Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দলত্যাগী পদ্মের দাপুটে নেতাকে নিয়ে ময়নার গোজিনায় মিছিল তৃণমূলের

ময়নায় চন্দন মণ্ডলকে স্বাগত জানিয়ে শনিবার গোজিনায় বিশাল মিছিল করল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন বিকেল ৪টে নাগাদ পেটুয়া মোড় থেকে মিছিল শুরু হয়।

দলত্যাগী পদ্মের দাপুটে নেতাকে নিয়ে ময়নার গোজিনায় মিছিল তৃণমূলের
  • ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ময়নায় চন্দন মণ্ডলকে স্বাগত জানিয়ে শনিবার গোজিনায় বিশাল মিছিল করল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন বিকেল ৪টে নাগাদ পেটুয়া মোড় থেকে মিছিল শুরু হয়। মিছিলের সামনের সারিতে চন্দনবাবু, জেলা তৃণমূলের চেয়ারপার্সন অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়, ব্লক সভাপতি মৃণালকান্তি সামন্ত, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শেখ শাজাহান আলি সহ ব্লকের নেতারা ছিলেন। ব্যান্ড বাজিয়ে সেই মিছিলে কয়েক হাজার তৃণমূল কর্মী-সমর্থক অংশ নেন। আড়াই কিলোমিটার রাস্তায় এই মিছিলে কয়েকশো বাইক এবং টোটো শামিল হয়েছিল। বিজেপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত বাকচা ও গোজিনার সংযোগকারী ওই রাস্তায় এতবড় মিছিল এর আগে আয়োজন করতে পারেনি তৃণমূল।

Advertisement

চন্দনবাবু দীর্ঘদিনের বিজেপির লড়াকু নেতা ছিলেন। তিনি গোজিনা পঞ্চায়েতে সংগঠনের মূল মাথা ছিলেন। এছাড়া, বাকচা অঞ্চলেও তাঁর অবাধ বিচরণ ছিল। ২০২১ সাল থেকেই এই দুই গ্রাম পঞ্চায়েতকে বিজেপি দুর্ভেদ্য করে রেখেছে। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস মোটেও সাংগঠনিকভাবে সুবিধা করতে পারছিল না। ২০২১ সালে বিধানসভা থেকে ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে ওই বাকচা এবং গোজিনা পঞ্চায়েতের ফলাফল গোটা ময়না বিধানসভার ফলে ব্যবধান গড়ে দেয়। বাকচার একচেটিয়া বুথে তৃণমূল পোলিং এজেন্ট বসাতে পারত না। কিন্তু, চন্দনবাবুর হাত ধরে গেরুয়া শিবিরের সেই দুর্ভেদ্য ঘাঁটিতে এবার চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত তৃণমূল।
যদিও বিজেপির ময়না-৩ মণ্ডল সভাপতি উত্তম মণ্ডল বলেন, বেশকিছু দিন ধরে চন্দনবাবু দলের সঙ্গে ছিলেন না। তৃণমূলের সঙ্গে গোপনে আঁতাত ছিল। কীসের লোভে শাসক দলে যোগ দিয়েছেন সেটাও আমরা সামনে আনব। ওর দলবদলে ময়নায় বিজেপিতে কোনও প্রভাব পড়বে না। গতবারের তুলনায় এবার বিজেপি ময়না বিধানসভা থেকে অনেক বেশি মার্জিনে জিতবে।
দলমত নির্বিশেষে চন্দনবাবুর জনসংযোগ বেশ ভালো। খেলাধুলো, পুজো পার্বণ, মন্দির তৈরি সহ যেকোনও সামাজিক কাজে তিনি অকাতরে দান করে একটা ‘সমাজসেবী’ ‌ই঩মেজ তৈরি করেছেন। এটাই বিজেপির কাছে ভয়ের কারণ। যোগদানের পর শনিবারের প্রথম মিছিলে যেভাবে উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছে তাতে বিজেপির চিন্তা বাড়বে। সবচেয়ে বড় কথা, ভোটে বাকচা এবং গোজিনায় বিজেপির সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার রসদ পেয়েছে তৃণমূল।   
এদিনের কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে চন্দনবাবু বলেন, আমার যোগদানে ময়নায় তৃণমূল কংগ্রেস অনেক শক্তিশালী হবে। এবার ভোটে ময়না বিধানসভা থেকে তৃণমূল ৩০ হাজার ব্যবধানে জয়ী হবে। ময়নায় বিজেপিকে শক্তিশালী করার নেপথ্যে আমার অবদান কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। ময়না থেকে আমিই প্রথম বিজেপির জেলা সম্পাদক হই। একটা সময় বিজেপি কর্মীরা দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য বেরতে চা‌ই঩তেন না। তাঁদের বাড়ি থেকে ডেকে এনে রাজনৈতিক কর্মসূচি নিতে হত। সেই জায়গা থেকে আমরা ২০২১ সালে এই বিধানসভায় জয়ী হই। অশোক দিন্ডা নিজের বুথে লিড পাননি। নিজের গ্রাম পঞ্চায়েতেও মাইনাস। আবেগ দিয়ে ভোট করিয়ে ওকে জয়ী করেছি। কিন্তু, তারপর যোগ্য সম্মান দেননি। এবার ভোটে প্রার্থী হলে চন্দন মণ্ডলের ক্ষমতা ভালোই টের পাবেন।  ময়নায় চন্দন মণ্ডল কে নিয়ে তৃণমূলের মিছিল। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ