নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বাড়িতেই চলত জুয়ার আসর। এই অভিযোগে বহরমপুরে গ্রেপ্তার হলেন তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি। জুয়ার বোর্ড থেকে উদ্ধার হয়েছে দু’লক্ষ টাকা। ধৃত বলাই দত্ত বহরমপুরের মণীন্দ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য। একুশে জুলাই অনুগামী নেতা-কর্মীদের শহিদ সমাবেশে কলকাতায় পাঠিয়ে নিজেই বাড়িতে জুয়ার আসর বসিয়েছিলেন। অভিযোগ, বানজেটিয়ায় তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতির বাড়িতে প্রায়ই জুয়ার আসর বসত। খবর পেয়ে সোমবার সন্ধ্যায় সেখানে হানা দেয় বহরমপুর থানার পুলিস। হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে তৃণমূল নেতা সহ আটজনকে। পুলিস মঙ্গলবার ধৃতদের মুর্শিদাবাদ জেলা আদালতে পেশ করলে বিচারক ১৪দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
মুর্শিদাবাদের পুলিস সুপার কুমার সানিরাজ বলেন, জুয়া এবং সাট্টার বিরুদ্ধে আমাদের লাগাতার অভিযান চলছে। আমরা কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। কোথাও এই ধরনের অসামাজিক কাজকর্ম আমরা কিছুতেই বরদাস্ত করব না।
বহরমপুরের মণীন্দ্রনগর অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি বলাই দত্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ, কর্মী-সমর্থকদের গাড়ি ভাড়া করে ধর্মতলায় পাঠিয়ে বানজেটিয়ায় নিজস্ব বাসভবনে জুয়ার আসর বসিয়েছিলেন তিনি। তবে, বলাইয়ের এই কীর্তির পর স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের কেউই মুখ খোলেননি। বলাইকে পুলিসের হাত থেকে ছাড়ানোর জন্য স্থানীয় এক ব্যক্তি একজন প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাকে ফোন করেন। ফোনে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ২১ জুলাই কলকাতায় না এসে, বাড়িতে জুয়া খেলছিল কেন? ওর শাস্তি হওয়াই প্রয়োজন।
তবে শুধু সোমবারেই নয়, বলাই নিয়মিতভাবে নিজের বাড়িতে জুয়ার আসর বসান বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। এই বিষয়ে গ্রামবাসীরা মাঝেমধ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেও তৃণমূল নেতা হওয়ায় বলাইয়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস দেখাননি কেউই। তবে এদিন বলাই সহ অন্যান্যদের গ্রেপ্তার করায় খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা। দূর-দূরান্ত থেকে বাইকে করে যুবকরা বলাইয়ের বাড়িতে আসত জুয়া খেলার জন্য। সোমবার সন্ধ্যা থেকে চলছিল জুয়ার আসর। রাতে পুলিস যেতেই পালানোর পথ খুঁজে পায়নি তারা। তবে বলাই পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু, পুলিস ধাওয়া করে তাকে পাকড়াও করে থানায় নিয়ে আসে। বলাইয়ের বাড়ির বিভিন্ন জায়গা তল্লাশি করে পুলিস বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার করেছে। এমনকী, বাড়ির শৌচাগার থেকেও পুলিস ৫০ হাজার টাকা বাজেয়াপ্ত করে।
নিয়মিত জুয়ার আসর বসানোয় ওই তৃণমূল নেতার উপর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে যথেষ্ট ক্ষোভ ছিল। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, অঞ্চল সভাপতি হিসেবে এলাকায় বলাই দত্তের যথেষ্ট প্রতিপত্তি রয়েছে। তার বাড়ি প্রতিদিনই চেনা অচেনা মানুষের আনাগোনা লেগে থাকত। শোনা যায়, নিয়মিতভাবেই তার বাড়ি প্রতিদিন জুয়ার আসর বসে। লাখ লাখ টাকার লেনদেন চলে। কিন্তু, তৃণমূলের নেতা হওয়ায় আমরা কেউই কোনওদিন প্রতিবাদ জানাতে পারিনি। তবে, এবার পুলিস ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়াই আমরা খুশি।