নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: ভূতুড়ে ভোটার চিহ্নিত করতে কোর কমিটি গঠন সম্পূর্ণ করল রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল। কমিটির সদস্য সংখ্যা ৫৩। এছাড়াও তৈরি হচ্ছে ব্লক এবং টাউন মনিটরিং কমিটি।
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: ভূতুড়ে ভোটার চিহ্নিত করতে কোর কমিটি গঠন সম্পূর্ণ করল রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল। কমিটির সদস্য সংখ্যা ৫৩। এছাড়াও তৈরি হচ্ছে ব্লক এবং টাউন মনিটরিং কমিটি।
রাজ্যে রাজ্যে বিজেপির জয়যাত্রার নেপথ্যে ভোটার তালিকায় কারচুপি রয়েছে বলে আগেই সরব হয়েছিল তৃণমূল। পশ্চিমবঙ্গে সেই কারচুপি রুখতে দলের কর্মীদের ভোটার তালিকা স্ক্রুটিনির কাজে নামিয়ে দিয়েছে তৃণমূল। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণার পর দলের বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের সঙ্গে ১৫ মার্চ ভার্চুয়াল বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকার স্ক্রুটিনির জন্য পৃথক কমিটি তৈরির নির্দেশ দেন তিনি। এরপরই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কোর কমিটি তৈরি শুরু করে রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল। শাসক দল সূত্রের খবর, ৫৩ সদস্যের কোর কমিটিতে রয়েছেন, ব্লক, টাউনের সভাপতিরা, বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিরা, বিভিন্ন শাখা সংগঠনের সভাপতি, পুর চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদের সভাধিপতি, সহকারী সভাধিপতি প্রমুখরা। এছাড়াও ১ এপ্রিলের মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় অঞ্চল ভিত্তিক এবং শহর এলাকায় ওয়ার্ড ভিত্তিক আলাদা কমিটি তৈরি হবে। প্রতিটি কমিটির জন্য আলাদা আলাদা সুপারভাইজার নিযুক্ত করা হবে। যার ছাড়পত্র দেবে জেলা নেতৃত্ব। এছাড়াও ডিস্ট্রিক্ট লেভেল এজেন্ট বা বিএলএ ১ এবং বুথ লেভেল এজেন্ট বা বিএলএ ২ তৈরি করা হবে। এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে ট্রেনিং দিয়ে তাঁদের ফিল্ডে নামিয়ে দেওয়া হবে। এলাকার অলিগলি ঘুরে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের কাজ করবে সেই দল। এরমধ্যে জেলায় বিএলএ ১ থাকবেন একজনই। যিনি জেলাস্তর থেকে গোটা বিষয়ে মনিটরিং করবেন। ঘাসফুল শিবির সূত্রের খবর, পাঁচজনের নাম মনোনয়ন করে ইতিমধ্যেই রাজ্যস্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে ছাড়পত্রের জন্য। উচ্চ নেতৃত্বের তরফে সবুজের সংকেত মিললেই নাম ঘোষণা করে দেওয়া হবে। তবে বিএলএ ২ থাকছেন প্রায় আড়াই হাজারের কাছাকাছি। কারণ রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা, অর্থাৎ নদীয়া দক্ষিণে প্রায় আড়াই হাজারের কাছাকাছি বুথ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রানাঘাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, আমরা এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কমিটিগুলি তৈরির কাজ করছি। আপাতত এই কাজকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভোটার তালিকার কাজ ব্লকস্তর থেকে জেলাস্তর পর্যন্ত কারা কীভাবে করবেন, তার রূপরেখা তৈরি হয়ে গিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে দলের তরফেই। মোটামুটি এপ্রিল মাস থেকে ভোটার তালিকা স্ক্রুটিনির কাজে নিযুক্ত কমিটি পুরোদমে ঝাঁপাবে।