে। গতকাল রাতেই নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় গ্রামেরই আটজনের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।  পুলিস বসির শেখ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। মৃতের পরিবারের দাবি, বসির বিজেপি করে। এদিন আদালতে তোলার পথে সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে বসির অবশ্য জানান, তিনি তৃণমূল দল করেন। পুলিস সন্দেহবশত তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। বিচারক ধৃতের দশদিন পুলিস হেফাজত মঞ্জুর করেছেন। তৃণমূল বিধায়ক অভিজিৎ রায় বলেন, বসির তৃণমূল সমর্থক হতে পারে। কিন্তু দলের কোনও পদে নেই। 

Advertisement

এদিন এলাকায় গিয়ে যায়, গ্রামজুড়ে একাধিক জায়গায় পুলিস পিকট বসানো হয়েছে। রামপুরহাট, মল্লারপুর ও ময়ূরেশ্বর থানার পুলিস অফিসার ও কর্মীদের সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থল ঘিরে দেওয়া হয়েছে। মৃতের দ্বিতল বাড়ির সামনে প্রচুর মানুষের ভিড়। বাসিন্দারা জানান, ২০০৯ সাল থেকে তৃণমূল দল করে আসছিলেন বাইতুল্লা। ক্রমেই এলাকায় দাপুটে নেতা হয়ে ওঠেন তিনি। ২০১৮ সালে ময়ূরেশ্বর ১ পঞ্চায়েত সমিতির নির্বাচনে তিনি জয়ী হয়ে মৎস ও প্রাণী সম্পদ কর্মাধ্যক্ষ হন। ২০২৩ সালের নির্বাচনে আসনটি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হওয়ায় তাঁর স্ত্রী সাকিলা বিবি প্রার্থী হয়ে জয়ী হন। তিনিও বর্তমানে মৎস ও প্রাণী সম্পদ কর্মাধ্যক্ষ। ওই বছরই এই গ্রাম থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়ে বড়তুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হন বাইতুল্লার ভাইয়ের স্ত্রী গাজুলি খাতুন। তিনি বলেন, এর আগেও তিন-চারবার ভাসুরকে মেরে ফেলার ছক কষেছিল নঈম, সাগর সহ কয়েকজন। তারা বিজেপি করে। রাজনীতিতে ভাসুরকে পেরে উঠতে পারছিল না। তাই ভাসুরকে মেরে দিতে পারলে ওরা বিজেপিকে নিয়ে আসতে পারবে, সে কারণেই এই খুন। 
মৃতের নাবালক ছেলে হাবিব শেখ বলেন, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বাবাকে মেরে ফেলতে সাগর, নঈমরা বোমা মজুত করেছিল। বাবাকে হুমকিও দিয়েছিল। আগাম জানতে পেরে বাবা বাড়ি থেকে বের হচ্ছিল না। তখন বেঁচে যায়। এবার তারাই বাবাকে মেরে ফেলল। ওরা এখন বিজেপি ও সিপিএম করে। 
বাইতুল্লার সংসার বলতে নাবালক দুই মেয়ে ও এক ছেলে। তাদের জড়িয়ে ধরে এদিনও কান্নাকাটি করছিলেন স্ত্রী সাকিলা বিবি। তিনি বলেন, সাগর, নঈম, রতন, নাসিম, বসির, অসীম, নুরেল সহ কয়েকজন মিলে আমার স্বামীকে বোমা মেরে খুন করল। ওরা কখনও সিপিএম, কখনও বিজেপি করে। স্বামীর নেতৃত্বে তিন ইলেকশন থেকে এই গ্রামে জিতে আসছে তৃণমূল। ওরা ভোটে দাঁড়াবে, জিতবে এই আশায় স্বামীকে মেরে দিল। আমি ওদের ফাঁসি চাই। 
মৃতের মা রূপসুন বিবি বলেন, ছেলেকে সবাই ভালেবাসত। অনেকের বিচার করে দিত। কোনও ঝামেলায় যেত না। ওরা বিজেপি করে। 
যদিও বিজেপির বীরভূম জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, বিশিয়া গ্রামে আমাদের কোনও সংগঠন নেই। নির্বাচনে ক’টা ভোট পেয়েছি, সেটা দেখলেই বোঝা যাবে। যেখানে বিজেপি নেই, সেখানে কেন আমাদের জড়ানো হচ্ছে বুঝতে পারছি না। আসল কারণ ওদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। বালির ঘাট, ভাগ বাটোয়ারা, জায়গা জমি দখল নিয়ে গণ্ডগোল। তার জেরেই ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। পুলিস সঠিক তদন্ত করুক। সিপিএম নেতা অরূপ বাগ বলেন, বাইতুল্লা এতটাই ক্ষমতাধর ছিলেন যে, পঞ্চায়েত এবং সমিতি দুটোই চালাচ্ছিলেন। ওদের দলের অন্যান্য কর্মীরা সেভাবে গুরুত্ব পাচ্ছিলেন না। সেই আক্রোশেই এই খুন। এখানে সিপিএমের বিন্দুমাত্র যোগ নেই। পুলিস সঠিক পথে তদন্ত করে সব পরিস্কার হয়ে যাবে।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ