


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সোমবার রাত প্রায় সাড়ে ৮টা। চেতলা থানার কাছে ডিউটি করছিলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট নবীনকুমার সাউ। হেলমেটবিহীন বাইক চালকদের পাকড়াও করে জরিমানা করছিলেন। তখনই ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা সুমন বণিক। তাঁর মাথায়ও হেলমেট ছিল না। সার্জেন্ট তাঁকে আটকান। তারপর যা হল, তেমনটা দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেননি ওই সার্জেন্ট! আটকানোর চেষ্টা হলে সুমন একপ্রকার জোর করেই বাইক চালিয়ে দেন। সেই বাইক ওই ট্রাফিক সার্জেন্টকে প্রায় ১৫০ মিটার টেনে নিয়ে যায়। তাঁর হাত ও শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাত লাগে। জামাকাপড় ছিঁড়ে যায়। কোনোরকমে প্রাণে বাঁচেন তিনি। সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটে চেতলা থানা এলাকায়। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশকে খুনের চেষ্টা, কর্তব্যরত পুলিশকর্মীর কাজে বাধা দান সহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
কীভাবে এতটা রাস্তা ওই পুলিশকর্মীকে টেনে নেওয়া যাওয়া সম্ভব হল? জানা গিয়েছে, বাইকটি আটকানোর পর ওই সার্জেন্ট পিছনে থাকা হ্যান্ডেলটি পেঁচিয়ে ধরেছিলেন, যাতে চালক পালাতে না পারেন। প্রথমে দু’জনের মধ্যে জোর বচসা বাধে এনিয়ে। সুমন হেলমেট না পরার জন্য পুলিশকে জরিমানা দিতে অস্বীকার করেন। সেই সঙ্গে অশ্লীল মন্তব্য করে বাইকটি হঠাৎ চালিয়ে দেন বলে অভিযোগ। নবীনবাবু চিৎকার করলেও কর্ণপাত করেননি অভিযুক্ত। এলাকার বাসিন্দারাই জখম অবস্থায় ওই সার্জেন্টকে উদ্ধার করেন। ফোন করে থানায় খবর দিলে ছুটে আসেন অফিসাররা। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, নবীনবাবুর হাতে ভালোরকম আঘাত লেগেছে। শরীরের অন্যান্য জায়গায়ও অল্পবিস্তর চোট রয়েছে।
তদন্তে নেমে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। তবে সেই ফুটেজ থেকে বাইকের নম্বরপ্লেট বোঝা যাচ্ছিল না। তখন বাইকের রং ও মডেল নম্বর ধরে খোঁজ শুরু হয়। তখন বাইকের মালিকের সম্পর্কে জানা যায়। তাঁর বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। সেখান থেকেই রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পর বাইকটি সে অন্য এক জায়গায় চাদর চাপা দিয়ে লুকিয়ে রেখেছিল। রীতিমতো তল্লাশি চালিয়ে সেটি বাজেয়াপ্ত করতে হয় পুলিশকে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, অভিযুক্ত যুবক তৃণমূল করার সূত্রে এলাকায় দাদাগিরি করে বেড়ান দীর্ঘদিন। তৃণমূল আমলে পুলিশকে হুমকি দিয়েও পার পেয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তবে এবার যে ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাতে সহজে পার পাওয়া মুশকিল বলে মনে করছেন অনেকে।