নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: শ্রমিক বঞ্চনা ঠেকাতে ডিএসপির শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার ও শাসক দলের দুই সংসদ সদস্য কীর্তি আজাদ ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার দুর্গাপুর হাউসে এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে ডিএসপির একাধিক শ্রমিক বঞ্চনা তুলে ধরেন শাসক দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা। তাঁদের অভিযোগ শোনার জন্য ডিএসপির ইডি(এইচআর) সুস্মিতা রায় সহ একাধিক চিফ জেনারেল ম্যানেজার হাজির ছিলেন।
জানা গিয়েছে, বৈঠকে শাসক দলের পক্ষ থেকে ঠিকাশ্রমিকদের বায়োমেট্রিক হাজিরা নিশ্চিত করার ব্যাপারে জোর দেওয়া হয়। ডিএসপির বহু ঠিকা শ্রমিকেরই নিয়োগপত্র নেই। ফলে দুর্ঘটনায় কারখানার মধ্যে কেউ মারা গেলেও তাঁদের পরিবার প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন না। প্রিন্সিপ্যাল এমপ্লয়ার হিসাবে সেই দায় এড়িয়ে যেতে পারে না ডিএসপি কর্তৃপক্ষ। শাসক দলের প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ডিএসপির সব শ্রমিক এখনও পে স্লিপ পান না। যে কোনও কারখানায় কর্মরত শ্রমিকের পে স্লিপ পাওয়া নৈতিক অধিকার। যে পরিমাণ শ্রমিকদের মজুরি পাওয়ার কথা সেই টাকা না দেওয়ার জন্যই পে স্লিপ দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ।
প্রসঙ্গত, গত বছরই দুর্গাপুরের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, পে স্লিপ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তারপরও তা হয়নি বলে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের অভিযোগ। এছাড়াও কর্মীদের পিএফ থেকেও বঞ্চনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। তাঁরা অনুরোধ করেন, কর্তৃপক্ষ যেন প্রতিটি ঠিকাদারকে শ্রমিকদের পিএফ থেকে বঞ্চিত না করার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানান। তাঁদের অভিযোগ, বায়োমেট্রিক হাজিরা না থাকায় গেটপাসে কারচুপি করা হয়। একজন শ্রমিক ২৬ দিন কাজ করলেও পিএফ জমা করা হয় ১৩ দিনের।
এদিন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দেন, কোনও ভাবেই শ্রমিক নিয়োগে তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন হস্তক্ষেপ করবে না। নিয়োগ হোক স্বচ্ছতার সঙ্গে। তবে স্থানীয় যোগ্যরা যেন চাকরি পায়। এদিন সাংসদ তথা আইএনটিটিইউসির রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বেশকিছু ঠিকাদার দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের পিএফ জমা করছেন না। শাসক দলের কিছু নেতার মদতে তাঁরা এই কাজ করছেন। আমরা জানিয়েছি, শ্রমিকরা তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন। যে নেতা মদত দিয়েছে তার দায় আমরা নেব না। তিনি বলেন, আইএনটিটিইউসির কিছু নেতা এখনও বায়োমেট্রিক হাজিরা চালু করতে বাধা দিচ্ছেন। আমরা চ্যালেঞ্জ করছি, ১০০ শতাংশ বায়োমেট্রিক হাজিরা চালু করা হবে। কারণ এই নির্দেশ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।