Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শালবনীতে গ্রামীণ চিকিৎসককে মারধর, অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা

মদ্যপ অবস্থায় দাদাগিরি! এক বৃদ্ধ গ্রামীণ চিকিৎসককে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের এক অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে।

শালবনীতে গ্রামীণ চিকিৎসককে মারধর, অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা
  • ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: মদ্যপ অবস্থায় দাদাগিরি! এক বৃদ্ধ গ্রামীণ চিকিৎসককে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের এক অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনী ব্লকের ১০ নম্বর কর্ণগড় অঞ্চলের ভাদুতলা এলাকায়। নিগ্রহের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই চিকিৎসক নিখিলকুমার ঘোষ। মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে তাঁর চিকিৎসা করানো হয়। এই ঘটনায় তৃণমূল নেতা কাঞ্চন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে শালবনী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই নেতা। তাঁর দাবি, তিনি মারধর করেননি, শুধুমাত্র ধমক দিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, ওই চিকিৎসক বিজেপি সমর্থক হওয়ায় তাঁকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে কাঞ্চনবাবুর পরিবারের এক সদস্যের শরীর খারাপ হয়। সেই সময় কাঞ্চনবাবুর দাদা চন্দন চক্রবর্তী নিখিলবাবুর চেম্বারে যান। তাঁকে বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা করার অনুরোধ করেন। নিখিলবাবু জানিয়ে দেন, করোনার সময় থেকে তিনি নিজেই অসুস্থ। তাই বাড়িতে গিয়ে রোগীকে দেখা সম্ভব নয়। তিনি রোগীকে চেম্বারে নিয়ে আসার অনুরোধ করেন। অভিযোগ, তা শুনে বাড়িতে যাওয়ার জন্য তাঁর চেম্বারে যান তৃণমূল নেতা কাঞ্চনবাবু। তাঁকেও চিকিৎসক একই কথা বলায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অভিযোগ, এরপরই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের পাশাপাশি নিখিলবাবুকে মারধর ও চেম্বার ভাঙচুর করা হয়। এই ঘটনায় তৃণমূল নেতার দাদা ও তাঁর ছেলেও যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ।

Advertisement


নিখিলবাবুর স্ত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দিতে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, এরপর নিখিলবাবুকে জোর করে রোগীকে দেখার জন্য বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে ওই চিকিৎসক দেখেন, একজন বৃদ্ধা রোগী প্রায় এক ঘণ্টা আগেই মারা গিয়েছেন। বিকেলে বাড়ি ফিরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওইদিন সন্ধ্যায় মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা করান। এরপর মঙ্গলবার সকালে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। শালবনী ব্লক তৃণমূলের সভাপতি জ্যোতিপ্রসাদ মাহাত বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ সত্য হলে অভিযুক্তকে ক্ষমা চাইতে বলা হবে। আমি কাঞ্চনের সঙ্গে কথা বলেছি। সে বলেছে, মারধর করেনি। শুধু ধমক দিয়েছে। বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি শঙ্কর গুছাইত বলেন, এভাবেই তৃণমূল নেতারা মানুষের উপর অত্যাচার করে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। আমরা সকলেই ওই চিকিৎসকের পাশে আছি। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে মারধরে জখম গ্রামীণ চিকিৎসককে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ