Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চূর্ণির চর চুরি, বিজেপি নেতার বাড়ি নির্মাণে ঠিকাদার তৃণমূল নেতা! সরগরম রানাঘাটের রামনগ

দখলদারদের গ্রাসে এখন প্রায় বিলুপ্ত রবি ঠাকুরের অঞ্জনা। এবার সেই পথেই ঐতিহাসিক চূর্ণি নদীও।

চূর্ণির চর চুরি, বিজেপি নেতার বাড়ি নির্মাণে ঠিকাদার তৃণমূল নেতা! সরগরম রানাঘাটের রামনগ
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

দীপন ঘোষাল, রানাঘাট: দখলদারদের গ্রাসে এখন প্রায় বিলুপ্ত রবি ঠাকুরের অঞ্জনা। এবার সেই পথেই ঐতিহাসিক চূর্ণি নদীও। ক্ষমতার আস্ফালনে চূর্ণিকে কার্যত ‘নিজের সম্পত্তি’ বলে দাবি করে রীতিমতো মাটি ফেলে পাঁচিল দিয়ে দখল করছেন বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী। আর সেই বাড়ি নির্মাণে ঠিকাদার স্থানীয় তৃণমূল নেতা! ঘটনাটি সামনে আসতেই সরগরম রানাঘাট-১ ব্লকের রামনগর এলাকা। জেলাশাসক তদন্তের আশ্বাস দিলেও দখলদারের বিরুদ্ধে আদৌ কি ব্যবস্থা নিতে পারবে প্রশাসন? প্রশ্ন সাধারণ মানুষের। 

Advertisement

কথিত, একদা কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় খনন করিয়েছিলেন অঞ্জনা নদী। উদ্দেশ্য ছিল, চূর্ণি আর জলঙ্গিকে যুক্ত করা। সেই অঞ্জনার বেশির ভাগ অংশই এখন দখলদারদের কব্জায়। এবার সেই পথে এগচ্ছে নদীয়ার আরও এক ঐতিহাসিক নদী চূর্ণি। ঘটনাস্থল, রামনগর ১ পঞ্চায়েতের বণিকপাড়া। চূর্ণি নদীর পাড়ে বাড়ি বানাচ্ছেন স্থানীয় বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্যার স্বামী সুবীর ঘোষ। নদীপাড়ে কেবল বাড়ি বানিয়েই ক্ষান্ত হননি তিনি। অভিযোগ, নদীর জায়গা দখল করে পাঁচিল দিয়ে মাটি ফেলে ভরাটও করাচ্ছেন। সেই নির্মাণ হচ্ছে প্রায় জলস্তর ছুঁই ছুঁই পর্যন্ত। তাৎপর্যপূর্ণভাবে সেই বাড়ি তৈরির ঠিকাদার আবার স্থানীয় তৃণমূল নেতা। শেষ পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটের জেলা পরিষদের প্রার্থী ছিলেন তিনি। অর্থাৎ, শাসকদলের বদান্যতায় দিনের আলোয় প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে চূর্ণি দখল চলছে। অথচ, প্রশাসন চুপ! বিষয়টি নিয়ে নির্মাতা সুবীর অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি নদীর জায়গা দখল করেননি। বরং তিনি নদীকে বাঁচাচ্ছেন। তাঁর কথায়, ‘আমার বাড়িকে গার্ড দেওয়ার জন্য একটা ব্যবস্থা করছি। আমার জায়গা থেকে কিছুটা দূরে অবশ্য গাঁথনি হয়েছে। সেটা আমি বলিনি, ঠিকাদার নিজের দ্বায়িত্বে করেছেন। কী বলছেন ঠিকাদার তথা তৃণমূল নেতা সৌভিক ঘোষ? তিনি বলেন, ‘চূর্ণি নদীর যে অংশ পর্যন্ত পাঁচিল দেওয়া হয়েছে, তার ঠিকা আমি নিইনি। আমার মিস্ত্রিরা নিজেরাই নদীর জায়গা পর্যন্ত নেমে গিয়ে গাঁথনি করেছেন।’
বণিক পাড়ার বাসিন্দাদের প্রশ্ন, যত দোষ মিস্ত্রিদের উপর চাপিয়ে কি দায় এড়াতে পারেন তৃণমূল ও বিজেপি নেতারা? প্রশাসনই বা কেন হস্তক্ষেপ করছে না? তাঁরা চাইছেন বেআইনি অংশ ভেঙে দিয়ে নদীর জমি উদ্ধার করা হোক। রামনগর-১ পঞ্চায়েতের প্রধান তৃণমূলের তাপসী আঢ্য বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’ রানাঘাট-১ ব্লকের বিডিও জয়দেব মন্ডল বলেন, ‘আমাদের নির্মাণ সহায়ক এবং সেচ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারকে যৌথভাবে পরিদর্শন করে তদন্তের কথা বলা হয়েছে। নদীর জায়গা দখল হলে নির্মাণ ভেঙে উদ্ধার করা হবে।’ 
এ প্রসঙ্গে নদীয়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিচ্ছি।’  ছবি: অভি ঘোষ

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ