রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: এসআইআরের কাজ শেষ হলেই ভোটের দিন ঘোষণা হতে পারে। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সেই জন্য এখন থেকেই চা বাগানের বুথগুলিতে লিড পেতে ময়দানে ঝাঁপাচ্ছে তৃণমূল চা শ্রমিক সংগঠনের পোড়খাওয়া নেতারা। শ্রমিক সংগঠনের ব্রাঞ্চ কমিটির একজন সদস্যকে বাগানের পাঁচটি করে বুথের দায়িত্ব বণ্টন করে দেবে তৃণমূল। ব্রাঞ্চ কমিটির সদস্যরা বাগানের পাঁচটি বুথে দলীয় সংগঠনের ভিতকে মজবুত করবেন। একেবারে ভোট পর্যন্ত তাঁরা বুথেই পড়ে থাকবেন। জনসংযোগ চালাবেন।
তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, চব্বিশের লোকসভায় শহরাঞ্চলে পিছিয়ে পড়লেও চা বাগানে ভোট বেড়েছে তৃণমূলের। ভোটে চা বাগানের বুথগুলিতে পদ্মফুলকে টেক্কা দিয়েছে ঘাসফুল। তাই চা বাগানের ভোট ধরে রাখতে এই নয়া কৌশল নিয়েছে শাসক দল। সেই কৌশল হিসাবেই ভোট পর্যন্ত পাঁচটি করে বুথে জনসংযোগের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে দলের শ্রমিক সংগঠনের ব্রাঞ্চ কমিটির দক্ষ কর্মীদের। তিনি বলেন, খুব শীঘ্রই বুথের দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হবে। শ্রমিক সংগঠনের ওই সদস্যদের ভোট পর্যন্ত বাগানের বুথগুলিতে জনসংযোগ চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংগঠন মজবুত করতেই এই সিদ্ধান্ত।
আলিপুরদুয়ার জেলার ছয়টি ব্লকে চা বাগানে মোট বুথের সংখ্যা ২৭৫টি। বুথের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি কালচিনি ব্লকে ১২০টি। তারপরেই রয়েছে মাদারিহাট। এই ব্লকের বাগানে বুথের সংখ্যা ৭৮টি। অন্যদিকে, আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকে ১১, আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকে ১০ ও কুমারগ্রাম ব্লকে চা বাগানের মোট বুথ সংখ্যা ১০টি।
প্রতিটি বাগানে তৃণমূলের চা শ্রমিক সংগঠনের ইউনিট কমিটি রয়েছে। ইউনিট কমিটির উপরে রয়েছে ব্রাঞ্চ কমিটি। এক একটি ব্রাঞ্চ কমিটিতে সদস্য সংখ্যা রয়েছে ৫০-৬০ জন। ব্রাঞ্চ কমিটির বাছাই করা এক একজন কর্মীকে এবার ভোট পর্যন্ত পাঁচটি করে বুথের দায়িত্ব দিচ্ছে শাসক দল। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, আসলে এই জনসংযোগের মাধ্যমে তৃণমূল ভোট পর্যন্ত কার্যত চা বাগানের বুথের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে। সেই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই তৃণমূলের এই নয়া সিদ্ধান্ত।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বাগানের ভোটের সুফল আসন্ন বিধানসভা ভোটে ধরে রাখতেও এই কৌশল নিয়েছে শাসক দল। তৃণমূল চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বীরেন্দ্র বড়া ওরাওঁ বলেন, আমাদের ব্রাঞ্চ কমিটিগুলিতে ৫০-৬০ জন করে সদস্য আছেন। ব্রাঞ্চ কমিটির বাছাই করা সদস্যদেরই বাগানের পাঁচটি বুথের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে ভোট পর্যন্ত জনসংযোগের জন্য।