সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: তৃণমূল আমলে উদয়নারায়ণপুরে তাঁর কথাই ছিল শেষ কথা। তিনি ব্রহ্মানন্দ চক্রবর্তী, এলাকায় দাপুটে নেতা হিসাবেই পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, দুর্নীতি, মারধর, হুমকি, বাড়ি ভাঙচুর, নারী নির্যাতন— সব ধরনের মামলাই রয়েছে। আগের সরকারের পুলিশ সেসব অভিযোগের তদন্ত করেনি। এখন রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপির কর্মীরা ফের থানায় অভিযোগ জানালে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে কোমর বেঁধে নামে পুলিশ। তবে তাঁকে কেউ আর এলাকায় দেখতে পাচ্ছিলেন না। গা-ঢাকা দিয়েছিলেন তৃণমূলের এই নেতা। শেষমেশ উদয়নারায়ণপুরের এই ‘বাঘের’ দেখা মিলল আমতায় এক তন্তুজের শোরুমে। শনিবার বিকালে তাঁকে সেখানে দেখামাত্র বসন্তপুর এলাকার লোকজন আমতা থানায় খবর দিলে পুলিশ চলে আসে। কিন্তু ভোঁ-ভাঁ, কোথায় ব্রহ্মানন্দ! অবশেষে থরে থরে সাজানো শাড়ির বান্ডিলের একটি নড়ে উঠতেই সন্দেহ হয় পুলিশের। ওই শাড়ি সরাতেই দেখা যায়, ভিজে ‘বিড়ালের’ মতো গুটিসুঁটি মেরে শুয়ে রয়েছেন ব্রহ্মানন্দ।
রাজ্যে সরকার বদলের পর তৃণমূলের বহু নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিভিন্ন অভিযোগে। কেউ কেউ গ্রেপ্তারি এড়াতে আত্মগোপন পর্যন্ত করেছেন। তবে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে উদয়নারায়ণপুরের এই তৃণমূল নেতা শাড়ির বান্ডিলের নীচে লুকোবেন, এটা কেউ কল্পনা করতে পারেননি। সেই শাড়ির বান্ডিল সরিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আমতা থানার পুলিশ। পরে তাঁকে পেঁড়ো থানার হাতে তুলে দেওয়া হয়। রবিবার অভিযুক্তকে উলুবেড়িয়া আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতার এই কীর্তি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই হাসির রোল উঠেছে নেট দুনিয়ায়। উদয়নারায়ণপুরে বিজেপির ৫ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি অভিজিৎ চক্রবর্তী বলেন, ব্রহ্মানন্দের দাপটে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর অত্যাচারে ঘরছাড়া হয়েছেন অনেকে। পুলিশ এখন তাঁকে গ্রেপ্তার করায় এলাকায় শান্তি ফিরেছে। আমরা চাই, পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিক।
অন্যদিকে, এদিন বাগনানের বরুন্দায় স্থানীয় তৃণমূল নেতা দীপ সরকারের ঘনিষ্ঠ মাধব দলুইকে ব্যাপক মারধর করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে বাগনান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীপ সরকার এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা। মাধব তারই ডান হাত হওয়ায় এলাকায় তোলাবাজি ও দাদাগিরি করত সে। এদিন তারা মাধব দলুইয়ের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন। -নিজস্ব চিত্র