নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বরাকরে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী বেবি বাউরি ও তাঁর ভাই অমরদীপ বাউরিকে গ্রেফতার করল পুলিস। বুধবার প্রাক্তন বরো চেয়ারম্যান ও তাঁর ভাইকে আসানসোল আদালতে তোলা হলে বিচারক সাতদিন পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। সোমবার গভীর রাতে বেবির বাড়ির পিছনেই রক্তাক্ত অবস্থায় এলাকার যুবক কার্তিক বাউরিকে উদ্ধার করা হয়। তাঁকে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। এরপরই এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বেবি ও তাঁর পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তোলে মৃতের পরিবার। খুনের মামলা রুজু করে তৃণমূল নেত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কোটি টাকা লটারি জেতার সঙ্গে মৃত্যুর কোনও সম্পর্ক রয়েছে কিনা তদন্ত করছে পুলিস।
ডিসি অরবিন্দ আনন্দ বলেন, মৃতের পরিবার খুনের অভিযোগ করেছে। প্রাথমিক তদন্ত করে অভিযোগের ভিত্তিতে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
সোমবার গভীর রাতে কুলটি থানার বরাকরের লখিয়াবাদ এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাতে বেবি বাউরির বাড়ির পিছনের দিকের দরজার সামনে কার্তিককে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সেখানে রক্ত দেখা যায়। যুবককে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার সকাল থেকেই বেবি বাউরির বাড়ির সমানে অনেকে জমায়েত হন। অনেকেই অভিযোগ করেন, বেবির পরিবারের একজনই তাঁকে রাতে ফোন করে ডাকে। তারপরই বাড়িতে ঢুকিয়ে খুন করা হয়েছে। বেবি জানিয়েছিলেন, গভীর রাতে বাড়ির পিছনের দিকে ঢুকেছিল কার্তিক। চোর চোর বলে বাড়ির লোকজন চিৎকার করতেই ঝাঁপিয়ে পালাতে গিয়ে পড়ে যায়। মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিস অভিযুক্তদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। কথায় অসঙ্গতি পেতেই পুলিশ দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের পরই এলাকা কিছুটা শান্ত হয়। মঙ্গলবার মৃতের দেহ ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। রাতেই কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় তার সৎকার হয়েছে।
মৃত কার্তিক কয়েক মাস আগে এক কোটি টাকার লটারি পেয়েছিলেন। বরাকরের একটি দোকানের ওই কর্মচারী এত টাকা পাওয়ায় রাতারাতি তাঁর আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হয়। তাহলে খুনের পিছনে কি আর্থিক কোনও কারণ রয়েছে? পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে তেমন কোনও ইঙ্গিত মেলেনি। সম্পর্কের টানাপোড়েনে খুন হতে পারে বলে স্থানীয় সূত্রে উঠে এলেও পুলিশের দাবি, এখনও সেব্যাপারে কোনও প্রমাণ মেলেনি।
এই ঘটনা নিয়ে সোচ্চার হয়েছে বিজেপি। আসানসোল সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সাধারণ সম্পাদক কেশব পোদ্দার বলেন, ওঁর টাকার প্রতি অনেকের লোভ ছিল। সেকারণে তৃণমূল নেত্রীর পরিবার তাঁকে পরিকল্পনামাফিক খুন করে থাকতে পারে। আমরা চাই ঘটনার প্রকৃত দোষীদের শাস্তি হোক। না হলে বৃহত্তর আন্দোলন হবে। তৃণমূলের ব্লক সভাপতি কাঞ্চন রায় বলেন, পুলিশ তদন্ত করছে। এই ঘটনার সঙ্গে দলীয় কোনও যোগ নেই। আমরা এনিয়ে কোনও হস্তক্ষেপ করব না। নিজস্ব চিত্র