শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: তমলুক সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুজিত রায় ২২লক্ষ টাকার ঋণখেলাপি। ২০১৭সালে পাঁশকুড়া ব্লকের গোবিন্দনগর পঞ্চায়েতের অধীন ধনঞ্জয়পুর সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি থেকে ১৫লক্ষ টাকা লোন নিয়েছিলেন সুজিতবাবু। তাঁর স্ত্রী প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা। দীঘায় হোটেল করার জন্য ওই লোন নিয়েছিলেন। তাঁর স্ত্রী গ্যারেন্টার। মাত্র একটি কিস্তি দেওয়ার পর সমিতির অফিসের ধারেকাছে যাননি সুজিতবাবু। দীঘায় আদৌ হোটেল হয়েছে কি না, এনিয়ে সমিতির কাছে কোনও খবর নেই। এদিকে, প্রান্তিক ওই সমবায়ে একজনেরই ২২লক্ষ টাকা এনপিএ বা নন পারফর্মিং অ্যাসেট হয়ে যাওয়ায় সমিতির পরিচালন কমিটি মাদার ব্যাঙ্ক অর্থাৎ তমলুক-ঘাটাল সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের তোপের মুখে পড়ছে। আগামী ৮ডিসেম্বর পাঁশকুড়ার সবকটি সমবায় সমিতি নিয়ে মিটিং করবে ওই সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের পাঁশকুড়া শাখা। সেখানে আবারও বিপুল অঙ্কের এনপিএ হওয়ার কারণে ধনঞ্জয়পুর সমবায় সমিতির কর্মকর্তারা বকাঝকা খাওয়ার আশঙ্কা করছেন।
ওই সমিতির ম্যানেজার অনন্ত মণ্ডল বলেন, সুজিতবাবুর বকেয়ার পরিমাণ ২২লক্ষ টাকা। আমরা সেই টাকা উদ্ধারের জন্য বেশ কয়েকবার নোটিশ দিয়েছি। পুজোর সময় শেষবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকবার তাঁর বাড়িতে আমরা গিয়েছি। তাতে তিনি অসন্তুষ্ট হন। এই এনপিএ অ্যাসেট নিয়ে আমরা খুব চাপে আছি।
সুজিতবাবু ২০১১-’২১পর্যন্ত ব্লক যুব সভাপতি ছিলেন। ২০১৩-’১৮পর্যন্ত পাঁশকুড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি ছিলেন। পরে পাঁশকুড়া ব্লক তৃণমূল সভাপতি হন। এই মুহূর্তে তিনি দলের জেলা সভাপতি। পাশাপাশি পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি। তাঁর বাড়ি পাঁশকুড়ার মাইশোরা গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন মাংলই গ্রামে। ২০১৭সালে দীঘায় হোটেল করার নামে ধনঞ্জয়পুর সমবায় থেকে মোট ১৫লক্ষ টাকা লোন নেন। একটি কিস্তি মেটালেও পরবর্তীতে কোনও টাকা পেমেন্ট করেননি। ২০২১-’২২সালে তিনি ঋণখলাপি বলে পোস্টারও সাঁটিয়েছিল ওই সমিতি। তাতেও কাজ হয়নি। এপর্যন্ত বাড়িতে অনেকবার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু, কোনও কাজে আসেনি। মেচগ্রামে একটি ফ্ল্যাট কিনে বর্তমানে সেখানেই থাকেন সুজিতবাবু। মাংলই গ্রামের বাড়িতে বারবার গিয়ে তাঁর দেখা না পেয়ে ফিরে আসে সমবায় কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি ওই সমবায় সমিতির সম্পাদক নিমাই মাজি, ম্যানেজার অনন্ত মণ্ডল সহ কয়েকজন বকেয়া টাকা আদায়ের জন্য মেচগ্রামে তাঁর ফ্ল্যাটে পৌঁছে যান। তাঁদের দেখে বেশ অসন্তুষ্ট হন জেলা তৃণমূল সভাপতি। যদিও সুজিতবাবু এব্যাপারে বলেন, ধনঞ্জয়পুর সমবায় সমিতিতে আমার একটা লোন আছে। আমি সেই টাকা শোধ করে দেব।
সমবায়ের সেক্রেটারি নিমাই মাজি বলেন, সুজিতবাবু আমাদের সমবায়ের ঋণখেলাপি আছেন। আমরা তাঁর বাড়িতে কয়েকবার গিয়েছি। ধারাবাহিক নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তমলুক-ঘাটাল সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের পাঁশকুড়া শাখা থেকে এনিয়ে এনকোয়ারিও হয়েছে। আগামী ৮ডিসেম্বর পাঁশকুড়ায় সব সমিতি নিয়ে মিটিং আছে। সেখানেই এনপিএ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।