নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ‘সিস্টেমে’র বাইরে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন ঠিকাদার। তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। রানিবাঁধ ব্লকের রাউতোড়া অঞ্চলের ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। রাউতোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে সৌরবিদ্যুৎ চালিত পথবাতি মেরামতের জন্য সম্প্রতি দরপত্র আহ্বান করা হয়। অন্যান্যদের সঙ্গে স্থানীয় ঠিকাদার শঙ্কর দাস অনলাইনে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন। অভিযোগ, রাউতোড়া অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি সুবোধ মাহাত তাঁকে টেন্ডার পেপার প্রত্যাহার করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। ঠিকাদার তাতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এব্যাপারে শঙ্করবাবু বারিকুল থানা ও রানিবাঁধ ব্লক প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। খাতড়ার মহকুমা শাসককেও তিনি অভিযোগের প্রতিলিপি পাঠিয়েছেন।
খাতড়া মহকুমা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের তরফেও অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূল পরিচালিত রাউতোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান উমা শীট বলেন, আমরা নিয়ম মেনে টেন্ডার করেছি। যে-কেউ তাতে অংশ নিতে পারে। সরকারি নির্দেশিকা মেনেই যাবতীয় কাজ হবে।
অভিযোগকারী ঠিকাদার বলেন, টেন্ডার পেপার জমা দেওয়ার পর থেকেই সুবোধ আমাকে হুমকি দিতে শুরু করেন। প্রথমে ফোনে টেন্ডার পেপার তুলে নেওয়ার জন্য তিনি নির্দেশ দেন। তা না শোনার ফলে অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি লোকজন নিয়ে এসে শাসিয়ে যান। তারপর থেকে রাস্তাঘাটে দেখা হলেই প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দিতে থাকেন। আমি আতঙ্কে রয়েছি। পুলিস ও প্রশাসনের কাছে সুবোধ ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছি।
অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি বলেন, আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে। কাজের গুণগত মান ঠিক রাখার জন্য আমাদের অঞ্চলে ‘সিস্টেম’ মেনে ঠিকাদাররা কাজ করে থাকেন। শঙ্করবাবু বেশি ছাড় দিয়ে দরপত্র জমা দিয়েছেন বলে শুনেছি। তাতে ভালো কাজ হবে না বলেই মনে করছি। সেই কারণে আমি শঙ্করবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি তখন আমাদের দলের ব্লক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের নাম করেন। তাঁরা তাঁকে টেন্ডার জমা দেওয়ার জন্য বলেছেন বলে শঙ্করবাবু দাবি করেন। ব্লকের নেতারা আমাদের অঞ্চলে একটি পেট্রল পাম্প উদ্বোধনে এলে বিষয়টি উত্থাপন করি। তখন ব্লক নেতারা বিষয়টি অস্বীকার করেন। ওই ঠিকাদার তখন নিজের দাবি থেকে সরে যান। যে কোনও ঠিকাদার অনলাইন টেন্ডারে অংশ নিতেই পারেন। তাতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই।