Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাথর খাদান ও উন্নয়নের কাজে তুলছে ‘কাটমানি’, শালতোড়ায় অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা

উন্নয়নমূলক কাজ থেকে শালতোড়ার পাথর খাদানে তোলা হচ্ছে ‘কাটমানি’। বাঁকুড়া জেলা তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ উঠছে।

পাথর খাদান ও উন্নয়নের কাজে তুলছে ‘কাটমানি’, শালতোড়ায় অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা
  • ২৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: উন্নয়নমূলক কাজ থেকে শালতোড়ার পাথর খাদানে তোলা হচ্ছে ‘কাটমানি’। বাঁকুড়া জেলা তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ উঠছে। ওই নেতার ভূমিকায় নিচুতলার তৃণমূল কর্মীদের পাশাপাশি জেলাস্তরের নেতৃত্বও ক্ষুব্ধ। ওই নেতার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই দলের রাজ্য নেতৃত্বের কাছে ভূরিভূরি অভিযোগ জমা পড়েছে। শাসক দলের সংগঠনের সঙ্গে জুড়ে থাকা একটি সমীক্ষক সংস্থার মাধ্যমে দলের সর্বভারতীয় এক নেতার কাছে এনিয়ে বিস্তারিত অভিযোগ জমা দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও এব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে বাঁকুড়া জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান বা মুখপাত্ররা কোনও মন্তব্য করতে চাননি। ওই নেতাও সংবাদমাধ্যম এড়িয়ে চলছেন।
তালডাংরা ব্লকের হাড়মাসড়া গ্রামের একটি পুকুর সংস্কার নিয়ে জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন স্থানীয় অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি সুজিত চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, পঞ্চদশ কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশনের সাড়ে ১৫ লক্ষ টাকার কাজে দলের এক শীর্ষ নেতা চার লক্ষ টাকার কাটমানি আগাম ঠিকাদারের কাছে নিয়েছেন। বিভিন্ন প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারের কাছ থেকে ১০-২৫ শতাংশ পর্যন্ত কাটমানি আদায় করা হচ্ছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে ওই নেতা কার্যত রাহাজানি শুরু করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে এলাকার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে যতদূর যাওয়া যায়, আমরা যাব।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাঁকুড়া জেলা তৃণমূলের এক নেতা বলেন, শুধুমাত্র সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্প নয়, শালতোড়া ব্লকের বেআইনি পাথর খাদান থেকেও তিনি টাকা নিচ্ছেন। বিহারীনাথ পাহাড়ের কাছে একটি রিসর্টে গিয়ে স্থানীয় এক মাতব্বরের মাধ্যমে তিনি অর্থ নেন। সেই খবর আমাদের কাছে আছে। সম্প্রতি দলের সঙ্গে যুক্ত একটি সংস্থার প্রতিনিধিরা আমাদের কাছে এসে অভিযুক্ত নেতার ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছেন। আমরা দলের কাছে রিপোর্ট পাঠাচ্ছি। ওই নেতার বিরুদ্ধে প্রতিদিনই কোনও না কোনও অভিযোগ দলের কাছে জমা পড়ছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার চূড়ান্ত অপব্যবহার করা হচ্ছে। এভাবে চলতে পারে না। দলকে ব্যবস্থা নিতেই হবে। তা না হলে বিধানসভা ভোটে বিপর্যয় কেউ আটকাতে পারবে না। 
উল্লেখ্য, বর্তমানে বাঁকুড়া জেলাজুড়ে ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের মাধ্যমে কয়েকশো কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। অধিকাংশ কাজ পঞ্চদশ কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশনের টাকায় রূপায়িত হচ্ছে। রাজ্য অর্থ কমিশন থেকেও টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ওই টাকায় পুকুর সংস্কার, রাস্তা, কালভার্ট, মার্কেট কমপ্লেক্স, হলঘর প্রভৃতি নির্মাণ সহ অন্যান্য কাজ হচ্ছে। ওইসব কাজের উপরে ওই নেতার নজর পড়েছে। ঠিকাদারদের দলীয় কার্যালয়, কমিউনিটি হলে ডেকে পাঠিয়ে তিনি সরাসরি কাটমানি দাবি করছেন। কেউ অস্বীকার করলে হেনস্তা করা হচ্ছে। কপালে চড়-থাপ্পড়ও জুটছে। ঠিকাদাররাও ধোয়া তুলসীপাতা নন। তাঁদের বিরুদ্ধে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। ফলে দু’-একজন বাদ দিয়ে বেশিরভাগ ঠিকাদার ওই নেতার সঙ্গে রফা করে নিচ্ছেন। তারফলে কাজের মান আরও নেমে যাচ্ছে। যার ফল ভুগতে হচ্ছে বাঁকুড়াবাসীকে। এই ‘সিস্টেমের’ পরিবর্তন হওয়া জরুরি বলে শাসক দলের বুথ, অঞ্চল ও ব্লকস্তরের নেতাকর্মীরা সরব হয়েছেন। 
                   প্রতীকী ছবি

Advertisement

 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ