নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: এসআইআরে জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে বাঁকুড়া বিধানসভা এলাকায়। ওই বিধানসভা থেকেই সবচেয়ে বেশি ভোটার শুনানিতে ডাক পাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে নতুন ভোটারদের টার্গেট করছে তৃণমূল। সদ্য আঠারো উত্তীর্ণদের ভোটার তালিকায় নাম তুলতে শাসকদলের নেতা, কর্মীরা কার্যত উঠেপড়ে লেগেছেন। একজন প্রাপ্তবয়স্কও যাতে তালিকার বাইরে না থাকেন, সেই ব্যাপারে তৃণমূল নেতৃত্ব নিশ্চিত হতে চাইছে।
দলের তরফে এসআইআরের জন্য চালু বাংলার ভোট রক্ষা শিবিরে তৃণমূল নেতা, নেত্রীরা বাঁকুড়ায় নতুন ভোটারদের ফর্ম পূরণের ব্যবস্থা করেছেন। শনিবার শহরের নতুনচটিতে তৃণমূলের শিবিরে একঝাঁক যুবক, যুবতীকে দেখা যায়। তাঁদের জন্য তৃণমূল নেতৃত্ব কমিশনের পোর্টাল থেকে ছ’নম্বর ফর্ম ডাউনলোড করে রেখেছিলেন। এদিন বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারপার্সন তথা তৃণমূলের বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান অলকা সেন মজুমদার নতুন ভোটারদের ফর্ম পূরণের বিষয়টি নিজেই তদারকি করেন।
অলকাদেবী বলেন, কম সময়ের মধ্যে এসআইআর করে জেলাবাসীকে বিপাকে ফেলা হয়েছে। বাঁকুড়া বিধানসভা এলাকায় যাতে কোনও বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ না যায়, তা আমরা দেখছি। শুনানিতে ডাক পাওয়া ভোটারদের নথি জোগাড় করতে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেটাও দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সদ্য আঠারো উত্তীর্ণদের ভোটার তালিকায় নাম তোলানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দু’দিন আগে বাঁকুড়ায় এসে সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া এব্যাপারে আমাদের নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন। এদিন আমার নিজের ওয়ার্ড থেকেই এই কাজের উদ্যোগ শুরু হয়েছে।
শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অদিতি পাত্র, কণিষ্ক মহাপাত্ররা বলেন, উচ্চ মাধ্যমিক পাশের পর আমরা কেরিয়ার তৈরিতে মন দিয়েছি। পড়াশুনার পাশাপাশি ভোটার তালিকায় নাম তোলাও জরুরি। পঠন-পাঠনের জন্য ভিনরাজ্যে গেলে ভোটার কার্ড বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রয়োজন পড়ে। তাছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক হিসাবে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করাও তো জরুরি। কাজেই তালিকায় নাম ওঠা ও হাতে এপিক কার্ড পাওয়ার পর আরও ভালো লাগবে।
উল্লেখ্য, বাঁকুড়া বিধানসভায় এসআইআরে মোট ২২,৩৫৫ জনের নাম বাদ পড়েছে। শুনানিতে ডাক পেয়েছেন ৪,০৫৬ জন ভোটার। যা জেলার মধ্যে সর্বাধিক। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বও উদ্বিগ্ন। সেই কারণে নতুন ভোটারদের কাছে টানতে শাসকদল মরিয়া হয়ে উঠেছে।